TRENDS

তামিলনাড়ুর বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! আগুনে ঝলসে অন্ততঃ ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা

Chandramani Saha

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক বিস্ফোরণের জেরে ভয়ঙ্কর পরিণতি বাজি কারখানায়। দুর্ঘটনার কারণে ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু। আহত হয়েছেন ৩২ জন। মৃতদের ৯ জনের দেহ সম্পূর্ণ ঝলসে যাওয়ায় তাঁদের সনাক্তকরনের জন্য প্রচুর কাঠখড় পোরাতে হচ্ছে পুলিশকে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার তামিলনাড়ুর বিরুধানগরের আচানকুলাম গ্রামে।

জানা যায়, এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ এই বিস্ফোরণ হয়। কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বাজির মশলা ও দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে দশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থলে দমকলের ৩ টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই বাজি তৈরি হচ্ছিল কারখানায়। কোনওভাবে বাজির মশলা তৈরির সময় বিস্ফোরণ হয়। আগুন ধরে যায়। এতবেশি দাহ্য বস্তু ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় আগুন বিধ্বংসী চেহারা নেয়। যে শ্রমিকরা ভেতরে কাজ করছিলেন তাঁরা অনেকেই বেরিয়ে আসতে পারেননি। আটকে পড়েন অনেকেই। আতঙ্কে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। দমকল জানিয়েছে, সেইসময় শ্রীমারিয়াম্মান ফায়ারওয়ার্ক কারখানায় প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ১৫ জনের মৃত্যু ও ৩২ জন জখম হয়েছেন। আরও যারা আটকে ছিলেন, তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলে জোরকদমে। মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও আছে।

আহতদের শিবাকাশি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জখমদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গেছে অনেকের। বাজি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্যুইটারে তিনি লিখেছেন, “বিরুধুনগরের বাজি কারখানায় আগুন লেগেছে। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতদের সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আশা করব তাঁরা খুব তাড়াতাড়ি সেরে উঠবেন।”

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আগুনে পুড়ে মৃত শ্রমিকদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আহতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা করে।
কারখানায় মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ই পলানীস্বামী। জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবারপিছু ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আহত শ্রমিকদের পরিবারপিছু দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা করে।

কি কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা সঠিক জানা না গেলেও, স্থানীয় সূত্র জানা গিয়েছে, ওই কারখানাটি বেআইনিভাবে একাধিক ঠিকাদারকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পূর্ণ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join