TRENDS

দলের বিরুদ্ধে বেলাগাম রাজীব , বেসুরো রাজীবকে পাল্টা আক্রমণ উদয়ন কল্যাণের

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: কয়েকদিন বেসুরো বাজার পর এবার সরাসরি হুমকির কড়া বার্তা বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। দাবী পূরণ না হলে কলকাতা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুমকি মন্ত্রীর, সরাসরি হুঁশিয়ারি মমতার সরকারকে। এদিকে রাজীবকে লাগাম পরানোর উদ্দেশ্য কটাক্ষ দলের অন্য দুই বর্ষীয়ান নেতা কল্যান বন্দোপাধ্যায় এবং উদয়ন গুহর।

কিছুদিন থেকেই রাজ্যের বনমন্ত্রীর বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন। কয়েকদিন আগেই একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজীব বাবু বলেন, ‘যারা যোগ্যতার সাথে কাজ করছেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। উল্টে AC ঘরে বসে রাজনীতি করা মানুষেরাই আজ সামনের সারিতে উঠে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন ভালো কাজ করতে যায়, তখন তাকে পিছন থেকে টেনে ধরা হয়। অনেকেই এখানে আছেন, যারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছেন।” কটাক্ষের সুরে তিনি এদিন বলেন, ‘যারা মাঠে ঘাটে কাজ করে তারা প্রাধান্য পায় না । ক্ষমতা লোভীরা দলে জায়গা পাচ্ছে । দলে যারা স্তাবকতা করে তাদের নম্বর বেশি। আমি পারি না বলে আমার নম্বর কম।

আর তারপরেই রাজ্য তথা কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রাজীবের নামে পোস্টার পড়তে শুরু করে। গত মঙ্গলবারও পোস্টার পড়ে বনমন্ত্রীর নিজের জেলা হাওড়ায়। টি রোড সংলগ্ন বালি খাল, বালি নিমতলা-সহ একাধিক জায়গায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ পোস্টার দেখা যায়। কোথাও লেখা ‘শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, রাজীবদা ভরসা।’ কোথাও আবার লেখা ‘দিকে দিকে লাখে লাখে, চাইছে মানুষ রাজীবদাকে।’ ‘আমরা দাদার সমর্থক’ ও ‘দাদার ভক্তদের’ নামে দেওয়া হয়েছে পোস্টারগুলি। অন্যদিকে একই রকম ছবি-সহ পোস্টার-ফেস্টুন পড়েছে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা ও স্টেট ব্যাঙ্ক মোড়ে। পোস্টার পড়ে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর, গাইঘাটাতেও। বাদ যায়নি উত্তরবঙ্গও। এই সব নিয়ে তোলপাড় হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি।

সেই ঝাঁঝ কম হওয়ার আগেই আবার চমকালেন রাজীব। এবার সরাসরি শানালেন আক্রমণ মন্ত্রী। মমতার সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বনমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, শুধু আট-নয় হাজার পুরোহিতদের নামমাত্র ভাতা দিলেই চলবে না। ওদের অনেক দাবী রয়েছে। সনাতন ধর্মের মানুষেরা যাতে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেটার জন্য সুবন্দোবস্ত করে দিতে হবে। নাহলে কলকাতা অবরুদ্ধ করে দেব।‘ আসলে শুক্রবার পুরোহিতদের একটি সভায় যোগ দিতে যান রাজীব। সেখানেই এই হুমকি ভরা স্বর শোনা যায় তাঁর গলায়। এদিন তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের সঙ্গে আমরা সবসময় রয়েছি। এর আগেও বিভিন্ন দাবী-দাওয়া নিয়ে মিছিল করেছি। মুখ্যমন্ত্রী সেই দাবী পূরণও করেছেন। আরও কিছু বিবেচনাধীন রয়েছে। এরপরই রাজীব শ্রীরামকৃষ্ণ পরমাহংস দেবের বাণী আওড়ে বলেন, ‘ঠাকুরের কথায় যত মত, তত পথ। যত মত থাকবে, পথও ভিন্ন ভিন্ন হবে।

তবে রাজীবের এহেন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরব হয়েছেন দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। নাম না করেই ফেসবুক পোস্টে বনমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি। রামকৃষ্ণদেবের সেই একই কথার সূত্র ধরে শুক্রবার রাতেই ফেসবুকে পাল্টা দিয়েছেন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হয় জলে (সেচ) অথবা জঙ্গলে (বন) না হলে পদ্মফুলে, যত মত তত পথ’। নাম না নিলেও উদয়ন বাবুর কটাক্ষে স্পষ্ট যে এই ইঙ্গিত একেবারে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না খুব একটা। কারণ, বর্তমানে বনমন্ত্রী রাজীব আগে সেচ দফতর সামলাতেন। আর এই দুটি দফতরের কথাই উল্লেখ রয়েছে উদয়ন গুহর ফেসবুক পোস্টে।

উদয়ন বাবুর সাথে আবার গলা মিলিয়ে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সুর চড়িয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি লিখেছেন, ‘আমি দেখছি কিছু মন্ত্রী উচ্চাকাঙ্খী আর লোভী। তাঁরা হাতে সব ক্ষমতা চান। কীভাবে অন্যকে বিভ্রান্ত করা যায় তা তাঁরা জানেন।‘ এখানেও কারও নাম উল্লেখ না করলেও স্বাভাবিক ভাবেই‌ যে এই মন্ত্রী বলতে রাজীব ও শুভেন্দুকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।

তবে এই প্রথম নয়, উদয়ন ও কল্যানের আগে মন্ত্রী অরূপ রায়ও বেসুরো রাজীবকে এক হাত নিয়েছিলেন। রাজীবকে বিঁধে তিনি বলেছিলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। চালুনি আবার ছুঁচের বিচার করে!

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join