TRENDS

মেডিক্যাল কলেজ থেকে গায়েব করোনা রোগী, সপ্তাহভর খোঁজাখুঁজির পর মৃত ঘোষণা কর্তৃপক্ষের

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : কখনও বেড না থাকার অজুহাতে রোগী ভর্তি না নেওয়া, কখনও আবার রোগী মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে বাঁচিয়ে রাখা, করোনা আবহে এধরণের একাধিক অভিযোগে বারংবার শিরোনামে এসেছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফের আরও নাম উঠে আসলো কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। বৃহস্পতিবার সকালে খোদ চিকিৎসক পরিবারকে জানান, সিসিউতে আছেন করোনা রোগী। কিন্তু বিকেল হতেই অন্য চিত্র৷ হেল্পলাইনে ফোন করলে, জানা যায়, গত এক সপ্তাহে ওই নির্দিষ্ট নামের করোনা রোগী হাসপাতালে নেই। তাহলে গেল কোথায়? বৃহস্পতিবার বিকেলে এমনি ঘটনার সাক্ষী থাকলো কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

জানা গিয়েছে, গত মাসে কৃষ্ণদাস সূত্রধর নামে এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। গত সোমবার পর্যন্ত পরিবারের সাথে কথা হয়েছে রোগীর। যথেষ্ট সুস্থও ছিলেন কৃষ্ণদাসবাবু। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে একেবারেই বেপাত্তা। যেহেতু করোনায় আক্রান্ত, সেকারণে দেখা করার জোঁ নেই। ফোনই একমাত্র ভরসা৷ কিন্তু মঙ্গলবার থেকে তাকে ফোনেই পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, সেরিব্রাল অ্যাটাক হওয়ায় তাঁকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। রোগী কোমায় থাকলেও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

চিকিৎসকের কথা শুনে সামান্য স্বস্তিতে ছিলেন রোগী পরিবার। কিন্তু রোগীর খোঁজ নিতে হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতেই হতবাক রোগী পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, হেল্পলাইনে ফোন করলে হাসপাতাল তরফে বলা হয়, গত এক সপ্তাহের মধ্যে সিসিউতে কৃষ্ণদাস সূত্রধর নামে কোনও রোগীই ভর্তি হয়নি। এই কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই কিছু বুঝতে না পেরে খোঁজাখুঁজি শুরু করে রোগী পরিবার। এরপর বৃহস্পতিবার আবার হেল্পলাইন নম্বর ফোন করে প্রতিনিধিদের চাপ দিতেই তাঁরা জানান, বৃহস্পতিবারই মারা গিয়েছেন কৃষ্ণদাস সূত্রধর। এবিষয়ে রোগী পরিবারের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে হেল্পলাইন নম্বর সকলেই কিছু না কিছু লোকাচ্ছে।

যদি সত্যিই রোগী বৃহস্পতিবার মারা যান এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রোগী সিসিইউতেই থাকেন, তবে হেল্পলাইন নম্বর থেকে কেন বলা হল রোগী সিসিইউতে নেই? রোগী পরিবারের দাবি, সোমবারই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ইচ্ছে করেই সিসিইউর গল্প সাজিয়েছিলেন চিকিৎসক। এবিষয়ে স্ত্রী দুর্গা সূত্রধর বলেন, “আমার স্বামী ফোনে অভিযোগ করতেন ঠিক করে খেতে দেওয়া হচ্ছে না। হার্ট ব্লক থাকায় প্রতিদিন ওষুধ খেত। কিন্তু সেটাও ভাল করে দেওয়া হচ্ছিল না।” যদিও এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে আপাতত কিছুই জানানো হয়নি। তবে এই বিষয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একজন আধিকারিক জানান, এই বিষয় সম্পর্কে কোনও তথ্য তাদের কাছে নেই৷ তবে যদি পরিবারের তরফে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা করা হয় তবে ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে৷

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join