TRENDS

কৈলাসের হাত ধরে পদ্মেই স্থিত মিহির! আর কে কে জল্পনা তৃণমূলে

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেই কথা সাংবাদিক সম্মেলন করেও জানিয়েছিলেন আজও সকাল হতেই নিশীথের হাত ধরে দিল্লী, বিকেলে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ, তারপরেই কৈলাস বিজয়বরগীয়ার হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে যোগ। ৫৬ দিনের জল্পসার অবশেষে থামল। বিক্ষুব্ধ মিহির শেষ পর্যন্ত বিজেপির আহ্বানে সায় দিলেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়কের দলবদল ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।কৈলাসের হাত ধরে পদ্মেই স্থিত মিহির! আর কে কে জল্পনা তৃণমূলে

শুক্রবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে মিহির বাবুর হাতে গৈরিক পতাকা তুলে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল থেকে প্রথম কোন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলেন। গত ৩রা অক্টোবর তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলে মিহির বাবু। তারপর থেকে ক্যমেরার সামনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বারংবার ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। কখনও তিনি প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সংস্থার নাম না করে বলেন “ঠিকাদারী সংস্থা দিয়ে দল চলতে পারেনা।” কখনও রাজ্য নেতাদের “পরগাছা” সম্বোধন।

কালিপুজোর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন “এ দল এখন আর আমার দিদির দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই দিদির লোক এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। সব কিছু মেনে নিয়ে জো হজুর করে টিকে থাকো, নইলে তফাত যাও।” তার মধ্যে বিজয়া সারতে মিহির বাবুর বাড়িতে দেখতে পাওয়া গিয়েছিলো কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে। তার পরের দিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তপরের মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন তার শহরের বাড়িতে গেলে সেখানে দেখা মেলেনি মিহির বাবুর।

মিহির বাবু যে তৃণমূল কংগ্রেসে আগামী দিনে থাকছেন না তখনই চিত্রটা অনেক টাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। তারপর শুক্রবার কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক এর সঙ্গে মিহির গোস্বামীকে দেখা গেল দিল্লীতে বিজেপির সদর দপ্তরে। মিহির বাবুর হাতে গেরুয়া পতাকা তুলে দেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এদিন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আর.পি. সিং সহ দিল্লীর অনান্য বিজেপি নেতারা।

বিজেপিতে যোগদানের পর মিহিরবাবু বলেন- “রাজ্যে যে অনাচার চলছে তার প্রতিবাদে আমি গত ৩রা অক্টোবর তৃণমূল দলের সমস্ত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলাম। আজ বিজেপিতে যোগ দিলাম।” আরও তিনি বলেন- “বছরের পর বছর ধরে উত্তরবঙ্গ উপেক্ষিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানাতেও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয় নি।”

এদিকে মিহিরের বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন নিয়ে শাসক দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কোচবিহার লোকসভার বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। তিনি বলেন- “তৃণমূল কংগ্রেস দল টা আজকে এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে দলটা যারা তৈরী করেছিল যারা দলের স্তম্ভ ছিল আজকে কার্যত তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে দলের কাছে। আজকে তৃণমূল কংগ্রেস শুধুমাত্র একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ২০২১ এর নির্বাচনের প্রাক্‌ মুহূর্তে এসে আমি বলবো যে তৃণমূল কংগ্রেসে যে ভরাডুবি হতে চলেছে, তার শুভ সূচনা আজকে দিল্লীতে হল।” এদিকে আর কে কে বিজেপি তে যাচ্ছেন সে নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে দুই দলেই।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join