TRENDS

শুভেন্দু ফিরেছেনা জেনেই কী হুঙ্কার মমতার! বললেন,আমিই সব জেলার পর্যবেক্ষক, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সবই জানি

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পর্যবেক্ষক পদটাই তুলে দেওয়া হয়েছিল শুধু শুভেন্দু অধকারীর ক্ষমতা খর্ব করার জন্য কিন্তু সেই পর্যবেক্ষক পদটা ফিরিয়ে আনলেন তিনি নিজেই। তিনি মানে মমতা ব্যানার্জী নিজেই আর ফিরিয়ে আনলেন সেই বাঁকুড়ায় দাঁড়িয়ে যে জেলা সহ ৫জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন বিদ্রোহী মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এদিন কার্যত হুঙ্কার দিয়ে মূখ্যমন্ত্রী বলেন ‘অনেকেই বলছেন, এই জেলায় পর্যবেক্ষক কে? ওই জেলায় পর্যবেক্ষক কে? আমি বলছি, সারা বাংলায় আমিই পর্যবেক্ষক! কোথায় কী হচ্ছে, কে কোথায় যাচ্ছে, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, সব আমি জানি।’

মূখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দিদি সব জানে, কিন্তু ছেড়ে রেখেছে। কে কোথায় যাচ্ছে, কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, কে কী করছে, সব আমার কাছে খবর আছে। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী হিসেবে সারা বাংলার অবজার্ভার আমি।’ কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, ‘ছাগলের তিনটি বাচ্চা। দুটো বাচ্চাকে মা কাছে রাখে। আর একটাকে ছেড়ে রাখে। যাকে ছেড়ে রাখে সে-ই অন্যদের খবর এনে দেয়।’ বলেন, সব বুঝেও ছেড়ে রেখেছি।’

রাজনীতিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কী হাল ছাড়ছেন মমতা? বিদ্রোহী মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করার জন্য, সমঝোতা সূত্রে আসার জন্য প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কে বহাল করেছিলেন তিনি। দু’দফায় আলোচনার পরও শুভেন্দুর যে মন গলেনি তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রায় স্বয়ং। শুভেন্দুর দেওয়া শর্ত সমূহ মানা সম্ভব নয় আর সেই কারণে শুভেন্দুকে ফেরানো অসম্ভব জেনেই কী ক্রুদ্ধ মমতা ব্যানার্জী? যদিও কারও কারও মতে শুভেন্দু নয়, এই হুঙ্কারের লক্ষ্য বিজেপিও হতে পারে কিন্তু তাই যদি হয় তবে হঠাৎ করে পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গ আনলেন কেন তিনি।

এরপরই মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, ‘ ‘এত দিন সরকারের কাজে বেশি মন দিয়ে দলকে একটু ঢিলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বার পুরো দলটাই আমি দেখব। বাঁকুড়ার মাটি থেকেই সেই কাজ শুরু করলাম আমি।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এটাও একটা কূটনৈতিক চাল মমতার। অভিষেককে সামনে আনার চেষ্টা করায়, তাঁকে যুবরাজ হিসাবে প্রোজেক্ট করার বিরুদ্ধেই মূলতঃ শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবাদ। কোনোও রাজনৈতিক সংগ্রামে যিনি অবতীর্ন হননি। ক্ষমতালাভের পর যিনি প্রসাদগুনে নেতা হয়েছেন এবং এক এক করে শুভেন্দু সহ পুরানো লড়াকু কর্মীদের পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটা মানতে পারছেনা আনেকেই। শুভেন্দু বলেই দিয়েছেন, মমতা ছাড়া অন্য কারও নেতৃত্ব তিনি মেনে নেবেননা। দ্বিতীয়তঃ পিকে কে মেনে নিতে পারছেননা শুভেন্দু কারন পিকেই অভিষেককে প্রোজেক্ট করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে তাঁর মনে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেককে পেছনে সরিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কী ফের সামনে আসছেন মমতা?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই কৌশল মমতার কিছু নতুন নয়। এর আগেও যখন স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, উন্নয়ন বিমুখতার অভিযোগ উঠেছে তখনও মমতা কর্মীদের শান্ত করতে, জনতাকে প্রবোধ দিতে বলেছেন, ‘সমস্ত কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী ধরে নিয়ে ভোট দিন।’ ফলে সমস্ত জেলায় তিনিই পর্যবেক্ষক এই কথাটার মধ্যে সেই কর্মীদেরই ফেরানোর চেষ্টা যাঁরা শুভেন্দু অধিকারীকে পর্যবেক্ষক থেকে সরানোর বিরুদ্ধে শুভেন্দুর সঙ্গেই সরব হয়েছেন।

বুধবার মূখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ির জনসভা থেকে বারবার বিভিন্ন উদাহরণ টেনে জনতাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন কী ভাবে তিনি বিভিন্ন সময়ে, লড়াই,সংগ্রামে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের কারও নাম না করে তিনি বলেন, ‘দলে টানতে ফোন করে তৃণমূলকর্মী, বিধায়কদের লক্ষ, কোটি টাকার অফার দিচ্ছে। ওদের কেউ কেউ ভাবছে, এখন থেকে যোগাযোগটা করে রাখি। বাই চান্স যদি চলে আসে। বাই চান্স হবে না। চান্স থাকলে তো বাই চান্স।’‌

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join