TRENDS

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কুতসিৎ আক্রমন শিল্পী কার্ত্তিক দাস বাউলকে, নেতৃত্বে তৃনমূল ছাত্র পরিষদ

Abhirup Maity
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কুতসিৎ আক্রমন শিল্পী কার্ত্তিক দাস বাউলকে, নেতৃত্বে তৃনমূল ছাত্র পরিষদ

নিজস্ব সংবাদদাতা: নজির বিহীন জঘন্য অশ্রাব্য গালিগালাজের শিকার হলেন বাংলার প্রণম্য শিল্পী কার্ত্তিক দাস বাউল। ৫ই নভেম্বর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠান মঞ্চে শিল্পীকে প্রায় কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে হল, ” মেদিনীপুরে এসে এই আমাকে জীবনে প্রথম …..র বাচ্চা শব্দটি শুনতে হল।” অবশ্য তখনও বাংলার এই মহান শিল্পী বুঝতে পারেননি যে মঞ্চে ওই কথা বলার জন্য বিদ্যাসাগর নামাঙ্কিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে আরও হেনস্তার শিকার হতে হবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
কি হয়েছিল সেদিন?জানাতে গিয়ে বাউল শিল্পীর ব্যান্ড ‘বোলপুর ব্লুজ’য়ের এক সদস্য রঞ্জন দাস জানান, ”নবীনবরণ উৎসব উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার আমাদের অনুষ্ঠান করার জন্য চুক্তি হয়। কথা ছিল বিকাল ৪টায় আমাদের ব্যান্ডের প্রস্ততির জন্য মঞ্চ ছেড়ে দেওয়া হবে যদিও ওর তা দিতে পারেননি। ফলে এমনিতেই সাড়ে সাতটার বদলে আটটা হয়ে যায় অনুষ্ঠান শুরু হতে। দাদা (কার্ত্তিক দাস বাউল ) বর্ধমানের গুসকরা থেকে সরাসরি আসছিলেন। রাস্তায় প্রচণ্ড কুয়াসা থাকায় জোরে গাড়ি  চালানো যাচ্ছিলনা । এরই মধ্যে চন্দ্রকোনা টাউনে গাড়ি পাংচার হয়ে যায়। সব মিলিয়ে ৩৫মিনিট মত দেরি হয় পোঁছতে। যেহেতু দেরি হয়েছে তাই গাড়ির মধ্যেই দাদা তৈরি হয়ে মঞ্চে যাচ্ছিলেন তখনই তাঁকে ঘিরে চলে অশ্রাব্য কুতসিৎ গালাগালি, যা ভাষায় বর্ণনা করা যাবেনা।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বাউল সম্রাট মঞ্চে উঠে বলেন, ”কপালে ফের হলে ব্যঙেও লাথি মারে। আমার লেট হয়েছে আমি জড়ো হাত করে তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। মেদিনীপুরে এসেছি অনেকবার কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম আর জীবনে এই প্রথম শুনতে হল…র ছেলে।”
এরপেরও থামেনি হেনস্তা। দেড় ঘণ্টার নির্ধারিত সময়ের বাইরে গিয়েও গান করার পরেও আরও গান করার দাবি এবং দর্শকদের মধ্যে গিয়ে করতে হবে চেঁচাতে থাকে উদ্যোক্তাদের একাংশ। অনুষ্ঠান শেষের পরে শুরু হয় আরও হেনস্তা । শিল্পীর এবং ব্যান্ডের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। চলতে থাকে চরম গালিগালাজ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জানা গেছে এই গালাগালি ও গাড়ি আটকানোর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাজীব মন্ডল ও সিদ্ধার্থ মাইতি প্রমুখ কয়েকজন। এদের মধ্যে সিদ্ধার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃনমূল ছাত্র পরিষদ ইউনিট সভাপতি। মাইতির দাবি তিনি নন, রাজীবই এই নোংরামি করেছেন। তিনিই গালাগালি করেছিলেন শিল্পীকে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
যদিও রাজীবের দাবি তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না। শিল্পী দলটি জানাচ্ছে রাজীবই নিকৃষ্ট ভাষা ব্যবহার করেছিল বেশি আর সিদ্ধার্থ প্রথমে মিষ্টি ভাষা ব্যবহার করে পরে চূড়ান্ত অশালীন হয়ে ওঠে এবং গাড়ি আটকে দেওয়াতে তার ভূমিকাই বেশি ছিল। শিল্পী দলটি আরও জানিয়েছে এঁদের অনেকেই স্বাভাভিক অবস্থায় ছিলনা। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিচ্ছেণ বলে জানিয়েছেন ছাত্র বিষয়ক ডিন অশোক কুমার । 

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join