TRENDS

বেলদায় খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু ২শিশুর ! বেআইনি ভাবে কাটা হয়েছে জলাশয় অভিযোগ এলাকাবাসীর

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: সাইকেল চালানো শেখা হয়নি কিন্তু সাইকেলের টায়ার গড়িয়ে বিশ্ব বেড়ানোর স্বপ্ন কার ছোট বেলায় থাকেনা? হাতে একটা ছোট্ট লাঠির টুকরো নিয়ে সাইকেলের টায়ার ছুটিয়ে পাড়া বেড়ানোর সেই মজা নিতে গিয়েই অকালে ঝরে গেল দুটি শিশু। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ির অন্তর্গত সাবড়া গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত দুই শিশু হল সেক রায়েল এবং মির সাকেত। এদের বয়স যথাক্রমে ৬ এবং ৮ বছর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুই শিশুকে আপনমনে খেলতে দেখা গিয়েছিল গ্রামেরই একটি স্থানে। পরে তারা কখন টায়ার চালাতে শুরু করে তা অবশ্য নজরে পড়েনি কারও। কিছুক্ষন পরে প্রতিবেশী ওই দুটি বাড়ির লোকেরা শিশুদুটির খোঁজ করতে শুরু করে কিন্তু সারা গ্রামের সম্ভাব্য সমস্ত জায়গা চষেও তাদের খোঁজ মেলেনি। দুজনেরই বাড়ি পাশাপাশি ফলে দুটিই শিশু একই সাথে খেলত বরাবরই। খোঁজ নেওয়া হয় দুটি পরিবারেরই গ্রামে থাকা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতেও। এরপরই সন্দেহ করা হয় যে পুকুরে পড়ে যেতে পারে তারা। কিন্তু গ্রামের অনেক পুকুর তাই কোন পুকুরে তারা পড়েছে এই নিয়ে ধন্দে পড়েন গ্রামবাসীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন এরপরই গ্রামের রাস্তার পাশে সদ্য কাটা একটি পুকুরের পাড়ে একটি সাইকেলের টায়ার পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের। তখনই কেউ বলে যে দুজনকে সাইকেলের টায়ার ছোটাতে দেখা গেছিল। এর কিছুক্ষন পরেই ভেসে উঠতে দেখা যায় একটি শিশুর দেহ। গ্রামবাসীরা মাছ ধরার জাল ফেলে অপর দেহটি তুলে আনে। খবর পাঠানো হয় জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়িতে। পুলিশ এসে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাঁদের অনুমান টায়ার ছোটাতে ছোটাতে দুরন্ত নেশায় কোনও একটি শিশু অসতর্ক ভাবে প্রথমে পুকুরে পড়ে যায় পরে তাকে উদ্ধার করতেই অন্য শিশুটি পুকুরে নেমে তলিয়ে যায়। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ রাস্তার ধারে এই পুকুরটি পরিকল্পনাহীন ভাবে খাড়া করে কাটা হয়েছে যার ফলে কেউ পুকুরে পড়লে সরাসরি গভীর অংশে তলিয়ে যায়। পুকুর কাটার ক্ষেত্রে যে ধাপ ধাপে গভীরতা তৈরির নিয়ম রয়েছে তা এখানে মানা হয়নি। শুক্রবার খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দেহ দুটি গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছে। গোটা গ্রাম শোকাচ্ছন্ন।  ছবি-প্রতীকি

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join