TRENDS

মৃত্যুর পর ১২ ঘন্টা পার! করোনা রোগীর দেহ সৎকারে গাফিলতি গাইঘাটা প্রশাসনের

Abhirup Maity

ওয়েব ডেস্ক : মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে প্রায় ১২ ঘণ্টা৷ করোনা রোগীর দেহ পরে রয়েছে ঘরে। মৃত্যুর পর পরিবারের তরফে প্রশাসনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। বুধবার মর্মান্তিক এই ঘটনার সাক্ষী থাকলো বনগাঁর গাইঘাটা। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া সোনাটিকারিয়া এলাকায়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সপ্তাহ খানেক ধরেই ওই ব্যক্তি জ্বর-কাশি সহ একাধিক করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিন আগেই তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। রিপোর্টে জানা যায় ওই ব্যক্তি করোনায় সংক্রমিত। এরপরই তাকে দ্রুত বনগাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু দিনকয়েকের মধ্যেই ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে, হাসপাতাল থেকে তাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের তরফে তাকে ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেই মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। এরপর মঙ্গলবার বাড়িতেই আচমকা মৃত্যু হয় ওই করোনা রোগীর। এই ঘটনায় মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, যেহেতু তাঁর দাদা সপ্তাহ খানেক আগেও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, সেহেতু দাদার মৃত্যুর পর পরই তিনি প্রশাসনকে দাদার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁর দেহ সৎকারের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এদিকে মৃত্যুর পর প্রায় ১২ ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, ফলে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবেশীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে চাঁদপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপককুমার দাস বলেন, “এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিডিও এবং বিএমওএইচ-কে জানিয়েছি। যা করার তাঁরাই করবেন।” গাইঘাটার বিডিও বিব্রতকুমার বিশ্বাস বলেন, “সরকারি নিয়ম মাফিক প্রক্রিয়া চলছে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি ওনার সৎকারের।” এই ঘটনায় গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোবিন্দদাস বলেন, “মৃত ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে বনগাঁ মহাকুমা হাসপাতালে ভরতি। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁর হোম আইসোলেশনে থাকার সময়সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে। উনি সুগারের রোগী ছিলেন। অতি দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” তবে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও সূত্রের মারফত জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেহ সৎকারের কোনোরকম ব্যবস্থাই করেনি গাইঘাটার প্রশাসন।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Home Breaking E - Paper Video Join