TRENDS

স্কুলের বিভিন্ন তহবিলে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ সবংয়ে, অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষকের

Chandramani Saha

শশাঙ্ক প্রধান: মিড-ডে-মিল, ভবন নির্মাণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে স্কুলের টাকা তছরুপ সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একটি প্রাথমিক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার কতিপয় গ্রামবাসী। ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। বিক্ষোভরত গ্রামবাসীদের দাবি, স্কুলের উন্নয়ন খাতে সরকারি বরাদ্দ অর্থের তছরূপ সহ নানা প্রকার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। এই অভিযোগ তুলে শুক্রবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় এলাকার মানুষজন। সবং থানার চাউলকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত দেউলপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান বাবদ যে ইট আনা হয়েছিল তার একটি অংশ কিছুদিন আগেই প্রধান শিক্ষক নিজের বাড়িতে সরাতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়েন। অতিরিক্ত পড়ুয়া দেখিয়ে মিড-ডে-মিলের বরাদ্দ আনানো হয় এবং সেই অতিরিক্ত বরাদ্দ শিক্ষক নিজের ব্যক্তিগত তহবিলে সরিয়ে নেন উপরন্তু পড়ুয়াদের নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। তাঁদের আরও অভিযোগ গ্রন্থাগারের টাকা আত্মসাৎ করেছেন এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

যদিও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রাণকৃষ্ণ সাঁতরা এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই স্কুলের সমস্ত কাজই অভিভাবক কমিটি (ভি.এল.সি) এবং পঞ্চায়েতের তত্ত্বাবধানেই হয়ে থাকে। যে ইট সরানোর কথা বলা হচ্ছে তা স্কুল ভবন নির্মানের পর অতিরিক্ত ইট যা এখানে ফেলে রাখলে খোয়া যেত সেটাই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলেই তা হয়েছে কারন উনি ভিএলসি কমিটির সভাপতি।

সাঁতরা আরও বলেন, “১৭ বছর আমি এই দায়িত্বে রয়েছি কোনও প্রশ্ন ওঠেনি কিন্তু গত ২বছর ধরে একটি প্রতিহিংসা থেকে এই কাজ করা হচ্ছে। স্কুলের ভালোমন্দ বিচার করার জন্য ভিএলসি কমিটি রয়েছে তাঁরা কোথাও কোনও আপত্তি করেননি। অথচ কিছু মানুষ আসছেন আর যখন তখন বলছেন মিটিং করতে হবে, কাগজ দেখাতে হবে। আমি ভিএলসি কমিটি ছাড়া কাউকে কোনও কাগজ দেখাতে বা মিটিংয়ে বসতে পারিনা।”

পাল্টা গ্রামবাসীদের দাবি, বিভিন্ন নিয়ম কানুনের দোহাই দিয়ে এভাবেই অনিয়ম বেনিয়ম করে যাচ্ছেন সাঁতরা। গ্রামের সঙ্গে আলোচনা করলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনে যাবেন তাঁরা। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এই দাবি গুলি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join