TRENDS

কর্মী নিরাপত্তায় এবার ‘ স্যানিটাইজ শাওয়ার’ বসালো রেলের খড়গপুর ডিভিসন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনের কারনে মানু্ষের অবাধ যাতায়তে বেড়ি পরাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেন বা যাত্রী পারিবহন বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় রেল কিন্তু বন্ধ হয়নি পন্য পরিষেবা বা ফ্রেইড করিডোর। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানু্ষের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সমূহ পৌঁছে দিতে বরং এখন আরও বেশি বেশি করে ট্রেন ছুটছে। ফলে ঘুম নেই রেলের চালক, গার্ড সহ নানা ধরনের কর্মীদের। মারণ ব্যাধির ভাইরাসের লাল চোখ উপেক্ষা করেই তাঁদের ছুটতে হচ্ছে কাজে। পাশাপাশি এই ব্যবস্থাকে বজায় রাখার জন্য বহাল রয়েছেন আধিকারিক থেকে করনিকদের একটা বড় অংশই। লকডাউনের বাজারে এঁদের ছুটি নেই।

এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরপত্তাকে নিশ্চিত করতে করোনা মোকাবিলায় অভাবনীয় উদ্যোগ নিল দক্ষিনপূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশন। রেলের চালক, সহকারি চালক, গার্ড, কর্মী, আধিকারিকদের জন্য ‘ক্রু লবি’ তে স্যানিটাইজ শাওয়ার তৈরি করল খড়গপুর ডিভিশন কর্তৃপক্ষ। রেলস্টেশন চত্বরের ক্রু লবিতে যিনিই প্রবেশ করবেন বা সেখান থেকে বের হয়ে আসবেন তাঁকে এই শাওয়ারের মধ্যে দিয়েই যেতে হবে। কুয়াশা ঝড়ের মত এই শাওয়ার শরীরের বাইরের অংশে থাকা জীবানু মুহূর্তে নাশ করে দেবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কারিগরী আধিকারিক।

এই জীবানুনাশক শাওয়ার তৈরির প্রধান কারিগর খড়গপুর ডিভিশনের ইনসপেক্টর অব ওয়ার্কস দীপক শর্মা জানিয়েছেন, ” প্রতিহাজার লিটার জলে ১ পিপিএম সোডিয়াম হাইপ্রোক্লোরাইড ব্যবহার করা হচ্ছে এই মিশ্রনে। মাত্র কয়েক সেকেন্ড থমকে এই শাওয়ারের মধ্যে দিয়ে এদিক থেকে ওদিক চলে গেলেই ‘ডিস ইনফেকটেড’ হয়ে যাবে শরীরের বহিরাঙ্গ। এরফলে যাঁরা অফিসে কাজ করেন তাঁরাও যেমন নিরাপদ তেমনই অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথেও আমাদের কর্মীরা নিরাপদ হয়েই বাড়ি ফিরবেন, বাড়ির সদস্যরাও নিরাপদ।”

রেলের এই উদ্যোগে খুশি এবং স্বস্তিতে কর্মীরা। এক কর্মী জানালেন, ” বাড়ি থেকে বেরুনো ছাড়া আমাদের উপায় নেই। প্রতিদিন যেভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকি। আতঙ্কে বাড়ির লোকেদেরও। এই ব্যবস্থায় শুধুই আমি নই , নিরাপদ হল আমাদের পরিবারও । কারন বাড়ি থেকে শুধু আমি বের হই। তাই আমার থেকে পরিবারে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভবনা রইলনা।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join