TRENDS

রবিবার আরও ঠান্ডা খড়গপুর মেদিনীপুরে, ১ডিগ্রি নেমে ফের ছ’য়ের ঘরে দাঁড়ালো পারদ

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পরপর তিনদিন পারদ নামল খড়গপুর আর মেদিনীপুরে। ২৫শে ডিসেম্বর যে পারদ পতন শুরু হয়েছিল শনিবার পেরিয়ে রবিবারও সেই পতন অব্যাহত। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া উদ্যান জানিয়েছে, রবিবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে সকাল ৬টা ৪৫ যখন পারদ স্থির হয়েছিল ৬.৯৭ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এদিন যদিও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গতকালের চেয়ে সামান্য বেড়েছে ২৬.২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু তবুও ঠান্ডা জোরদার মালুম হচ্ছে কারন গড় তাপমান গতকালের চেয়ে কমে গিয়ে হয়েছে ১৫.৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উল্লেখ্য গতকাল অর্থাৎ শনিবার দুই শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭.৫৫ ডিগ্রি আর সর্বোচ্চ ছিল ২৫.৭২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিন্তু গড় তাপমান ছিল ১৬.১৬ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উল্লেখ্য এখনও অবধি এই মরশুমের সেরা পারদ পতন হয়েছিল গত রবিবার, ২০শে ডিসেম্বর যেদিন সর্বনিম্ন ৬.৬১ এবং সর্বোচ্চ ২৫.২২ এবং গড় তাপমান ছিল ১৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ বলা যেতেই পারে ৮দিনের মাথায় প্রায় স্বমহিমায় ফিরে এসেছে শীত। এদিকে ২৮ ডিসেম্বর থেকে রাজধানী দিল্লিতে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা আরও ‘তীব্র’ হবে বলে জানাল দিল্লির মৌসম ভবন। একই পরিস্থিতি চলবে পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তর রাজস্থানেও। পশ্চিমি ঝঞ্জা কেটেছে অনেকটাই। ফলে উত্তরে হিমালয় থেকে ছুটে আসছে হিমেল হওয়া। সেই হওয়ার দাপট যদি বাংলার দিকে ছিঁটেফোঁটাও আসে তবে এখানেও আরও কয়েক ডিগ্রি তাপমাত্রা নেমে যাওয়া অসম্ভব নয়।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি কম। দিনের বেলাতেও উত্তুরে হাওয়ায় ভালই ঠান্ডা মালুম হচ্ছে। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ক্ষেত্রেও স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি কম।

শুধু সমতলই নয়, পাহাড়ও কাঁপছে ঠান্ডায়। দার্জিলিঙের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিঘা ফের ১০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। পানাগড়, পুরুলিয়াতে ৬ ডিগ্রি, ডায়মন্ড হারবা্রে ১১, শ্রীনিকেতন এবং শিলিগুড়িতে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝাড়গ্রামেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৫ ডিগ্রির গায়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, নতুন করে ঝঞ্ঝার কারণে বাধা না পেলে, বর্ষবরণের রাতে শীত হতাশ করবে না।

সবচেয়ে বড় কথা খড়গপুর এবং মেদিনীপুর সহ সারা রাজ্যেই এখন রোদ উঠছে চড়চড়িয়ে। সকাল সকাল কুয়াশা কেটে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে ফলে হিমেল বাতাস সহজেই খেলতে পারছে। এদিন বাতাসে সর্বনিম্ন আর্দ্রতা রয়েছে ৩৩.৯১ শতাংশ আর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ। বাতাসে গড় আর্দ্রতার পরিমান ৭০.৯২ শতাংশ। গতবছর এই সময়ের চেয়ে সর্ব নিম্ন ৩ ডিগ্রি কম। গতবছর এই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমান ছিল ১০ডিগ্রি। কুয়াশার পরিমান কম থাকায় দৃশ্যমানতা ছিল ১৪কিলোমিটার আর মৃদুমন্দ বাতাস বেশিরভাগ সময় ৩কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় বয়ে গেছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join