TRENDS

সাহা, সরকার, ঘোষ, বিশ্বাস! বাংলায় ব্রাহ্মণদের নতুন পদবীর খোঁজ মিলল পুরোহিত ভাতার কল্যাণে

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুরোহিত ভাতা চালু না হলে জানাই যেতনা বাংলায় চক্রবর্তী, চ্যাটার্জী, মুখার্জি, ব্যানার্জী ইত্যাদি ব্রাহ্মনদের পরিচিত পদবীর বাইরেও কত পদবী রয়েছে! আবার চমকে উঠতে হয় যদি সেই পদবী গুলো সাহা, সরকার, ঘোষ, বিশ্বাস হয়! শুনে অবাক হচ্ছেন? কিন্তু ঘটনা হল এটাই সত্যি। সম্প্রতি মূখ্যমন্ত্রী পুরোহিত ভাতা ঘোষনা করেছেন। আর সেই নিয়ম মেনেই ব্লকে ব্লকে তৈরি হয়েছে ভাতা পাবেন এমন সব পুরোহিতদের তালিকা। আর সেই তালিকাতেই দেখা যাচ্ছে এমন বিচিত্র সব কান্ড।

সম্প্রতি নদিয়া জেলার তেহট্টতে প্রকাশিত হয়েছে পুরোহিত ভাতার জন্য প্রাপকদের তালিকা। দেখা যাচ্ছে সেই তালিকায় উঠে এসেছে এমন বেশ কিছু পদবীর ব্যক্তির নাম রয়েছে যা আদতে ব্রাহ্মনদের পদবী নয় এবং আদৌ ব্রাহ্মণই নয়। যেমন একটি নাম নিলয় সাহা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি আবার এক তৃনমূল নেতা। নিলয় সাহা আবার নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যা টিনা সাহার স্বামী ! বোঝ কান্ড! এ যেন সেই আমফানের ক্ষতিপূরনের তালিকা। বেছে বেছে তালিকায় উঠে এসেছিল নেতাদের বাড়ির লোকেদেরই নাম যাঁদের কিনা বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি। আর এখানেও ঠিক তাই, পুরোহিতই নয় অথচ নাম উঠে গেছে পুরোহিত ভাতার তালিকায়।

গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তেহট্ট এলাকার পুরোহিতেরা। বুধবার ভাতার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ব্লক অফিসে জানিয়ে আসেন তাঁরা। তেহট্টের ব্রাহ্মনরা। তেহট্ট-১ বিডিও অচ্যুতানন্দ পাঠক জানিয়েছেন, জেলা থেকেই তাঁদের কাছে পুরোহিত ভাতার একটি তালিকা পৌঁছয়। সেই তালিকা অনুসারে পুরোহিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে।
তালিকায় পাওয়া গেছে গৌরাঙ্গ দাস, প্রতাপ বিশ্বাস, ভোলানাথ মন্ডল ইত্যাদি অনেক নাম। ক্ষুব্ধ পুরোহিতদের অভিযোগ, জেলা পরিষদের সদস্য টিনা সাহার স্বামী নিলয় সাহা কখনই ব্রাহ্মণ হতে পারেন না। সেক্ষেত্রে তার নাম তালিকায় এল কিভাবে? স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণরা। অনেকে অভিযোগের সুরে বলেন, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হলেই মিলবে ভাতা!

এদিকে বিষয়টি নিয়ে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুলেছেন টিনা সাহা। তাঁর অভিযোগ দলেরই কেউ তাঁর স্বামীর নাম ঢুকিয়ে দিয়ে তাঁদের বদনামের চেষ্টা করছে। টিনার বক্তব্য,“ কী করে আমার স্বামীর নাম তালিকায় এল সে বিষয়ে মহকুমা শাসক ও বিডিও’র কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। আমার মনে হয় কেউ এই ইচ্ছাকৃত আমার স্বামীর নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। সত্যিই খুবই খারাপ বিষয়। আমাদের পরিবার ও দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই দলের মধ্যে থেকেই কেউ এ কাজ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” কী আশ্চর্য! ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার পরও আমফানের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার তালিকায় তৃনমূলের নেতা নেত্রীদের নাম আছে জানার পর মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়লে এমনই কথা বলেছিলেন নেতারা!

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join