TRENDS

তীর্থযাত্রীবাহি বাসে আগুন! ৩মহিলা সহ ৬ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, ঝলসে আহত ৩৬জন, আরও মৃত্যুর আশঙ্কা

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: উচ্চ পরিবাহী বিদ্যুতের সংস্পর্ষে এসে পুড়ে গেল তীর্থযাত্রীবাহি বাস। ঘটনায় ৩ মহিলা সহ এখনও অবধি ৬জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মধ্যরাতের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৬ জন মারাত্মক ভাবে আহত, ৬জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাট ঘটেছে রাজস্থানে জলোর জেলায়, শনিবার রাত ১০টা ৪৫ নাগাদ একই বাস যখন উচ্চ তড়িৎ পরিবাহী তারের সঙ্গে ধাক্কা খায় তখন এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনায় ছয় জন জীবন্তই ঝলসে যায় এবং বাকি ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হন। আহতদের জালোর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, আহতদের কেউ কেউ আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের যোধপুরে রেফার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার সকলেই জৈন ধর্মাবলম্বী, যারা আজমের ও বিওয়ার ফিরছিলেন, নাকোদার জৈন মন্দির দর্শন করে। ফেরার পথে জালোর জেলা থেকে ৭ কিমি দূরে মাহেশপুরা গ্রামে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, মন্দির দর্শন সেরে দুটো বাস একইসাথে শুক্রবার রাতে রওনা হয়, কিন্তু একটি বাস পথ ভুল করে মাহেশপুরা গ্রামে পৌঁছে যায়। যখন বাসটি গ্রামের সরু গলি দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বাসটি উচ্চ তড়িৎ পরিবাহী তারের সংস্পর্শে আসে এবং বাসটিতে আগুন ধরে যায়। যে যাত্রীবাহী বাসটিতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল তার নম্বর হল আরজে ৫১ পিএ ০৩৭৫।

স্থানীয়া বিদ্যুৎ বিভাগকে এই ঘটনার কথা জানানোর পরে প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় ও তারপরে যাত্রীদের নিরাপদে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীরা এই ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের পাশাপাশি পৌঁছায় উদ্ধারকারী দলও। আগুন নেভানোর জন্য দমকল বিভাগের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকাজে বাসে আটকা পড়া অনেক যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঝলসে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তারা হলেন- সোনাল, সুরভি, চান্দা দেবী, রাজেন্দ্র, গাড়ির চালক ধর্মচন্দ্র জৈন এবং বাসের কন্ডাক্টর, যার নাম জানা যায়নি।

আহতদের মধ্যেও কয়েকজন্নকে শনাক্ত করা গিয়েছে, তারা হলেন- প্রিয়াঙ্কা, নিশা, শকুন্তলা, অনূষী, শিল্পা, সুনীতা, সীমা, রিতিকা, শিল্পা।

জালোরের বিধায়ক দেবজি মনিসিংগ্রম প্যাটেল সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, দুর্ঘটনার শিকার ব্যবক্তিদের পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা, তারা যেন এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন। পুলিশ প্রশাসন সবরকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য করবে তিনি আশ্বাস দেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join