TRENDS

এবার ট্রেনে করেই করোনা আসছে গ্রামে গ্রামে, পশ্চিম মেদিনীপুরেই একদিনে সনাক্ত ৬ আক্রান্ত

Chandramani Saha

মেদিনীপুর : বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম মেদিনীপুরের এখানে ওখানে করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলছিল, সুস্থ হয়ে ঘরেও ফিরেছেন সিংহভাগই। পরিস্থিতি যখন প্রায় নিয়ন্ত্রনে এবং স্বাভাবিক তখনই দারুন দুঃসংবাদ। একই দিনে ৬ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এবং এঁরা প্রত্যেকেই সম্প্রতি ট্রেনে করে বাইরে থেকে ঘরে ফিরেছেন। বুধবার গভীর রাতে পাওয়া রিপোর্ট অনুসারে এই ৬ জনের মধ্যে ২ মহিলাও রয়েছেন৷ জেলার দাসপুর ও কেশপুর এলাকার বাসিন্দা এই ৬ জনই পরিযায়ী শ্রমিক এবং সম্প্রতি চালু হওয়া বিশেষ শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে করেই বাড়ি ফিরেছিলেন ৷ ভিনরাজ্য থেকে ফিরেছেন।

গোটা ঘটনায় রীতিমত দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের। ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বেগ সাধারন মানুষের মধ্যেও। জেলা প্রশাসন সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে এই ৬ জনের মধ্যে ৩ জন কেশপুরের ও বাকি ৩ দাসপুরের। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেছেন, ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা সকলেই হোম কোয়ারেনটাইনে ছিলেন। তাদের পরিবারের লোকজনকে চিহ্নিত করে কোয়ারেনটাইন সেন্টারে পাঠানোর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ওই ছয় করোনা আক্রান্তকে বড়মা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জেলার স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে কেশপুরের ৩ করোনা আক্রান্তর বয়স যথাক্রমে ১৮, ২৬ ও ২৭ বছর। গত ১৭ তারিখ তারা মুম্বাই থেকে ফিরেছেন। হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা অবস্থায় তাদের শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে তাদের করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এদিকে দাসপুরের যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে আবার দুজনই মহিলা। একজনের বয়স ২১ তো অন্য জনের বয়স ৩০। অন্য জন হলেন ২৭ বছরের যুবক। তারা একই পরিবারের না হলেও একে অপরের আত্মীয়। গত ১৫ তারিখ তারা দিল্লী থেকে ফিরে হোম কোয়ারেনটাইনে ছিলেন। তাদেরও শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা করা হলে সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের সকলকেই বৃহষ্পতিবার বড়মা করোনা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে জেলায় প্রতিদিনই সাতশ থেকে তিনশ মানুষ প্রবেশ করেছেন। শ্রমিক স্পেশাল ছাড়াও অনেকেই বাস কিংবা অন্যভাবে জেলায় এসেছেন এবং বিভিন্ন থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় নমুনা সংগ্ৰহ করে তা পাঠানো হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরাল ল্যাবে। এই ভাইরাল ল্যাবে প্রতিদিনই ৪০০ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, এছাড়াও ২০০ নমুনা পাঠানো হচ্ছে কলকাতার ২টি বেসরকারি ল্যাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রতিদিনই পরিযায়ীদের নমুনা ছাড়াও জেলার ১৬টি নমুনা সংগ্ৰহ কেন্দ্র থেকে হাজার থেকে বারোশ অবধি নমুনা আসছে। সেক্ষেত্রে একেবারেই উপসর্গ নেই এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হচ্ছে। পরে এঁদেরই কারও কারও উপসর্গ দেখা দিচ্ছে এবং সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন না হওয়ার কারনে অথবা হোম কোয়ারেন্টাইন হওয়ার সুযোগ না থাকার জন্য সন্ক্রমনের সুযোগ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষার ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় পরীক্ষা করতে সময় লাগছে। কখনও কখনও সাতদিন পেরিয়ে যাচ্ছে নমুনার ফল আসতে। ততদিনে সেই ব্যক্তি পরিবারের অন্যদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। বিপদ বাড়ছে এভাবেই। এরপর যখন সবাইকে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে তখন চাপ বাড়ছে প্রশাসনের ওপর।

এখনই এই মুহুর্তে এমন অনেকেই আছেন যাঁদের করোনা ছাড়াই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন কিংবা অনেকের নমুনা সংগ্ৰহ হলেও ফলাফল আসেনি। বুধবার ৬ জনের পজিটিভ রিপোর্টে তাই দুশ্চিন্তা এই যে জেলার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়া বাকি পরিযায়ী ও তাঁদের পরিবারের অবস্থা আদৌ ঠিক আছে তো?

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join