TRENDS

তলে তলে করোনা সংক্রমন বাড়ছে ডেবরায়! রবিবার এক লাফে ১৪

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে উঠেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা। সাধারন মানুষ তো বটেই এমন কি জেলার সর্বাধিক আক্রান্ত স্বাস্থ্য কর্মীও এই থানা এলাকায়। আক্রান্তের শীর্ষে উঠেছিল চিকিৎসক, নার্স থেকে আশা কর্মীরাদের আক্রান্তের সংখ্যা।’ দ্য খড়গপুর পোষ্ট’ এই বিষয়ে একটি তথ্যনিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। জুন-জুলাই মাসে এই সংক্রমন কিছুটা স্থিমিত হয়েছিল, এমন কি আগষ্ট মাসের গোড়াতেও সংক্রমন কিছুটা কমের দিকে ছিল কিন্তু ইদানিং সেই সংক্রমন ফের বাড়ছে বলেই পরিসংখ্যান বলছে।

আমরা প্রথমে সেই পরিসংখ্যানটা একবার দেখে নিতে পারি। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ২১ শে আগষ্ট ২০২০ অবধি সরকারি হিসাবে ডেবরা ব্লকে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ জন। ওই তারিখে ব্লক এলাকায় সক্রিয় আক্রান্ত ছিলেন । অন্যদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন । ব্লকে ২জনের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। পরের ১৪দিনের মাথায় অর্থাৎ ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মোট আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১৮৩ জন। ওই তারিখে সক্রিয় আক্রান্ত ৮৩ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৮ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়েনি, ২জনই রয়েছেন। এর পরে কোনও রিপোর্ট অবশ্য আমাদের হাতে আসেনি কিন্তু জেলার কোভিড পজিটিভ তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিনই দু’একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকদিন এমনও গেছে যে ব্লকে কোনও নতুন আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি।

হিসাবটা কিছুটা হলেও বদলে গেছে ২৭ শে সেপ্টেম্বরের রিপোর্টে। আ্যন্টিজেন ও আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক এই দিন অন্ততঃ ১৪জনের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ জনের আ্যন্টিজেনে পজিটিভ হয়েছে। বালিচক রঘুনাথপুর এবং মুড়াস্থি গ্রামে যথাক্রমে ৫২ ও ৩৮ বছরের ২ গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন। এঁরা পারিবারের কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্ষে এসেই আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ এই এলাকায় আগে থেকেই সংক্রমন রয়েছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী ভোগপুর এলাকায় নতুন করে সংক্রমিত ৪ জন। এই ভোগপুর এলাকার কয়েকটি এলাকাকে শুধু ভোগপুর, ডুঁয়া ভোগপুর এবং ভোগপুর বালিচক বলা হয়েছে। সেই হিসাবে শুধু ভোগপুরে ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধা, ডুঁয়া ভোগপুরে ৪৯ বছরের গৃহবধূ এবং ৩৩ বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন, ভোগপুর বালিচকের ঠিকানায় আক্রান্ত ৬৬ বছরের এক বৃদ্ধ।

এছাড়াও আনিসেগেড়িয়া অর্জুনিতে ৩০ বছরের যুবক, সত্যপুরে ৪০ বছরের গৃহবধূ, বউলাসিনী ভরতপুরে ২৬ বছরের যুবতী আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গোপকাঁথি ও কালিদহ,খানামোহন এলাকায় ৩২ ও ২২ বছরের যুবক সংক্রমিত হয়েছেন। মির্জাপুর ও কমলপুরে ৪৫ বছর বয়সী ১জন করে মহিলা ও পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। শ্রীরামপুর, রাতুলিয়াতে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধার শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। এই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ডেবরা ব্লকের পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত (অর্জুনি-রাতুলিয়া)এবং দক্ষিণ থেকে উত্তর(ডুঁয়া-ভরতপুর) সংক্রমন রয়েছে।

এর ৪৮ ঘন্টার আগে অর্থাৎ ২৫তারিখের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা যাবে (দ্য খড়গপুর পোষ্টে প্রকাশিত) ডুঁয়া সংলগ্ন এলাকাটি ব্লকের বর্তমান করোনা হটস্পট হয়ে রয়েছে। ওই দিনের রিপোর্টে হরিহরপুর ডুঁয়া এবং কালুয়া আকুব ডুঁয়াতে মোট ৩ আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। ২৫ তারিখের আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক ডেবরা ব্লক এলাকায় আক্রান্ত ছিলেন ৯ জন। ২৭ তারিখ ওই আরটি/পিসিআর রিপোর্টে আক্রান্ত ১২জন। সব মিলিয়ে ডেবরা ব্লক এলাকায় করোনা ফের মাথা চাড়া দিতে চলেছে এমনই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যা সামান্য করোনা বিধি মেনে চললেই নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।           ডেবরা এলাকার তথ্য সমন্বিত খবরের জন্য আমাদের fb পেজ লাইক করে রাখুন।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join