TRENDS

মমতার সভার মধ্যেই শুভেন্দু অনুগামীদের দ্বিতীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন নন্দীগ্রামে! আখিলের হাতেই এবার পূর্বের সাম্রাজ্যের ভার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: এখনও খোলসা করেননি দল ছড়াছেন কী না। জানা যায়নি কোন পথের পথিক শুভেন্দু অধিকারী কিন্তু তার মধ্যেই একের পর এক কার্যালয় খুলতে শুরু করল শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী তথা দাদার অনুগামীদের কার্যালয়। রবিবার পুরুলিয়াতে প্রথম খুলতে দেখা গিয়েছিল এরকমই একটি কার্যালয় আর সেই ঘটনার ২৪ঘন্টার মধ্যেই আরেকটি কার্যালয় খুলে ফেললেন শুভেন্দুর অনুগামীরা। ঘটনাচক্রে দ্বিতীয় কার্যালয়টি খুলল সেই নন্দীগ্রামেই যে নন্দীগ্রামের ব্লক সভাপতিকে মাত্র দুদিন আগেই সরানো হয়েছে শুভেন্দু অনুগামী হওয়ার জন্য। আর দাদার অনুগামীরা সেই দিনটাকেই বেছে নিয়েছেন এই অফিস খোলার জন্য যেদিন শুভেন্দু গড় মেদিনীপুর শহরেই ২০২১য়ের প্রাক্কালে প্রথম নির্বাচনী সভা করতে হাজির মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী স্বয়ং।

রবিবার পুরুলিয়া শহরের সরকার পাড়ায় দাদার অনুগামীদের অফিসটি উদ্বোধন করেছিলেন তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা গৌতম রায়। উদ্বোধন করতে গিয়ে বলেছিলেন, “আমরা দাদার অনুগামী, দাদার পথই আমাদের পথ।’ টিম পিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে রায় বলেছিলেন, একটা বাজারি কোম্পানি কে দিয়ে দল চলেনা দিদির উন্নয়নের ওপর ভরসা নেই আজকের নেতাদের তাই ঠিকাদার আমদানি করতে হচ্ছে।”

সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়া পাড়ায় রীতিমত পূজাপাঠ এর পরেই কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়। ছিলেন স্থানীয় কিছু অনুগামী। দু’কামরার কার্যালয়ে লাগানো হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর বেশ কয়েকটি ছবি। প্রাক্তন মন্ত্রীর জন্য বসার চেয়ার ও লম্বা টেবিল ছাড়াও অনুগামী ও সাক্ষাৎ প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি চেয়ার। তিন কামরার ঝকঝকে রঙ করা ওই কার্যালয়ে কোভিড পরিস্থিতি বিচার করে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। একটি কামরায় লাগানো হয়েছে এসি। একটি কক্ষের মেঝে মুড়ে দেওয়া হয়েছে সবুজ কার্পেটে, অন্যটি নীল সাদা। ঘটনা হল এই কার্যালয়ে সেই সোমবারই যখন মেদিনীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন।

সোমবারের সভায় উপস্থিত ছিলেননা অধিকারী পরিবারের কেউই। শুভেন্দু অধিকারীর থাকার প্রশ্নই ছিলনা কারন তিনি ইতিমধ্যেই বিভাজন পরিণত হয়েছে যোজন দূরত্বে। অন্যদিকে দলীয় সভাপতি কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী পায়ের আঘাত নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। পরিবারের অপর সদস্য তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিশেষ কাজে দিল্লি গিয়ে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে অধিকারী হীন সভা হয়েছে মেদিনীপুরে। আর অধিকারীরা দলের সঙ্গে থাকছেননা ধরে নিয়েই সোমবার মেদিনীপুরের সভায় মূখ্যমন্ত্রী তুলে এনেছেন অধিকারীদের চির বৈরি রামনগরের অখিল গিরি পরিবারের সঙ্গে তাঁর পুরানো সম্পর্কের কথা।

মমতা বলেছেন, ‘১৯৯৮ সালে অখিল গিরিকে কাঁথি থেকে প্রথম প্রার্থী করেছিলাম আমি। মাত্র ২২দিনের দল তখন আমাদের। অল্প ভোটে হেরে যাই।’ অখিল গিরি অবশ্য প্রথম থেকেই তৃণমূলে ছিলেন কিন্তু পরবর্তীকালে অধিকারী পরিবারের তৃনমূল সংযোগে দলে গুরুত্ব কমে যায় তাঁর। ইদানিং অখিল এবং তাঁর ছেলে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছেন। মনে করা হচ্ছে অধিকারী পরিবারের পর তাঁদের হাতেই ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জী।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join