TRENDS

অমিতের বঙ্গ সফরের আগে মমতার ছবি হাতে নিয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা রাজীবের! আগামীকালই স্পষ্ট করবেন অবস্থান

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী:শুক্রবার রাতেই বঙ্গ সফরে আসছেন অমিত শাহ, তার আগেই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রীর। আজই ছাড়তে পারেন দলেন সদস্যপদও। তবে বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার হাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। যা রাজনৈতিক আঙিনায় একপ্রকার বিরল দৃশ্য।

গত সপ্তাহে ২২ শে জানুয়ারি রাজ্যের মন্ত্রিত্ব পদ ছেড়েছিলেন। আর সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই বিধায়ক পদও ছেড়ে দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে বসেই লিখলেন পদত্যাগ পত্র। আর বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার হাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি।

বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আমি অধ্যক্ষ মহাশয়কে ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছি, উনি প্রশ্ন করেছিলেন তার উত্তর দিয়েছে। উনি নিয়ম মেনে সব কাজ হবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এখনও দলের সদস্য পদ ছাড়িনি। তবে ৩১ তারিখ অমিতের শাহী সভায় যোগ দেওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনই কিছু বলব না, যা বলার কাল বলব। আর আপনারা আমার ফেসবুক পেজ থেকেই সব জানতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আমি মানুষের পাশেই থাকব। ডোমজুড়ের সকল বাসিন্দাদের পাশে থাকব। আমি মনে করি মানুষের পাশে থেকে কিছু করতে গেলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকেই করতে হয়।‘ তবে পদ্ম শিবিরে যোগদানের কথা তিনি স্পষ্ট করেন না।

পাশাপাশি তিনি ডোমজুড়ের সকলকে ধন্যবাদ জানান, সংবাদ মাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানান। সেই সাথেই মুখ্যমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান রাজীব বাবু। দলনেত্রী তার কাছে মাদার ফিগার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রী ছবি তার সাথে সবসময় থাকবে বলেও এদিন জানিয়ে দিলেন রাজীব।

চলতি মাসের ২২ তারিখ বনমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানান ইস্তফার কথা। এরপর রাজভবনের উদ্দেশ্যে পা বাড়ান রাজীব। রাজ্যপালকেও চিঠির প্রতিলিপি তুলে দেন তিনি। শুভেন্দু দলত্যাগের পর থেকেই একাধিকবার দল বিরোধী সুর শোনা গিয়েছিল , ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বহুবার। দলে থেকে কাজ না করতে পারার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। ১৬ই জানুয়ারি ফেসবুক লাইভে এসেও ক্ষোভ উগরে দেন সদ্য প্রান্তন মন্ত্রী। তারপরেই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা। সেদিন রাজভবনে ইস্তফা পত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের তাঁর মনের কথা বলতে গিয়েই তিনি কেঁদে ফেলেন। তাঁর কথায়, “আমি কখনও ভাবিনি জীবনে এই দিন আসবে। খুব কষ্ট হচ্ছে।” আরও বলেন, “আমার জীবনে কারও অবদান থাকলে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতি আজীবন শ্রদ্ধাশীল থাকব।”আর আজও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যের ছবি হাতে নিয়েই বেরিয়ে এলেন তিনি।এবার আগামীকাল রাজীব বাবু কী বার্তা দিতে চলেছেন, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join