পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থানার অন্তর্গত জামনা নামক এলাকায়। মৃতা ছাত্রী স্থানীয় ডেবরা ক্ষুদিরাম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে কারন সাড়ে তিনটা নাগাদ ওই মেয়েটির খোঁজ শুরু করে পরিবার আর তখন থেকেই তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিলনা। মৃতার বাবা জানিয়েছে, ‘দুপুরে আমি, আমার স্ত্রী এবং মেয়ে মিলে একই সাথে খাবার খেয়েছি। এরপরই আমার মেয়ে আমার কাছে সাবান চায় খাবার বাসনগুলি ধোয়ার জন্য। সেই সাবান নিয়ে সে বাড়ির পেছনের দিকে বাসন ধুতে চলে যায়। আমিও বাজারের দিকে চলে যাই। দুপুর সাড়ে তিনটা নাগাদও মেয়ে ফিরছেনা দেখে খোঁজ শুরু হয় কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা।”
ওই ছাত্রীর বাড়ির লাগোয়া ছাত্রীর কাকিমা জানান, ‘একবার সাবমার্শিবল পাম্প চালিয়ে আমরা সবাই বাসনপত্র ধুয়ে নেই আমরা। সেই বাসন ধুয়ে আমিও আসার একটু পরেই দিদি (মেয়েটির মা) আমাকে জানান ওকে পাওয়া যাচ্ছেনা। মেয়ের কাছে সব সময় ফোন থাকত কিন্তু এদিন ফোন করার পর দেখা যায় ফোনটি সে বাড়িতেই ফেলে রেখে গেছে। আত্মীয় স্বজন সব জায়গাতেই ক্রমাগত ফোন করা হতে থাকে। কিন্তু কোথাও খোঁজ মিলছিলনা। ইতিমধ্যে ওর বাবা ফিরে আসে। ওঁদের বাড়ির ঠিক পেছনেই একটি পুরানো মাটির বাড়ি ভেঙে তার দেওয়াল ইট দিয়ে গাঁথা হচ্ছিল। সেই কাজে নিযুক্ত ছিল ২জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। ছাত্রীকে খুঁজতে খুঁজতে ওই ঘরের মধ্যে মেয়ের মা ঢুকে দেখতে পায় বিবস্ত্র অবস্থায় ঝুলছে মেয়েটি। শরীরের কিছু অংশে রয়েছে রক্তের দাগ। ঘটনা দেখার পরই প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন আমার জা।”
এদিকে ঘটনার খবর জানতে পেরেই ভিড় করে আশেপাশের মানুষ। তাঁরাই আটকে রাখে ওই তিন দিনমজুরকে। ছুটে আসে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় মেয়েটির দেহ যা বর্তমানে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিংলা গ্রামীন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। দিনমজুরিতে কর্মরত মহিলা সহ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কী না, একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি ধর্ষণ অথবা খুনের সঙ্গে যুক্ত কীনা এসব তদন্তের পরই জানা যাবে। ডাক্তারি পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া এখুনি পুলিশের পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। এই ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত স্বাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর কাকিমা বলেছেন, “একটি ফুলের নিষ্পাপ মেয়ের জীবনকে যারা এত নৃশংসভাবে শেষ করে দিল তাঁদের ফাঁসি চাই যেন আর কোনও অপরাধী কোনও মেয়ের দিকে নোংরা দৃষ্টি নিয়ে তাকাতে না পারে।”
উল্লেখ্য এই পরিবারের দুই কন্যাসন্তান। এই ছাত্রীটি ছোট, তাঁর একমাত্র দিদি রয়েছে যাঁর কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে হওয়ার কথা। ঘটনার সময় সে অবশ্য ছিলনা। পড়াশুনার সূত্রে বাইরে থাকে সে। খবর পেয়ে সে রওনা দিয়েছে। মেয়ের বাবা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই আমার স্ত্রী স্থবির হয়ে রয়েছেন। তিনি হার্টের রুগী। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছিনা। হতচকিত ভাব কাটিয়ে উঠে দোষিদের কঠিন শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে ওই এলাকা।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…