TRENDS

লকডাউনেই ‘চড়ুইভাতি’র আয়োজনের অভিযোগ তৃনমূলের বিরুদ্ধে, বিক্ষোভ এলাকাবাসীর

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে৷ ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন চলবে বলে ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানছে না খোদ শাসকদলের কর্মীরাই। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে ১০ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ কিন্তু বাস্তবে সে কথা মানছে কে? লকডাউন, করোনা সংক্রমণ, স্বাস্থ্যবিধি সব শিকেয় তুলে বনভোজনে মেতেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ লাগোয়া বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্যে এমনই অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এলাকার বাসিন্দাদের নজরে আসতেই তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

করোনা সংক্রমণে ইতিমধ্যেই আতঙ্কিত বনগাঁবাসী। এমনিতেই প্রথম থেকেই রেড জোনে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা। দিন দিম আক্রান্তের সংখ্যা কমছে তো নাই বরং বাড়ছে৷ তার ওপর পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঘরে ফেরার পর থেকে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁয়। ফলে সরকারি নির্দেশ অনুসারে লকডাউনের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বিভূতিভূষণ অভয়ারণ্য (পারমদন ফরেস্ট)। রবিবার দুপুরে বাগদা এলাকার একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওই বন্ধ অভয়ারণ্যের ভিতর ভিড় করতে দেখা যায়। যেখানে সরকার বারংবার ভিড় করতে মানা করছেন সেখানে এত লোক একসঙ্গে অভয়ারণ্যের ভিতর কি করছেন তা জানতে স্থানীয় বাসিন্দারা কৌতুহলবশত ভিতরে উঁকি মারতেই দেখেন সেখানে রীতিমতো বনভোজন চলছে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য পরিতোষ সাহা, অরূপ পাল-সহ শাসকদলের বহু নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের সিকি ভাগও মানা হচ্ছে না। এরপরই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় অভয়ারণ্যের মূল ফটকের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে স্থানীয় বিজেপিকর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বনগাঁ থানার পুলিশ পৌঁছে কোনোভাবে স্থানীয়দের রোষের হাত থেকে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যান। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন শাসকদলের কর্মীরা। তাদের দাবি, তারা বনভোজনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি বরং আমফানে পারমদন ফরেস্টে প্রচুর গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেগুলিকে পুনরুদ্ধার ও নতুন করে বেশ কিছু বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই এদিন ফরেস্টের মধ্যেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, চূড়ান্ত মিথ্যে কথা বলছে শাসকদল৷ তারা আমফানের ত্রাণের টাকা ও কাটমানি দিয়ে এই পরিস্থিতির মধ্যেও বনভোজনে এসেছিল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join