TRENDS

হায়দ্রাবাদের ঘটনার চেয়েও ভয়ংকর হলদিয়া কান্ড, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল মা ও মেয়েকে! গ্রেপ্তার লোকসভা নির্বাচনে ভোট লুট করতে যাওয়া সাদ্দাম

Abhirup Maity
হায়দ্রাবাদের ঘটনার চেয়েও ভয়ংকর হলদিয়া কান্ড, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল মা ও মেয়েকে! গ্রেপ্তার লোকসভা নির্বাচনে ভোট লুট করতে যাওয়া সাদ্দাম
খুন হওয়া মা ও মেয়ে , সৌজন্যে ফেসবুক 

 নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি হলদিয়ার ঝিকুরখালিতে হুগলি নদীর চর থেকে উদ্ধার হওয়া দুই দগ্ধ মহিলা সম্পর্কে মা ও মেয়ে এবং হলদিয়াতে তাঁদের ডেকে এনে অচেতন করে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল পেট্রোল ঢেলে। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানালেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখার্জী।    মাস খানেক হায়দ্রাবাদে তরুনী পশু চিকিৎসক পুজা রেড্ডিকে ধর্ষন করার পর জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল দেশ। কিন্তু হলদিয়ার ঘটনা সেই বীভৎসতাকেও হার মানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করার পর নিউ ব্যারাকপুরের মা ও মেয়েকে হলদিয়ায় নিয়ে আসা হয় এবং তারপর এই ঘটনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুলিশ জানিয়েছে নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা রিয়া দে (২২)ওরফে আয়েশা দের সাথে ফেসবুক মারফৎ পরিচয় দুর্গাচকের বাসিন্দা, ঠিকাদার সেখ সাদ্দাম হুসেনের , পরে তা প্রেমে পরিনত হয়। সম্ভবত এরপরেই রিয়া আয়েশা নামটি ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।  বেশ কয়েকমাস পরে তা ঘনিষ্ট হয়। সেই সূত্রেই রিয়া ও তার মা রোমা (৪০) হলদিয়ায় আসে। হলদিয়াতে তারা সাদ্দামের আশ্রয়েই কোথাও ছিল। আর সেখানেই কোনও কারনে গন্ডগোল ও বচসা হয় মা ও মেয়ের সাথে। হয়ত সাদ্দামের কোনও বিষয় মা ও মেয়ে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারপরই তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এরপরই মা ও মেয়েকে অচেতন করে নিয়ে আসা হয় ঝিকুর খালির নির্জন চরে এবং পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ ও ফরেনসিক দল কয়েকটি সুত্র পায়। 

হায়দ্রাবাদের ঘটনার চেয়েও ভয়ংকর হলদিয়া কান্ড, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল মা ও মেয়েকে! গ্রেপ্তার লোকসভা নির্বাচনে ভোট লুট করতে যাওয়া সাদ্দাম
সাদ্দাম (নীল জামা) ও মঞ্জিল, হলদিয়া 

যেমন মেয়ের চুলের রং বাদামি ও মাঝখানে সবুজ। মায়ের কানে ব্যবহৃত এসজেপি ও কেডিএম খোদাই করা স্বস্তিক প্যাটার্ন সোনার দুল। বিস্তারিত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনও দেয় পুলিশ। সাথে সাথে খোঁজ চলে জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় একই সাথে দুই মহিলার নিখোঁজ হওয়া কোনও খবর আছে কিনা। পুলিশের এই বিজ্ঞাপন দেখে দুর্গাচকের কেউ কেউ ওই এলাকায় তাঁদের দেখেছে বলে জানায়। পাশাপাশি অকুস্থলে এসে বারংবার ঘটনার গতি প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করে পুলিশ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এলাকার মানুষজনের সংগে কথা বলে পুলিশ একটা বিষয় বুঝতে পারে যে সাদ্দামের দলবলকে এড়িয়ে ঝিকুরখালিতে কোনও অপরাধ সংগঠিত হওয়া সম্ভব নয়। এলাকার মানুষজনও সাদ্দাম বাহিনীর দিকে আঙুল তুলতে থাকে। এদিকে এলাকার মনোভাব বুঝতে পেরেই সাদ্দামের দলবলের অস্বাভাবিক ভাবে পুলিশের সংগে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করে। প্রায়ই তাদের থানা ও সার্কেল অফিসে যাতায়াত বাড়তে থাকে। সম্ভবত তদন্তকে অন্যপথে ঘোরতে চাইছিল তারা। এতে স্থানীয় মানু্ষের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। 

হায়দ্রাবাদের ঘটনার চেয়েও ভয়ংকর হলদিয়া কান্ড, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল মা ও মেয়েকে! গ্রেপ্তার লোকসভা নির্বাচনে ভোট লুট করতে যাওয়া সাদ্দাম
লোকসভায় ভোট লুট করতে গিয়ে ধরা পড়া সাদ্দাম 

শুক্রবার সাদ্দামের দলের এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এরপরই পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় ঘটনায় সাদ্দামের হাত রয়েছে। পুলিশ এবার উচ্চস্তরে বিষয়টি জানায়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত আসে সাদ্দামকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে। সাদ্দাম নিজেও বুঝতে পারে তার গ্রেপ্তার আসন্ন কারন কোনও নেতাই আর তার সংগে যোগাযোগ রাখতে চাইছেনা। এরপরই সাদ্দাম শনিবার সকালে নিজের হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা নাটক তৈরি করে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় সাদ্দামকে। গ্রেপ্তার হয় তার অন্যতম সাকরেদ মঞ্জিল আলম মল্লিককে। রবিবার হলদিয়া মহকুমা বিশেষ আদালত তাদের ১৪দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত অনুমোদন করেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্ত সেখ সাদ্দাম হুসেন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলেই জানা গেছে। গত লোকসভা নির্বাচনে হলদিয়া বিধানসভার অন্তর্গত হোড়খালির পার্বতীপুর প্রাথমিক স্কুলের বুথে অস্ত্রশস্ত্র সহ ৫ সাকরেদ কে নিয়ে ভোট লুট করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে সাদ্দাম। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় যদিও কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায় সে। বিজেপির নেতা প্রদীপ বিজলীর  আভিযোগ,  শাসকদলের হয়েই ভোট লুট করতে গিয়েছিল সাদ্দাম। গোটা হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের নিয়ন্ত্রক ‘ভোলার বাহিনী’ বলে পরিচিত আরমান ভোলার দলের অন্যতম মুখ এই সাদ্দাম দুর্গাচক এলাকায় নিজস্ব বাহিনী নিয়ে কাজ করত। ঠিকাদারির আড়ালে নানা প্রকার কারবারে জড়িত সাদ্দাম।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
যদিও এই মামলায় এখনও অনেক তথ্য পুলিশ এখুনি যোগাড় করতে পারেনি, সাদ্দামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সম্পূর্ন চিত্রনাট্য উদ্ধার করতে চাইছে পুলিশ। যেমন মা ও মেয়েকে কেন আনা হয়েছিল, কোথায় রাখা হয়েছিল, কি ভাবে তাদের অচেতন করা হয় , কোন গাড়িতে তাদের চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্পুর্ন ঘটনা উন্মোচনের পর পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে বলেই জানা গেছে।      

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join