TRENDS

এক বছর পেরিয়ে গেল কুরবান শাহ খুনের ! অধরা মূল অভিযুক্তরা! দল আর পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন স্ত্রী

Chandramani Saha

শশাঙ্ক প্রধান: ‘ আনিসুর রহমান নেপালে লুকিয়ে থাকলে তাকে পুলিশ ধরে আনতে পারে কিন্তু একবছর কোথায় লুকিয়ে আছে শীতল মান্না বা গোলাম মেহাদীরা? কে লুকিয়ে রেখেছে তাদের? কত ক্ষমতা তাদের যে পুলিশ তাদের ধরতে পারেনা?” বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানা এলাকার মাইসোরা গ্রামের নিজের বাড়িতে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই কথা গুলিই বলছিলেন মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃনমূল সদস্যা সাইদা সাবিনা বানু খাতুন।

বছর ২৫ শের এই বিধবার ২টি শিশু সন্তান যার ছোটটি বাবার খুন হয়ে যাওয়ার কথা জানেইনা, জানে বাবা বাইরে গেছে তার জন্য অনেক কিছু নিয়ে ফিরবে। ছোট্ট সেই অবুঝ শিশুটির অপেক্ষার ১বছর পূর্ণ হল বুধবার, ৭ই অক্টোবর। হিন্দু পাঁজি মতে একবছর আগের এই দিনটি ছিল মহা নবমী, নিজের পার্টি অফিসের সামনেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের যুব নেতা তথা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি কুরবান শাহ।

কুরবানের বাড়ির লোকেরা প্রথম থেকেই এই খুনের পেছনে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বকেই দায়ী করেছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এমনকি সিআইডি তদন্ত চেয়েছেন। কিন্তু দল এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সে সব দাবি মানা হয়নি। একটি বিশেষ তদন্তকারি দল (সিট)গঠন করে সিআইডি তদন্তকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে তৃণমূলেরই একটা অংশ থেকে।
সিট কুরবান হত্যাকাণ্ডে পুলিশ বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান সহ কয়েক জনকে সুপারি কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। যদিও তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে এই খুনের পেছনে আরো জড়িত মাইসোর অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্য স্বামী শীতল মান্না ও গোলাম মেহাদি (কালু)। কুরবানের স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন এরা আজও গ্রেপ্তার হলনা কেন?

শুধু পুলিশ নয় সাইদা সাবিনা বানু খাতুন অভিযোগ করেছেন দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও। তাঁর বক্তব্য, “আমার স্বামী খুন হওয়ার পর অনেক নেতা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ,কিন্তু এক বছরের কোন নেতা যোগাযোগ করেনি। আমার স্বামী রাজনীতির জন্য মারা গিয়েছেন। মারা যাবার পর পাটির কোনো নেতাদের আমার ছেলে মেয়ে কেমন আছে জিজ্ঞেস করতে আসেনি।”

সাইদা পরিষ্কার দাবি করেছেন যে , ” ওই শীতল আর গোলামের মাথায় হাত রয়েছে বড় কোনোও নেতা। যেকারনে এক বছর হয়ে গেলেও খুনের সাথে অভিযুক্ত এখনো দুজনকে কেন পুলিশ ধরতে পারেনি। ওদের দুজনের কি ক্ষমতা রয়েছে যে পুলিশ এক বছর ধরে ধরতে পারছে না।”
বুধবার কুরবানের স্মৃতিতে মাইসোরা এলাকায় একটি শোক মিছিলের আয়োজন করেছিল তৃনমূল কংগ্রেস। তাঁর ছবিতে মাল্যদান করেন তৃনমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। কিন্তু সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে নিহত কুরবান শার স্ত্রীর এই অভিযোগ ও হাহাকার।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join