TRENDS

ধুপগুড়ির দুর্ঘটনার স্মৃতি উস্কে জাতীয় সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা! আগুনে ঝলসে কন্টেনার চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু

Chandramani Saha

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, কন্টেনার ও তেলের ট্যাঙ্কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে; তেলের টাঙ্কারে বিধংসী আগুন, আগুনে ঝলসে কন্টেনার চালকের মৃত্যু। ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার ভোররাতে কালিঝোরার কালি খোলা ব্রিজের কাছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। এদিনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন এতটাই বিধ্বংসী রূপ নেয় যে দমকলও তা নেভাতে পারেনি। পরে এদিন সকাল ৭টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ট্যাঙ্কারে থাকা সম্পূর্ণ তেলই ঘটনায় জ্বলে গিয়েছে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে কন্টেনার চালকের। তবে ঠিক কী কারণে সংঘর্ষটি ঘটল তা এখনও জানা যায়নি। গোটা ঘটনার পূর্ণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার ফলে রাত থেকে সেই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে ধূপগুড়ি-শিলিগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের জলঢাকা লাগোয়া এলাকাতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি তেলের ট্যাঙ্কার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুয়াশার কারণে দৃশ্যমান্যতা কম থাকায় জাতীয় সড়কে একটি লরি আচমকা ব্রেক কষতেই পেছনে থাকা সেই তেলের ট্যাঙ্কার ধাক্কা মারে। তবে ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। ট্যাংকারে তেল ভর্তি ছিল বলে প্রথমে খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ খতিয়ে দেখে জানায়, বারবিশা থেকে খালি ট্যাংকার শিলিগুড়ির দিকে যাচ্ছিল। জলঢাকা এলাকায় ট্যাংকারটি একটি লরির পেছনে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থল থেকে লরিটির চালক লরি নিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায় যান চলাচল।

উল্লেখ্য, ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। জলঢাকা ব্রিজের কাছে পাথর বোঝাই ডাম্পারে চাপা পড়ে ৩ শিশু-সহ মৃত্যু হয় ১৪ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ৯ জন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থা খারাপ হওয়ায় কয়েকজনকে ভর্তি করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐদিন ৩টি গাড়িতে করে সকলে ধূপগুড়িতে বিয়েবাড়ীতে যাচ্ছিলেন। বৌভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তারা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উল্টোদিকের লেন ধরে যাচ্ছিল ৩টি গাড়ি। সঠিক লেন ধরে আসা ডাম্পারের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ায়, সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২টি গাড়ির উপর উল্টে পড়ে। চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কয়েকজনের। টানা দুঘন্টা তারা সেভাবেই পড়েছিল। ঘণ্টাদুয়েক পাথরের স্তূপে চাপা পড়ে থাকার, পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি গাড়ির চালককে। পরে পুলিশ ও দমকল এসে বাকিদের উদ্ধার করে। ট্রাক চালকের খোঁজ চলছে।

জানা যায়, প্রতিদিনই শয়ে শয়ে ওভারলোডিং বালি পাথর বোঝাই ডাম্পার এই রাস্তায় চলে। এমনকি এর আগেও বেশ কয়েকটি ওভারলোডিং ডাম্পার দূর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এদিন রাত প্রায় নয়টা নাগাদ জলঢাকা ময়নাতলি সংলগ্ন একটি পেট্রলপাম্প এলাকায় একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার উল্টে যায়। এই সময় পিছনে থাকা আরো একটি ছোট গাড়ি ধাক্কা মারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ডাম্পারটি একটি ছোট অল্টো এবং মারুতি গাড়ির উপরে উল্টে পড়ে। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বৃহস্পতিবার রাতে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join