TRENDS

সঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি

Chandramani Saha

ওড়িশা ভ্ৰমণ-৫                                                                           মীর হাকিমুল আলিসঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলিধবলগিরি ও বৌদ্ধ শান্তি স্তুপসঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি

কোনার্ক সূর্য মন্দির সংগ্রহশালা থেকে বেরিয়ে বাসে চেপে বসলাম l গাইড বললেন এবারের স্পট ধাওলী শান্তি স্তূপ l বন্ধুরা সবাই গল্প করতে করতে জানালা দিয়ে বাইরের সৌন্দর্য্য গিলতে গিলতে চললাম আমাদের গন্তব্যের দিকে l ঘন্টা খানেক পর বাস থামলো l বুঝলাম এসে গেছি l সামনে আরো বাস দাঁড়িয়ে সারি সারি l তাই আমরা একটু দূরেই নামলাম l হেঁটে হেঁটে কিছুটা যাওয়ার পর দেখতে পেলাম একটা গেট এর মতো করা আছে আর কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে এরকম জায়গা l আমরা সিঁড়ি বেয়ে উঠে দেখি একটা বিশাল অশোক স্তম্ভ l খুব লম্বা l সম্ভবত এটা কাঠের তৈরী l অনেকেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন l আমরাও দেখলাম খুব সুন্দর নকশা করা আছে l অনেক দিনের পুরানো এই স্তম্ভ টি l সঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি
আমরা সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম দেখি দুই দিকে বুদ্ধ দেবের মূর্তি বেশ কয়েকটা l সামনেই খুব সুন্দর বাঁধানো রাস্তা l যা বেঁকে বেঁকে চলে গেছে পাহাড়ের উঁচুতে l আমাদের কে অটো ওয়ালারা বার বার করে বলতে লাগলো খুব ঢালু রাস্তা, অনেক কষ্ট হবে, যেতে পারবেন না l আসুন অটোতে করে পৌঁছে দেবো l আমরা ভাড়া জিজ্ঞেস করতে তারা যা ভাড়া বলছিলো তা সত্যিই বেশি l দরকার নেই আমরা হেঁটেই উঠবো l এই বলে হাঁটতে শুরু করলাম l বেশ ঢালু রাস্তা হেঁটেই চলেছি আর একটু একটু করে উঁচুতে উঠছি l উঠতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো বটে কিন্তু আমরা সেই কষ্ট উড়িয়ে দিয়ে চলতে শুরু করলাম l একদম ওপরে উঠে দেখলাম সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার রাস্তা l উঠে দেখি একটি মন্দির l জুতো খুলে রেখে দিয়ে আমরা মন্দির প্রাঙ্গনে উঠলাম l গাইডের কাছে জানতে পারলাম মন্দিরটির নাম ধবলেশ্বর মন্দির l সঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলিমন্দিরটি খুব প্রাচীন, এটি পুনরায় সংস্কার করা হয় 1972 সালে l হিন্দু, বৌদ্ধ সবাই এখানে আসেন l মান্দিদের সামনেই দুই দিকে দুটো সিংহের মূর্তি l বহু মানুষ লাইন দিয়ে পুজো দিচ্ছে l আমরা ছবি তুলে এগিয়ে চললাম l আসে পাশে কতকগুলো দোকান l সেগুলো পেরিয়ে গিয়ে আমরা আমাদের কাঙ্খিত বৌদ্ধ স্তূপটি দেখতে পেলাম l সাদা হলুদ রঙ করা এই বৌদ্ধ স্তূপটি অনেক নীচে থেকেও দেখা যায় l
গাইডের মুখ থেকে যা শুনলাম এই স্তূপ সম্পর্কে সেগুলো একটু বলি l ধবলগিরির এই বৌদ্ধ স্তূপ টি শান্তি প্যাগোডা নামেও পরিচিত l ভুবনেশ্বর থেকে এটি 7কিমি দূরে অবস্থিত l পুরী থেকে ভুবনেশ্বর যেতে গেলে পথে এটি পড়বে l সামনাসামনি আছে স্টেশন lসঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি
কলিঙ্গ যুদ্ধে বহু মানুষের প্রাণ হানি ঘটে l সম্রাট অশোক এতে খুবই কষ্ট পান l তিনি হিংসার পথ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন l মর্মাহত অশোক বুদ্ধদেবের শরণাপন্ন হন l তিনি বৌদ্ধ ধৰ্ম গ্রহণ করেন এবং শান্তির পথ অবলম্বন করেন l ধবলগিরি হল কলিঙ্গ যুদ্ধের শেষ সীমানা, তাই তিনি সেখানে এই শান্তি স্তূপটি স্থাপন করেন l এটি হয়ে ওঠে একটি ধর্মীয় স্থান l এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ বিগ্রহ, স্তূপ, স্তম্ভ দেখাযায় lসঙ্গে রুকস্যাক, ওড়িশা ভ্রমন-৫, মীর হাকিমুল আলি
এটি একটি গোম্বুজাকৃতি স্তূপ l এখানে বুদ্ধদেবের পায়ের চিহ্ন আছে l সম্রাট অশোক বুদ্ধদেবের পায়ের কাছে তাঁর তরবারি উৎসর্গ করছেন আর যুদ্ধের কথা মন থেকে মুছে ফেলছেন এরকম চিত্র এখানে আছে l কিন্তু আমরা দেখিনি সেটা l এখানে একটি মনাস্ট্রি দেখা যায়, নাম সাধ্বারমা বিহার মনাস্ট্রি l
এই স্তুপের ওপর থেকে আমরা নীচের গ্রাম শহর দেখতে পাচ্ছিলাম l খুব লাগছিলো চারদিক l
আমদের ফিরতে হবে এবার l আমরা আবার একই রাস্তা বেয়ে নামতে শুরু করলাম l
(পরের পর্ব….. ক্রমশ )

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join