Homeএখন খবরনিমতিতায় রাজ্যের মন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার ২

নিমতিতায় রাজ্যের মন্ত্রীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার ২

নিউজ ডেস্ক: নিমতিতায় রাজ্যের শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর বোমা হামলায় সিআইডির হাতে গ্রেফতার হল ২ অভিযুক্ত। ধৃতরা হল, মুর্শিদাবাদের সুতির বাসিন্দা আবু সামাদ ও সহিদুল ইসলাম ওরফে কেমিক্যাল সহিদুল। এই বিস্ফোরণকাণ্ডে এদের সরাসরি যোগাযোগ আছে বলে দাবী সিআইডির। ধৃতদের নামে ৩২৬, ২০৭, ১২০বি, ৩/৪ইএস ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আবু সামাদকে আদালতে তোলা হলে তাকে ১২ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ দুষ্কৃতকারীদের ছোঁড়া বোমায় গুরুতর জখম মন্ত্রী জাকির হোসেন সহ বেশ কয়েকজন। মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখেই মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়। কলকাতা ফেরার জন্য প্ল্যাটফর্মের দিকে ট্রেন ধরতে যাচ্ছিলেন শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। তখনই মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। গুরুতর জখম হন মন্ত্রী ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গী। সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী ও আহতদের সকলকে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গীপুর হাসপাতালে। শুরু হয় অস্ত্রোপচার। কিন্তু কেন আক্রান্ত হলেন একজন মন্ত্রী? এই হামলার নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে?- সবটাই ছিল ধোঁয়াশা।

তৃণমূল সূত্রে দাবী করা হয়, জেলায় গরু পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন মন্ত্রী। এ নিয়ে এলাকার কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে তঁর বিবাদও ছিল, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট ছিলেন জাকির হোসেন। পাশাপাশি, দলের একাংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ছিল বলেও দাবী অনুগামীদের। আক্রান্ত হতে পারেন বলে রঘুনাথগঞ্জ থানায় অভিযোগও দায়ের করেন জাকির হোসেন। কংগ্রেসর ইঙ্গিতও একই দিকে ছিল।

ঘটনা ঘিরে তুঙ্গে ওঠে রাজনৈতিক তরজা। পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যের তরফে স্টেশনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। স্টেশনে আলো না থাকার কথাও বলা হয়। রেল ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের জানিয়েছে, স্টেশনে অন্ধকার ছিল না। ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বিস্ফোরণেই আলো নেভে। সিসিটিভি কিংবা আরপিএফ নজরদারিও ছিল পর্যাপ্ত। তদন্তকারী দল পৌঁছায় ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে রেল লাইন থেকে লোহার কনটেনারের টুকরো, ক্যাপাসিটার, বাইকের ব্যাটারির অংশ উদ্ধার করে সিআইডি। মূলত এগুলি আইইডি বিস্ফোরণেই ব্যবহার করা হয় বলে সিআইডি সূত্রে খবর। বিস্ফোরণের ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর অবশেষে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি যোগসূত্র আছে কি না, ধৃতদের জেরা করে এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করছে সিআইডি।

RELATED ARTICLES

Most Popular