TRENDS

রাজীব ব্যানার্জীকে নিয়ে ফোঁস করলেন অরূপ

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: বেসুরো রাজীবকে বিঁধলেন অরূপ। মমতার দুই মন্ত্রীর বিবাদ ঘিরে ফের প্রকাশ্য শাসকদলের অন্তর্কলহ। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ফের বেফাঁস মন্তব্য অরূপ রায়ের। নাম না করেই রাজীবের কড়া সমালোচনায় মুখর হলেন মন্ত্রী অরূপ রায়।

রাজীবকে বিঁধে তিনি বলেন, চোরের মায়ের বড় গলা। চালুনি আবার ছুঁচের বিচার করে! রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি এদিন বলেন, দলে থেকে ব্ল্যাকমেলিং করা যাবে না। সম্প্রতি রাজীব বাবু বলেছিল যে, দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না। সেই প্রসঙ্গে অরূপ বলেন, ‘দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছেন তারা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন। তারা মন্ত্রী নন, বিধায়ক নন। কিন্তু একজন দলের জন্য কিছু ত্যাগ না করে শুধু নিতে এসেছে, তাদের মুখে এসব কথা শোভা পায় না। সেইসাথে তিনি আরও দাবী করেন, ‘তৃণমূল হল জনসমুদ্র, সমুদ্রের জল কোনদিন কমে না।‘

প্রসঙ্গত, শনিবার টালিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের বিরুদ্ধেই এক রাশ ক্ষোভ উগরে দেন। কটাক্ষের সুরে তিনি এদিন বলেন, ‘যারা মাঠে ঘাটে কাজ করে তারা প্রাধান্য পায় না । ক্ষমতা লোভীরা দলে জায়গা পাচ্ছে । দলে যারা স্তাবকতা করে তাদের নম্বর বেশি। আমি পারি না বলে আমার নম্বর কম।‘ পাশাপাশি শুভেন্দু দল ছাড়লে যে দলের খুব একটা সুবিধা হবে না, সেকথাও স্পষ্ট জানান রাজীব। বাদ যায়নি অতীন ঘোষের বিদ্রোহী মনোভাবের প্রসঙ্গও; সে বিষয়ে তিনি বলেন, “দেখুন হয়তো তাঁর মনের কথা বলেছেন। তাঁর মনের কথা হয়তো ব্যাখ্যা করেছেন। আমার মনে হয় দলের অনেকেরই হয়তো এমন ব্যথা, যন্ত্রণা রয়েছে। তাঁরাও হয়তো বলতে পারছেন না।”

এরপরেই বনমন্ত্রী বলেন, “আমি এখনও মনে করি আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে কাজ করি তাহলে ১০০ জন মানুষের উপকার করতে পারব। তবে কেউ স্বচ্ছ্বতা, সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের কাজ, তাহলে একটা রাজনৈতিক মঞ্চের দরকার রয়েছে। মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবো যদি আমাকে আমার মধ্যে স্বচ্ছ্বতা থাকে। সুতরাং আগামী দিনে যদি মানুষের জন্য কাজ করতে হয় তাহলে রাজনৈতিক মঞ্চে থেকে মানুষের জন্য কাজ করবে। রাজনীতিতে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চাইলে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই করতে হবে।”

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সকল মন্তব্য ঘিরে এরপর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে কী তিনিও শুভেন্দুর পথেই হাঁটবেন! এরই মাঝে রবিবার রাজীবের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন হাওড়া জেলা সদরের আরেক মন্ত্রী অরূপ রায়। হাওড়া জেলা সদরে এই দুই মন্ত্রীর লড়াই যে এখনও বিদ্যমান তা অরূপ রায়ের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join