TRENDS

বড়দিনের রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই আস্ত একটা গ্রাম

Chandramani Saha

নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার যখন সারা দেশ বড়দিন উদযাপনে ব্যস্ত, আনন্দে মাতোয়ারা, সেই সময় দেশের আরেক প্রান্তে শুধুই হাহাকার; পুড়ে ছাই আস্ত একটা গ্রাম। ঘটনাটি ঘটেছে এদিন হিমাচল প্রদেশে। হিমাচলের শিমলার অন্তর্গত রোহড়ু শহরের কাছেই বগহি নামে ঐ ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামটিতে মোট ১৩ ঘরের বাস। আগুনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি একটি ঘরও। তবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের সঠিক হিসেব এখনও করে উঠতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই গ্রামের সবক’টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমনকী গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসটিও আগুনের গ্রাসে চলে যায়। শিমলা শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামটি। তবে ১৩টি ঘর পুড়লেও কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, দ্রুতই আগুন চারাপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই গোটা গ্রাম ভস্মীভূত হয়ে যায়। দমকলের কর্মীরা ও পুলিশ মিলে চেষ্টা করেও আগুনের হাত থেকে ঘরগুলি রক্ষা করতে পারেনি। এও জানা গিয়েছে, চারটি ঘর আংশিক পুড়লেও বাসযোগ্যের অবস্থায় নেই।

দমকলের এক আধিকারিক জানান, কাঠের বাড়ী হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের কোনও সামগ্রী তাঁরা আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মোহনলাল ব্রাক্তা ঘটনাস্থলে যান। বিধায়কই জানিয়েছেন, ১৩টিরও বেশি পরিবার ঘর হারিয়েছে। সবমিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ ও দমকলের কর্তারা অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখছেন।

অগ্নিদগ্ধ গ্রামের পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে মহাকুমা শাসককে। তিনিই ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে হিমাচল প্রদেশ সরকারকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠাবেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ঘর হারানো মানুষগুলোকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ত্রাণের টাকা সহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার কথা।

প্রসঙ্গত, গত একমাসের মধ্যে আরও অন্তত তিন বার আগুন লেগেছে শিমলার রোহড়, জুব্বল-কোটখাই ও চপল অঞ্চলে। ২ জন আগুনে পুড়ে মারাও গিয়েছেন। এদিন সন্ধ্যায় শিমলার ডেপুটি কমিশনার আদিত্য নেগিকে ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের বিশদ খোঁজখবর নেন হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর। অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা-সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।  শীতের রাতে, গৃহহীন মানুষগুলো আগুনে ঘর হারিয়ে, রাতারাতি মাথার উপর ছাদ হারিয়ে দারুণ বিপাকে পড়েছেন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join