TRENDS

করোনার ভয় দুরে সরিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছালেন বিজেপি তৃণমূলের সদস্যরা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজনৈতিক দলাদলি আর কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে একটু ব্যতিক্রমী চিত্র নজরে পড়ল গোপীবল্লভপুর ১নম্বর ব্লক এলাকায়। গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম জেলার এমন একটি জায়গা যেখানে শাসকদল তৃনমূল আর বিজেপির মধ্যে রেষারেষি তীব্র। রেষারেষি আরও এই কারনে যে এখানকার পঞ্চায়েত সমিতির দখলে আবার বিজেপি। তবুও এসবের বাইরে গিয়ে সোমবার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য নজরে পড়ল। রাস্তায় পড়ে থাকা এক ভবঘুরের লাশ দু’দলের সদস্যরা মিলে পৌঁছে দিলেন হাসপাতালে।

যুবমোর্চার নেতা সুমন্ত মহান্তি জানান, ‘সোমবার বেলা দুটো চল্লিশ নাগাদ গোপীবল্লভপুর ১ মণ্ডলের সাধারণ বিজেপি সম্পাদক স্বপন রথ আমাকে জানান যে, ছাতিনাশোল চকে রাস্তার ধারে এক ভবঘুরের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। সেই খবর পেয়ে আমি আমাদের যুব মোর্চার কিছু কর্মী প্রসিদ দলাই ,গোপাল ওঝা ও কৃষ্ণ প্রসাদ দাস কে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ওই সময় ওখানে স্থানীয় তৃনমূল নেতা ও সমাজসেবি হেমন্ত ঘোষও ছিলেন। সবার উদ্যোগে আমরা একটি ছোট চারচাকা গাড়ি যোগাড় করি এবং ওই মৃতদেহটিকে তুলে নিয়ে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

মহান্তি জানান, আমরা এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যেখানে সবাই মিলে আগে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। আগে সবাই মিলে করোনাকে হারাবো তারপর নিজেরা রাজনীতির লড়াই করব।যদি না বাঁচি তো রাজনীতি দিয়ে কী হবে? গোটা ঘটনা দেখে খুশি সাধারণ মানুষও। তাঁদের বক্তব্য, এই ভাবে যদি সমস্ত রাজনৈতিক দল ভাল কাজে এগিয়ে আসে তাহলে এলাকার খুবই উপকার হয়। কথায় কথায় রাজনৈতিক লড়াইয়ে উভয় দলেরই শক্তিক্ষয় আর এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের এই উদ্যোগে খুবই খুশি গোপীবল্লভপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, “আমাদের খবর পেয়ে লোক জোগাড় করে মৃতদেহ আনতে আনতে হয়ত সন্ধ্যা হয়ে যেত। কারন কোভিড নিয়ে সমস্ত হাসপাতাল কর্মীই প্রচন্ড ব্যস্ত। সেই জায়গায় এঁরা যা করেছেন তা অতুলনীয়। করোনার নাম শুনেই এখন ভয় পায় মানুষ কাছে যাওয়া তো দূরের কথা। সেই জায়গায় এঁরা সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যে এক সাথে কাজ করেছেন তা প্রশংসনীয়।”

হাসপাতালে আসার পর ওই মৃতের করোনা পরীক্ষা করা হয় এবং তা নেগেটিভ আসে। সুমন্ত মহান্তি এবং স্বপন রথ মহাশয় প্রতিটি সাধারন মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাঁরা এও আহবান জানিয়েছেন, এই করোনা মোকাবিলায় আমরা যেন সবাই মিলে একজোট হয়ে মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে পারি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join