অশ্লেষা চৌধুরী: দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ টিকিট না পেয়ে হাহাকার সর্বত্র; কেউ চোখে জল নিয়ে দল ছাড়ছেন তো কেউ চোখে আগুন নিয়েটিকিট পেয়েও বেসুরো তৃণমূল নেত্রী; দলবদলের জল্পনায় কেড়ে নেওয়া হল প্রার্থী পদ। কিন্তু মালদা জেলার হবিবপুরে যেন সম্পূর্ণ উল্টো গঙ্গা! প্রার্থী পদ পেয়েও যেন বেসুরো জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সরলা মুর্মু। আর এই বেসুরো নেত্রীর তাল কাটার আগেই প্রার্থী পদ পরিবর্তন শাসক শিবিরের। সরলা মুর্মুকে সরিয়ে হবিবপুরে প্রদীপ বাক্সেকে দেওয়া হল টিকিট।
জানা যায়, আসন পছন্দ নয় আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোনেননি সরলার কথা। প্রার্থী চেয়েছিলেন পুরাতন মালদহ থেকে ভোটে লড়তে। কিন্তু ওনাকে মালদহের হবিবপুরের প্রার্থী করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাতেই বেঁকে বসেন তৃণমূল নেত্রী সরলা মুর্মু। এমনকি প্রার্থী পদ ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রওনা দিলেন কলকাতার উদ্দেশ্যে। আর নেত্রীর কলকাতা সফর ঘিরে দলবদলের জল্পনা ওঠে তুঙ্গে। ওনার ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। সরলা দেবীর অনুগামীদের মতানুযায়ী, সরলা দেবী বিজেপিতে যোগ দিয়ে পুরাতন মালদহ আসন থেকে লড়তে পারেন। এমনকি প্রার্থী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও, কেন তিনি এবার দল পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিলেন জানতে চাওয়া হলে সরলা মুর্মু বলেন, “বহুবার দলকে জানিয়েছিলাম, আমি পুরাতন মালদহে প্রার্থী হতে চাই। কিন্তু দল তাতে কর্ণপাত করেনি। আমাকে হবিবপুরে প্রার্থী করা হয়েছে। সেই কারণেই আমি দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তবে শুধু সরলাই নয়, এই একই পথের যাত্রী আরও ১৬ জন, যার মধ্যে রয়েছেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলও। ৩৩ আসন বিশিষ্ট মালদহ জেলা পরিষদে তৃণমূলের মোট আসন ছিল ২৭টি। বিজেপির দখলে ছিল ৬টি আসন। এই ছয় বিজেপি সদস্যের মধ্যে উজ্জ্বল চৌধুরী এবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে মালদহ বিধানসভার প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে কর্মাধ্যক্ষ সরলা মুর্মু ও সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল-সহ মোট ১৭ জন বিজেপির দিকে পা বাড়িয়েছেন বলে খবর। এই জল্পনা সত্যি হলে মালদহ জেলা পরিষদ হারাতে হবে তৃণমূলকে।
উল্লেখ্য, সরলা মুর্মু প্রথমে ছিলেন কংগ্রেসে। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। গত পঞ্চায়েত ভোটের পর মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি করা হয় গৌরচন্দ্র মণ্ডলকে। তখন সরলা ছিলেন সাধারণ জেলা পরিষদ সদস্য। পরে কর্মাধ্যক্ষ হন তিনি।
যারা তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারেননি, তারা বিজেপিতে যোগদান করবেন বলেই জানা যাচ্ছে। আর এই ঘটনা স্বাভাবিক বলেই ধরা হচ্ছে। কিন্তু টিকিট পেয়েও কেবলমাত্র, এলাকা পছন্দ নয় বলে সোজাসোজি ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে গিয়ে যোগ দিচ্ছেন নেত্রী, আর তিনি একাই নন, সাথে করে আরও ১৬ জনকেও নিয়ে যাচ্ছেন, এমন ঘটনা শাসক শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি, ভোট বাক্সেও যে প্রভাব ফেলবে, সেকথা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
প্রসঙ্গত, অপরদিকে মালদা জেলা তৃণমূলের কোঅর্ডিনেটর অম্লান ভাদুড়ি প্রার্থী বাছাই নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়লেন রবিবার রাতেই। একই সঙ্গে একাধিক সরকারি পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। যদিও এখনই দলবলের কথা কিছু জানাননি অম্লান বাবু, তবে তিনি জেলা রাজনীতিতে শুভেন্দু ঘনিষ্ট বলেই জানা যায়। তাই দলবদলের শঙ্কা এক্ষেত্রেও থেকেই যাচ্ছে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…