TRENDS

অনেক হয়েছে, আর নয়! ফেসবুকে গর্জে উঠলেন খড়গপুরের প্রবীন তৃনমূল নেতা জহর পাল, গঠনের পর ভাঙনের শুরুও কি তাঁরই হাত ধরেই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১৯৯৮ খড়গপুরের মরুভূমিতে ঘাসফুল ফোটানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন সঙ্গি শ্যমাদাস ঘোষকে নিয়ে। এখন শুধু ফুল নয় ফুলের মালায় খড়গপুর। যেদিকে তাকানো যায় শুধুই তৃনমূল। তারপর কংগ্রেসের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া পৌর বোর্ড। দল আর দলের ক্ষমতা যখনই প্রয়োজন হয়েছে সঙ্কট মোচনে জহর পাল। এই মাত্র কয়েক মাস খড়গপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে প্রদীপ সরকারকে। অনেক হয়েছে, আর নয়! ফেসবুকে গর্জে উঠলেন খড়গপুরের প্রবীন তৃনমূল নেতা জহর পাল, গঠনের পর ভাঙনের শুরুও কি তাঁরই হাত ধরেইখড়গপুর শহরের তাবৎ তৃনমূল নেতাই প্রদীপকে প্রার্থী করার বিরুদ্ধে কার্যত গোঁসা ঘরে খিল দিয়ে বসে রয়েছেন। নম: নম: করে কাজে নেমেছেন গুটি কয়েক নেতা। জেলার বাইরে থেকে উপনির্বাচন সামলাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী আর শহরের মধ্যে এক এবং অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে দ্বিধাহীন ভাবে ছেলে অসিত পালকে নিয়ে মাঠে লড়ে গেছেন একা এই বর্ষীয়ান নেতা জহর পালই।

পরিনামে তিনি পেয়েছেন শুন্যই। সম্প্রতি রদবদল হয়েছে সারা রাজ্যের সাথে জেলারও কিন্তু তেমন করে ঠাঁই পাননি তিনি। দিন কয়েক আগে দলে কোনও পদ নেই বলে ব্যানার টাঙিয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন শহরের আরেক নেতা দেবাশিস চৌধুরী তথা মুনমুন। ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দলীয় মুখপত্র করে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। তারপরেই জহর পালের এই বিদ্রোহ ২০২১ য়ের আগে ভাবাচ্ছে শহরকে।
জহর পাল তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “খুব পরিস্কার হয়ে গেল, যারা দল বিরুদ্ধ কাজ করবে, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদেরকে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।
আর যারা রক্ত মাংস এক করে , কোনও পদের লোভ না করেই দলের কাজ করে যাবে , তারাই থাকবে অবহেলিত।”
এরপরই তাঁর সংযোজন, ” আর নয়, অনেক হয়েছে।”

খড়গপুর তৃণমূলের গোষ্ঠী রাজনীতিতে জহর পালের নিজস্ব অস্তিত্ব বরাবরের জন্য রয়েছে। প্রদীপ সরকার, দেবাশিস চৌধুরী বা হাল আমলের রবিশঙ্কর পান্ডের মতই জহর পালের একটি নিজস্ব গোষ্ঠী রয়েছে কিন্তু তার গুরুত্ব এখানেই যে অন্য গোষ্ঠী গুলি শুধুমাত্র শহর কেন্দ্রিক, শহরের বাইরে এঁদের সেই অর্থে কোনও ব্যক্তি ভিত্তি নেই কিন্তু জহর পালের শহরের বাইরেও বিশেষ করে খড়গপুর ১ ব্লকে যথেষ্ট ভাল অনুগামী রয়েছে যা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ফ্যাক্টর।

জহর পাল গোষ্ঠীর বক্তব্য, খড়গপুর শহরে শুরু থেকেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠত করা থেকে শুরু করে একক প্রচেষ্টায় কয়েকজন কাউন্সিলর জিতিয়ে আনা এবং অবশেষে কংগ্রেসের হাত থেকে পৌরবোর্ড ছিনিয়ে আনা সবটাই করেছেন একা জহর পাল। কিন্তু দল যখন পরিপূর্ণ ক্ষমতায় তখন কার্যত তাকে বনবাসে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনের সময় তৎকালীন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের নেতৃত্বে তার অনুগামীদের ওপর মিথ্যা মামলা, হুমকি ইত্যাদি দেওয়া হয়েছিল যাতে চেয়ারম্যানের দাবিদার তিনি না হতে পারেন অথচ তিনিই ছিলেন খড়গপুর শহরে তৃনমূল পরিচালিত পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান। বিধানসভা নির্বাচনেও বঞ্চিত করা হয় তাঁকে এমনকি উপনির্বাচনেও তাঁর কথা ভাবেনি দল যদিও সব নির্বাচনে তাঁরই ঘাড়ে ভারি বন্দুক রাখা হয়েছে।

শুধু তাই নয় খড়গপুর সংগঠনের বাইরে জেলাগত ভাবেও তাঁকে এমন কোনোও পদে রাখা হয়নি যা জেলাস্তরকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এরপর এবছরের ২৩জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসেও কোনও কিছু নেই। জহর পালের এক অনুগামীর বক্তব্য, “বঞ্চনার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া কাকার(জহর পাল) কাছে নতুন কিছু নয়। এটাতেই কাকা অভ্যস্ত এবং কোনোও দিনও তিনি মুখ ফুটে কিছু বলেননি। নিজের অনুগামী ও এলাকা নিয়েই ছিলেন কিন্তু কেউ একজন পদ পায়নি বলে দলের বিরুদ্ধে একটা ব্যানার টাঙিয়ে দিল আর অমনি দল তাকে একটা পদ দিয়ে দিল এটাই মানতে পারেননি তিনি। যে দল সিপিএম বিজেপির হুমকির কাছে মাথা নত করেনি সে দল একজন দলীয় কর্মীর কাছে মাথা নত করবে এটাই প্রমান করে যে এই দলটা আর আগের মত নেই।সুতরাং সেই দলে থাকার কথা ভাবতে হবে বৈকি।”

বিষয়টি নিয়ে জহর পালের সঙ্গে কথা বলেছিল দ্য খড়গপুর পোষ্ট। ফেসবুক পোষ্ট করার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নিজের অবস্থানে অটুট থেকেই পাল বলেছেন, “আমি যা পোষ্ট করেছি ঠিকই করেছি। আমার অবস্থান থেকে নড়ছি না।” এখন প্রশ্ন জহর পাল ছাড়া শহর তৃনমূল কী অচল? উত্তরটা মিলবে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই। যদি শুভেন্দু অধিকারী দলের বাইরে গিয়ে হাঁটার কথা ভাবেন এবং এখনও অবধি সেটার সম্ভবনাই প্রবল, যদি শুভেন্দু অধিকারী খড়গপুরে নিজের জায়গা পেতে চান এবং জহর পালের হাত ধরেন তবে তৃনমূলকে ভাবতেই হবে। আর পৌরসভা নির্বাচনের সেমিফাইনালে তার স্বাক্ষর দিতে তৈরি জহর অনুগামীরা। ৩৫ টি ওয়ার্ডের ১২টিতে যথেষ্টই নিজের ক্ষমতা রাখেন জহর পাল। যে দল তিনি নিজের হাতে এই শহরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার ভাঙনও তাঁরই হাতে কী না সেটাই এখন দেখার।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join