স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ওই পাইকপাড়া গ্রামের এক হাতুড়ে ডাক্তার বা গ্রামীন চিকিৎসক সহাদেব ধাড়ার পরিবারের দুই সদস্যের করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এই কারনে গ্রামের কিছু মানুষ জানিয়েছিল যে পরিবারের কোনও সদস্যই বাড়ির বাইরে যেতে পারবেননা কিন্তু সহদেব তাঁর গ্রামের অন্যত্র থাকা নিজস্ব চিকিৎসা কেন্দ্রটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়া নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত।
সহদেব ধাড়ার অভিযোগ, তাঁদের জানানোই হয়নি যে তাঁরা বাড়ির বাইরে বেরুতে পারবেননা। তিনি জানান, ‘আমাদের পরিবারের ২জন করোনা আক্রান্ত ঠিকই কিন্তু তাঁরা পৃথক ঘরে রয়েছেন। একজন চিকিৎসক হিসাবে আমি জানি কী করা উচিত কী নয়। এই করোনা কালে মানুষ যখন অন্য অসুখ বিসুখে চিকিৎসক পাচ্ছেননা তখন আমি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। সোমবার এক অসুস্থ ব্যক্তিই আমাকে ফোনে জানান তিনি অসুস্থ। আমি তাঁরই চিকিৎসায় যাচ্ছিলাম তখনই আমার পথ আটকায় তৃনমূল নেতা বিশ্বনাথ পুলাই এবং কয়েকজন তৃনমূল সমর্থক। আমাকে রীতিমত চড় থাপ্পড় মেরে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমি বাড়ি ফিরে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা বিশ্বনাথের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টা জানতে চায়। সেখানেও কথা কাটাকাটি হয়। আমরা ফিরে আসি। এরপর আজ সকালে ওই তৃনমূল নেতা দলবল নিয়ে ফের আমার বাড়িতে চড়াও হয় এবং বাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। লুটপাট করা হয় এবং আমাদের দুজনকে বেধড়ক মারা হয়েছে।”
অন্যদিকে বিশ্বনাথ পুলাইয়ের অভিযোগ, যেহেতু ওঁদের বাড়িতে ২জন করোনা আক্রান্ত তাই গ্রামের তরফে পরিবারের সদস্যদের আপাতত বেরুতে না বলা হয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যাবেলায় সহদেব বাইরে যেতে চাইলে আমরা বাধা দেই এবং বাড়ি ফিরে যেতে বলি। এই ঘটনার পরই সহদেব ও তার ভাই মহাদেব সহ পরিবারের সদস্যরা আমার বাড়ি চড়াও হয়ে আমার স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করে ও বাড়ি ভাঙচুর করে। আমার স্ত্রীর পরিবারের হাত ও পা মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয।”
সহদেব ধাড়া অভিযোগ করেছেন মঙ্গলবার সকালে দফায় দফায় তাদের পরিবারের উপর হামলা চালানো হয় বিশ্বনাথ ও তার ৭ভাই সহ স্থানীয় শাসক দলের নেতৃত্ব। পরিবারের করোনা আক্রান্ত ২ সদস্যকে মারধর করা হয় এবং তাদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়, কেটে দেয়া হয় জলের লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ এমনকি কেবল লাইনের সংযোগ অবধি কেটে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উভয় পক্ষই চন্দ্রকোনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করছে বলেই দাবি আক্রান্ত পরিবারে। তাঁদের মতে তাঁরা যেহেতু বিজেপি সমর্থক সে কারণেই করোনার নাম করে তাঁদের ওপর এই অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে। এই গরমে তাঁদের বিদ্যুতের লাইন, জলের লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকেই। যদিও ওই ব্লকের তৃনমূল সভাপতি সুজয় পাত্র বলেছেন, এটা পাড়া গত বিবাদ। একই পাড়ায় ভিন্ন ভিন্ন রাজনীতির মানুষ থাকতেই পারেন কিন্তু তাই বলে রাজনীতি হয়েছে এমন নয়।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চন্দ্রকোনা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। ঘটনাস্থলে সেই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…