TRENDS

দুয়ারে দুয়ারে সরকার, থানায়, বিডিও অফিসে বিক্ষোভে করোনা ভলেনিটিয়ার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার শুরু হয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব পরিকল্পনা দুয়ারে দুয়ারে সরকার। রাজ্য জুড়ে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা গুলি যাতে আরও দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্প যা শুরুর দিনই অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে নবান্ন। প্রথম দিনেই তিন লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে বলে নবান্নের দাবি। জানা গেছে এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দিতে ‘সরকার দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছবে’, এ কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সেই কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই সূচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে ফের বিশদে জানিয়েছেন এই কর্মসূচির বিষয়ে। খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, ঐক্যশ্রী, জাতিগত শংসাপত্র, তফসিলি বন্ধু, জয় জোহার, কৃষকবন্ধু এবং ১০০ দিনের কাজ— এই সবক’টি প্রকল্পের সুবিধাই মিলবে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির ক্যাম্পগুলি থেকে। এই সব প্রকল্প বা সরকারি পরিষেবার বিষয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে, সে সবও জমা নেওয়া হবে সেখানেই।
যদিও এরই মধ্যে এক অদ্ভুদ লাইনও চোখে পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহল অংশের গোয়ালতোড় থানাতে।

এদিন পাঁচশতাধিক যুুবক যুবতীর বিক্ষোভ ডেপুটেশন সামিল হয়েছিলেন মঙ্গলবার। করোনা কালীন সময়ের প্রায় ৮মাস বিভিন্ন জায়গায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেছেন এঁরা। বর্তমানে এঁদের দাবি কর্মী হিসেবে সুনিশ্চিত করতে হবে এঁদের কাজ এবং দিতে হবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক। এই করোনা স্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় আট মাস এরা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেছেন। ব্যাঙ্ক ও বীমার কার্যালয় রেশন দোকান, হেলথ সেন্টার, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, পরিযায়ী শ্রমিকদের আসার সময় ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় ২৪ঘন্টা সাতদিন কাজ করে গেছেন।

এর জন্য কোনো ভাতা যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনি এমন কাজে একটি মাস্কও দেওয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। এখন মূখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের আগে স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এঁদের বক্তব্য যে তাঁরা করোনা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন জাতির স্বার্থে। এখন তাঁদের সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে যুক্ত করা হোক।

গোয়ালতোড় থানায় স্মারকলিপি দিতে আসা হরেন আহির, মহুয়া ঘোষ, শ্রাবনী মাহাতো, ছন্দা মাহাত, সুকুমার ভূঞ্যা বলেন, বাড়ির কথা চিন্তা না করে করোনা মহামারীর সময় কাজ করি। রাজ্য সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন থানা থেকে স্বেচ্ছা সেবক নিয়োগ করা হয়েছিল। এই কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গত দুদিন আগে হঠাৎই প্রায় ৫০০ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে । আন্দোলন কারীদের দাবী এ কেমন সরকার আট মাস বিনা পয়সায় প্রতিদিন কাজ করিয়েছে। আশা দেওয়া হয়েছিল কাজের অগ্রাধিকার দেবে সরকার।

থানার পাশাপাশি গড়বেতা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসেও তাঁরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। যদিও বিডিও সোফিয়া আব্বাস জানান যেহেতু তিনি অ্যাপোয়েন্টমেন্ট অথরিটি নন তাই তার ক্ষেত্রে কিছু বলা সম্ভব নয়। যিনি বা যারা অ্যাপোয়েন্টমেন্ট অথরিটি ছিলেন তাদের তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে বলেছেন তিনি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে চলেছেন তাঁরা। জেলা এবং রাজ্য ব্যাপী সমস্ত করোনা স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যোগসূত্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join