TRENDS

বঙ্গধ্বনির পাল্টা হরিধ্বনি ভারতীর! ধনেখালি ভাসল হরি বলো,বলো হরিতে

Chandramani Saha

বঙ্গধ্বনির পাল্টা হরিধ্বনি ভারতীর! ধনেখালি ভাসল হরি বলো,বলো হরিতেনিজস্ব সংবাদদাতা: দিদিকে বল, বাংলার গর্ব মমতা, ইয়ুথ ফর পলিটিক্স ইত্যাদি প্রকল্প পেরিয়ে এখন পিকের ফর্মুলা বঙ্গধ্বনিতে কিন্তু সেই বঙ্গধ্বনিকে হার মানালো বঙ্গ বিজেপির বর্তমান জনপ্রিয় নেত্রী ভারতী ঘোষের হরিধ্বনি। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনেই হুগলির ধনেখালির জনতা যেন মেতে উঠলেন ভারতী ঘোষের তোলা শবযাত্রীদের উচ্চারিত বলো হরি, হরি বল’ ধ্বনিতে।

রাজনীতিতে শ্লোগান বস্তুটি বড়ই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় যা মানুষকে যেমন আকর্ষিত করে তেমনি কর্মী সমর্থকদের করে উদ্দীপ্ত। আর সেই শ্লোগান কিংবা পাল্টা শ্লোগান তৈরি করায় অসম্ভব কৃতিত্ব বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতির। রাজ্য সরকারের চালু কর্মসূচি ‘দুয়ারে সরকার’কে ব্যঙ্গ করে ভারতী ঘোষ বলেছিলেন, মানুষের হাঁড়ির আর ঘরের দুই-ই চাল চুরি করে এখন তাকে দুয়ারে এনে দাঁড় করিয়েছে এই সরকার। পরে বিজেপির তরফে পাল্টা প্রচারে নামা হয় ‘যমের দুয়ারে সরকার’ নামে। এদিন সেই ‘ যমের দুয়ারে যাওয়ার শ্লোগানটিও তুলে দিলেন প্রাক্তন এই আইপিএস আধিকারিক। বললেন, ‘বলো হরি, হরি বল’ জনতা প্রত্যুত্তরে বললেন, ‘তৃণমূল কে খাটে তোল!’

হুগলি জেলার ধনেখালি, রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য অসীমা পাত্রের এলাকা। যদিও তৃনমূলেরই একটি অংশের ব্যাপক বিরোধিতা তৈরি হয়েছে এই মন্ত্রীর কাজকর্মকে ঘিরে। এলাকার প্রমোটার রাজ, তোলাবাজি ইত্যাদিকে প্রশ্রয় দেওয়া, তাঁর বিরোধিতা করায় দলেরই কর্মীদের জেলে পুরে দেওয়া ইত্যাদি নানা অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সঙ্গে রয়েছে এলাকায় কাজ না করার অভিযোগ। এই অনন্ত অভিযোগের মধ্যেই ভারতী ঘোষের উপস্থিতি যেন তৃনমূল কর্মী সমর্থকদের সেই ক্ষোভকে আরও দ্বিগুন করেছে। দলে দলে মানুষ ভিড় করেছেন ভারতী ঘোষের সভায়। সেই সভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি নেত্রী যখন আওয়াজ তুলেছেন ‘বলো হরি, হরি বল’ বলে, স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের কন্ঠ প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ‘তৃনমূলকে খাটে তোল’ বলে। ভারতী কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘দুয়ারে দুয়ারে এল চোর’ আর ঠাসা ভিড় জনতা জবাব দিয়েছেন , ‘তৃনমূল চাল চোর বলে।

এলাকার রাস্তাঘাটের অব্যবস্থা নিয়েও মন্ত্রী অসীমা পাত্রকে কটাক্ষ করে ঘোষ বলেছেন, “মন্ত্রীর অসীম উন্নয়নে ‘পাত্র’ এখন শূন্য হয়ে গেছে। আমি মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবো সেই শূন্য পাত্র নিয়েই অন্ততঃ জনতার মাঝখানে এসে দাঁড়ান।” জনতার ‘পালস’ বোঝা আর তত্ত্বের কচকচানির মধ্যে না গিয়ে জনতার ভাষায় জনতার উপলব্ধিকে ‘কনভে’ করার যে কায়দা অতি অল্পদিনের রাজনৈতিক চর্চায় বিজেপি নেত্রী রপ্ত করেছেন তাঁরই ফল হিসাবে কাতারে কাতারে ভিড় জমছে তাঁর সভায়। ব্যতিক্রম হয়নি সোমবার ধনেখালি সভাও।

ভারতীর এই নিজস্ব ক্যারিসমাতেই হামলে পড়া ভিড় ভারতী ঘোষকে কাছে পাওয়ার জন্য উৎসাহে টগবগ করেছে। মঞ্চে থেকেও সেই জনতার সঙ্গে ‘রিলেট’ করার এই অভিনব কৌশলের নামই ভারতী ঘোষ। তাই তিনি যখন হরিধ্বনি তোলেন তখন জনতার কন্ঠস্বর আছড়ে পড়ে তাঁর পয়ার ধরতে। এদিনও তাই প্রমান হয়ে গেল। ভারতী ঘোষ এদিন জানিয়ে দেন, “একটা সরকার যে মানুষের মনে পুরোপুরি মরে গিয়েছে তারই অনুভূতি জোরালো হয়ে প্রকাশ পেয়েছে মানুষের সম্মিলিত হরিধ্বনিতে। আর বঙ্গটঙ্গ ধ্বনি দিয়ে সরকারকে বাঁচানো সম্ভব নয়।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join