TRENDS

বিধানসভায় ২২দিন তাঁকে জল দেয়নি কংগ্রেস ! ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র জবাবে মানস

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২২দিন বসে ছিলেন বিধানসভার লবিতে, তেষ্টা পেয়েছে কিন্তু জল দেয়নি কংগ্রেস আর তারপরই মমতা ব্যানার্জী তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে নিজের হাতে এক গ্লাস জল তুলে দিয়ে বলেছিলেন, আর কত অপমান সহ্য করবেন মানস দা! এরপরই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃনমূলে যোগ দেন! নিজের কংগ্রেস ত্যাগকে অবশ্য ত্যাগ নয়, লাথি মেরে তাড়ানো হয়েছে বলে জানালেন রাজ্য সভার সাংসদ মানস ভূইঁয়া।বিধানসভায় ২২দিন তাঁকে জল দেয়নি কংগ্রেস ! 'বিশ্বাসঘাতকতা'র জবাবে মানস

৬তারিখ সবংয়ে সভা করতে এসেছিলেন সদ্য তৃনমূল ত্যাগী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভা করতে এসে শুভেন্দু বলেন, “আমি বিজেপিতে যাওয়ায় অনেকে আমাকে গদ্দার বলছেন কিন্তু আমি দলের সমস্ত পদ ছেড়ে, মন্ত্রীত্ব ছেড়ে, বিধায়ক পদ ছেড়ে তবে অন্য দলে গেছি কিন্তু এই সবংয়ে একজন রয়েছেন যিনি পদ না ছেড়েই অন্য দলে গেছিলেন। তিনি তাহলে কী?” শুভেন্দুর সেই সভারই জবাবি সভা ছিল শুক্রবার। শুভেন্দুর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মানস ভূইঁয়া বলেন, ‘আমি ওর মত দল ছাড়িনি, আমাকে লাথি মেরে তাড়ানো হয়েছিল।’

মানস ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ২২দিন বসে রয়েছিলাম। তেষ্টায় গলা ফেটে গিয়েছে, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়েছে কিন্তু এক ফোঁটা জল দেয়নি কংগ্রেস। আমি আমজাদ নামে এক কর্মীকে বললাম, ভাই আমাকে জল এনে দাও এক গ্লাস। সে কংগ্রেস বিধায়কদের ঘরে জল আনতে গেলে আব্দুল মান্নান তাকে বলে, মানস বাবুকে বল, সামনের বেসিন থেকে জল নিয়ে খেতে। শুনে আমার দুচোখ বেয়ে জল বেরিয়ে এল।’

সাংসদ বলেন, ‘ খবরটা যায় মূখ্যমন্ত্রীর কাছে। এরপর একদিন মূখ্যমন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠালেন। ভেতরে থাকা মন্ত্রীদের বাইরে পাঠিয়ে প্রথমেই আমার হাতে এক গ্লাস জল তুলে দেন। এবারও আমার চোখ ফেটে জল এল। এরপরই আমি কংগ্রেস ছাড়ি!” সাংসদ এও বলেছেন যে, এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে তাঁর কংগ্রেস ছাড়ার কারন বললেন। তিনি আবারও বলেন, ‘আমি বেইমান নই। আমি কংগ্রেস ছাড়িনি, কংগ্রেস আমাকে তাড়িয়েছে।’

যদিও ঘটনা বলছে কংগ্রেস মানস ভূঁইয়াকে তাড়িয়ে দিয়েছে অফিসিয়ালি এরকম ঘটনা ঘটেনি বরং সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তিনি তৃণমুলের পতাকা ধরার পরও অনেকদিন যে বাম-কংগ্রেস জোটের বিধায়ক হয়েই ছিলেন সেটা দেখা গেছে। সেই সময় সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন যে তিনি তৃনমূলের ঝান্ডা ধরেছেন অথচ আপনি জোটের বিধায়ক আছেন? মানস ভূঁইয়া বলেন তিনি কংগ্রেসেই আছেন। তথ্য বলছে ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে মানস তৃনমূলে যোগ দেন,( এদিনও তাই বলেছেন জনসভায়।) অথচ বিধায়ক পদ ছেড়েছেন ২৫শে জুলাই ২০১৭ সালে তাও রাজ্যসভায় তৃনমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হওয়ার পর।

মানস ভূঁইয়ার দাবি তিনি সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীকে পাবলিক আ্যকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ দিতে চাননি বলেই তাঁকে কংগ্রেস সাসপেন্ড করে। কংগ্রেসের অবশ্য এর জবাবে দাবি করেছিল, তিনি তৃনমূলে যাওয়ার পথ প্রস্তুত করছিলেন আর সে কারণেই দলের নির্দেশ অমান্য করে সুজন চক্রবর্তীকে ওই পদ দিতে চাননি যাতে দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। কংগ্রেস তখন বলেছিল জোটের হয়ে উনি ভোটে জিতবেন অথচ জোটের বিধায়ককে পদ দেবেননা এটাও বিশ্বাসঘাতকতা।

সেই সময় কংগ্রেস এবং সিপিএম দুজনেই দাবি করেছিল, তৃনমূল আর পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের যোগ সাজশের ফলে মানস ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা খুনের মামলা চাপিয়ে দিয়েছিল তা থেকে বাঁচতেই তৃনমূলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মানস ভূঁইয়া। অবশ্য বাঁচার সেই রাস্তাও বাতলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীই।

তারপর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সেই ‘ঐতিহাসিক’ সবং উপনির্বাচন যেখানে তৃনমূল প্রার্থী গীতা ভূইঁয়া মানস ভূঁইয়ার চাইতেও বেশি ভোটে যেতেন । যে ভোট নিরপেক্ষ ভাবে হলে যে বিজেপি প্রার্থীই জয়ী হতেন  কিন্তু তিনি নিজেই তা হতে দেননি বলেই ৬ই জানুয়ারি নিজের মুখে স্বীকার করে গেছেন ভোটের সেনাপতি স্বয়ং শুভেন্দুই।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join