TRENDS

পুলিশ জানালো পজিটিভ, স্বাস্থ্যভবন জানালো নেগেটিভ, পুরো ঘেঁটে ‘ঘ’ খড়গপুরের পরিবার

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ একটি ফোন এল খড়গপুর আরামবাটির পরিবারে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে জানানো হল পরিবারের ২ কন্যা করোনা পজিটিভ। দুদিন আগেই খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে নমুনা দিয়ে এসেছিল পরিবার।পরিবারের এক সদস্য আগেই পজিটিভ হয়েছিল ফলে শঙ্কা ছিলই। পুলিশের বার্তায় সেই শঙ্কা সত্যি হল।

পুলিশের তরফে জানতে চাওয়া হল আক্রান্তদের কোনও উপসর্গ আছে কিনা? পরিবারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, না, কোনও উপসর্গ নেই। ওপাশ থেকে জানানো হল, বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে রাখুন ওদের। মেডিক্যাল টিম গিয়ে পরীক্ষা করবে ওদের, প্ৰয়োজনে ওষুধ দিয়ে আসবে। রাতটা কাটল কোনও রকম।

বুধবার দুপুরে ফের ফোন পুলিশের। এবার খড়গপুর টাউন থানা। ফের এক প্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদ এবং সেই বাড়িতে থাকার নিদান এবং আবার পুলিশ জানিয়ে দিল ওরা পজিটিভ। সে ভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল পরিবার। দুটি মেয়েকে আলাদা একটি ঘরে রাখার। কিন্তু গুবলেট করে দিল একটা ম্যাসেজ। মোবাইলে আসা ওই ম্যাসেজে বলা হল দুই মেয়েই নেগেটিভ! ম্যাসেজ এসেছে htpp://cpms.wbhealth.gov.in এই ঠিকানা  থেকে যা কিনা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ওয়েবসাইট। কী করবে পরিবার। এবার ফোন করা হল পুলিশে। পুলিশ জানালো পাক্কা পজেটিভ। মেডিক্যাল টিম যাচ্ছে। মেডিক্যাল টিম এল, ওষুধ দিয়ে গেল।

কিন্তু পরিবারের ধন্দ কাটেনা। ধন্দ এই কারনেই যে পুলিশ বলেছে বটে পজিটিভ কিন্ত কোনও কাগজ দেয়নি অন্যদিকে স্বাস্থ্যভবনের ম্যাসেজটা তো ডকুমেন্ট। এবার ওই ম্যাসেজে দেওয়া ফোন নম্বর ধরে রিং করা হল। ও পাশ থেকে উত্তর দেওয়া হল, আপনাদের কোনও কাগজ দিয়েছে? পরিবার বলল, না তা দেয়নি বটে তবে পুলিশ বলে কথা। তারপর দু’জায়গা থেকে ফোন করে জানিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের ফোন একটু থমকে গেল, তারপর বলল, আপনারা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। আসলে আমাদের কাছেও খবর আসছে যে কিছু ভুল হচ্ছে।

এবার জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল দ্য খড়গপুর পোষ্টয়ের তরফে। জেলা জানালো, পুলিশের কথাই ঠিক জানবেন কারন ওঁদের রিপোর্ট পাঠাই আমরাই। তাহলে স্বাস্থ্যভবনে কারা রিপোর্ট পাঠায়? একই নাম, ঠিকানা, আইডি নম্বর! স্বাস্থ্য কর্তার জবাব, রিপোর্ট জেলা থেকেই যায় কিন্তু কোথাও কিছু সমস্যা হচ্ছে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে জানা নেই, কিন্তু সমস্যায় জর্জরিত গোটা পরিবার।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join