TRENDS

ঢাকে কাঠি পড়ল খড়গপুর মেদিনীপুরের ২৫০ পুজা কমিটির, বাঁশ পড়ছে কাল থেকেই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: ছোট বড় মিলিয়ে দু শহরে পুজা হয় ২৫০টি তার মধ্যে মেরে কেটে ২০টা পূজা কমিটির খুঁটি পুজা হয়েছিল। বাকি উদ্যোক্তারা কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। কী পদ্ধতিতে কেমন ভাবে মন্ডপ হবে, কত মানুষ এক সঙ্গে মন্ডপে প্রবেশ করতে পারবে, রাতে প্রতিমা দর্শন করা যাবে কিনা এই নিয়ে সংশয় ছিল পুজা কমিটির গুলির মধ্যে আর সেই কারনে প্রায় কোনও উদ্যোগই নেয়নি পূজা কমিটি গুলি।

বৃহস্পতিবার সেই সংশয় কেটে গেল। খড়গপুর টাউন থানা ও মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার তরফে বিকালে আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল দুই শহরের সমস্ত পূজা কমিটিকে। জয়েন্ট স্ক্রিনে দেখানো হল পূজা সম্পর্কে মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য। আর তার পরেই পরিষ্কার হয়ে গেল পূজোর চিত্রটা। সব মিলিয়ে যেটা দাঁড়ালো তা হল পূজো হচ্ছে এবং হচ্ছে প্রায় কোনোও নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই।

দান ধ্যান প্রসাদ ভোগ সিঁদুর খেলা সবই করা যাবে, শুধু একটু দেখে নিলেই হবে! সঙ্গে সরকার দিচ্ছে বাড়তি ৫০ হাজার ফলে সব মিলিয়ে এবার পূজো হয়ে যাচ্ছে প্রায় জয়েন্ট ভেঞ্চার। ফলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন উদ্যোক্তারা, ঢাকে কাঠি পড়ে গেল দুই শহরের। আগামীকাল থেকেই অনলাইনে আবেদন পত্র জমা করে দিতে বলেছে পুলিশ। আর তারই পাশাপাশি মন্ডপের জন্য বাঁশ পড়ে যাবে বকেয়া প্যান্ডেল গুলির জন্য। কিছু কিছু পূজা কমিটি লকডাউন শুরুর আগেই বুকিং করে ফেলেছিল বাজেটে কাটছাঁট শুরু করেছে তারাও।

যেমন খড়গপুর শহরের উত্তর তালবাগিচা পূজা কমিটির শুধু মূল মন্ডপের বাজেট ছিল ২লাখ টাকা। তাঁরা সেটা কমিয়ে ৫০ হাজারে এনেছেন, ১৫ লাখের পূজা ২লাখেই সারার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুজোর বাজেট কাটছাঁট করছে মালঞ্চ আদি পূজা কমিটি, ইন্দার ইঙ্গিত, প্রেমবাজার ইত্যাদি সর্বত্রই বিগ বাজেটের পুজোয় এবার লম্বা ছাঁট।

মেদিনীপুর শহরের বিধাননগর, অরবিন্দনগর, রাঙামাটি, কর্নেলগোলা আদি সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটিরও একই অবস্থা। কর্নেলগোলার ৮ লাখ বাজেটের পূজা নেমে এসেছে ৩লাখের নীচে। রশিদ বই-ই ছাপানো হয়নি বলে জানালেন উদ্যোক্তাদের অন্যতম আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত। ডিসেম্বর মাসেই ঠিক হয়েছিল এবারের পূজো উৎসর্গ করা হবে দেড়শ বছরের জন্মদিনে পা রাখা শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনকে। করাও হয়েছে কিন্তু হবে নম নম করেই। কার্যত বৃহস্পতিবার মূখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই কাল থেকে উঠে পড়া লাগা।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join