TRENDS

একটি হলুদ রবিবারে

একটি হলুদ রবিবারে✍️কলমে: আশিস মিশ্র

(পর্ব–১৯)

এখন একটা ট্রেন্ড চলছে দেখবেন, “আমার প্রোডাক্ট সবার সেরা। ” যদি ধরে নেন, এটা বিজ্ঞাপনের ভাষা, ধরতেই পারেন। তবে এটা একেবারে মনের কথা। আরও দেখবেন, মাঝে মাঝে মূল প্রোডাক্টের সঙ্গে একটা অপশন শো করে। তা হলো ফ্রি ফিপটি গ্রাম। এই ফ্রির লোভে আমরা সেই প্রোডাক্ট কিনে নিয়ে আসি বাড়িতে। এবং ব্যবহারের পর বোঝাই যায় না, আমি বা আমরা ওই ফ্রি ফিফটি পেয়ে কতটা উপকৃত হলাম। বোঝাই গেলো না, ওই ফ্রি ফিপটি আসলে কী। এটাও একটা চমক, প্রোডাক্ট বিক্রির।

বাংলা সাহিত্যে এমন চমকও আছে। পুজো সংখ্যা কিনলে সাবান বা স্যাম্পু ফ্রি। বা গানের ক্যাসেট ফ্রি।
এবার এমন ফ্রি অপশন আছে কিনা আমার জানা নেই। যা দিনকাল, ফ্রি দেওয়াও মুশকিল।

এর সঙ্গে কবিতার কী সম্পর্ক আছে, তা একটু খতিয়ে দেখা যেতেই পারে। আছে হয়তো। এতো কবিতার ভিড়,যে কিছুদিন পর বলা হবে, পুজোসংখ্যা কিনলে স্যাম্পু ফ্রি নয়, কবিতা ফ্রি।
কবিতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি হওয়ার পর আরও একটি ধারণা তৈরি হয়, তা হলো একটি কবিতার পুনরাবৃত্তি বা একই ভাবনা পরের কবিতার মধ্যে এসে যাওয়া। কবি বুঝতে পারছেন, যে একই জায়গায় সে জলের মতো একা ঘুরে ঘুরে কথা কইছেন। কেবল তার মোড়কটি আলাদা।

সে যাই হোক, কবিতা সিনেমার মতো টু, থ্রি হয়ে আসে কি? যেমন ধরুন –আশিকি ২, ধুম ৩, বা বাহুবলি ২। একটি বিষয় নিয়ে কবিতার ক্ষেত্রে এমন হয় কিনা জানি না। তবে কবিতার সিরিজ লেখা হয়, লেখা হচ্ছেও। যেমন –প্রেম সিরিজ। পুরী সিরিজ ইত্যাদি।

কিন্তু, মাথা থেকে ওই ফ্রি ফিপটির বিষয়টি কিছুতেই সরছে না।
মানে, এই সভ্যতা এখন পাউচ সভ্যতা। কবি সুকুমার চৌধুরীর কবিতার বই ” পাউচ সভ্যতার ” কথা মনে পড়ছে। সমস্ত প্রোডাক্ট যদি না সুদৃশ্য পাউচ প্যাকেটে বন্দী হয়, তাহলে তা বিক্রি করা মুশকিল হয়ে পড়ে। কবিতাকে কি পাউচ করা গেছে? এবং সেই পাউচের গায়ে ফ্রি ফিপটি লেবেল কি সেঁটে দেওয়া গেছে? কী জানি, কবিবন্ধুরা তা নিয়ে বলবেন। বা আলোচনা করবেন।
কবিতা বিক্রির জন্য কবিতার গায়ে এখন অব্দি কোনো লেবেল সাঁটানো গেছে কি? না যদি হয়ে থাকে, তাহলে কবিতা বিক্রির জন্য তেমন লেবেল সাঁটানো জরুরি হয়ে আসবে একদিন। বলা যায় তা এসে গেছে।

এবার রবিবারের হলুদ আড্ডার বিষয় ছিলো
‘ প্রোডাক্ট ‘। মানে আমরা কবিরা সারাজীবন দেশের- দশের বা নিজের জন্য যা কিছু লিখে চললাম, তা সবটাই প্রোডাক্ট। তাকে বাজারজাত করার উপায়ও কবিদের ভাবতে হয়। এই কঠিন সময়ে যত কবিতা প্রোডাকশন হলো,তার বাজারমূল্য নিতান্ত কম নয়। তবে কবি তাকে অকাতরে ফেসবুকের পাতায় বিলিয়ে দিয়ে প্রভূত আনন্দলাভ করেছেন। বলা যায় এই প্রোডাক্ট বর্তমান বাজারে পুরোটাই ফ্রি পাওয়া যায়। কারণ, কবিরা নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে যে বই প্রকাশ করলেন, তাও তিনি অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে আনন্দ পেলেন।

(চলবে)

Home Breaking E - Paper Video Join