জীর্ণ মন্দিরের জার্নাল চিন্ময় দাশ
মন্দির স্থাপনার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলে, মেদিনীপুর জেলার দুই রানির নাম উল্লেখ করতে হয়। একজন ছিলেন জেলার একেবারে পূর্বপ্রান্ত ছুঁয়ে, নদী-নালা-সাগরের এলাকায়– মহিষাদলে। তিনি রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায়ের পত্নী রানী জানকি দেবী। অনেকগুলি বড় মাপের দেবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।
অন্যজনের অবস্থান ছিল পাহাড়-জঙ্গল, টিলা-টিকর-ডুঙরি অধ্যুষিত লালমাটির দেশে। জেলার একেবারে পশ্চিমের এলাকায়– শিলদাতে। তিনি রাজা কিশোরমণি। হ্যাঁ, রাজা। জমিদারি পরিচালনায়, প্রজাকল্যাণে, গঠনমূলক কাজের ভূমিকায় এতটাই দক্ষ ছিলেন, কোন কোনও ইতিহাসকার তাঁকে ‘রাজা’ বলেই উল্লেখ করেছেন। আমরাও গভীর শ্রদ্ধায়, সেই অভিধাকে মান্যতা দেওয়ার পক্ষপাতী।
ইং ১৭৮৭ সালে, ‘দশ-সালা বন্দোবস্ত’-এর সময়, মেদিনীপুরের জেলা কালেক্টর, মল্লবংশের রাজা মানগোবিন্দ সিংহের কাছ থেকে, যে তথ্য সংগ্ৰহ করেছিলেন, তা থেকেই এই বংশের বিবরণ জানা যায়। মানগোবিন্দ ছিলেন মেদিনীমল্লের প্রপৌত্র।
১৮০৬ সালে অপুত্রক মানগোবিন্দের মৃত্যুর পর, তাঁর অন্যতম পত্নী রানি কিশোরমণি দেবী জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
শৈবভূমি শিলদা। বহু অতীত কাল থেকে বাবা ভৈরব এখানে প্রতিষ্ঠিত আছেন। শিলদার অদূরে, ওড়গোঁদায় বিশাল ব্যাপ্ত এক প্রান্তরে, আজও তাঁর মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। সেই ধারায় শিলদার রাজবংশও ছিল শিবের উপাসক।
রানির মৃত্যুর পর, সম্পত্তির মালিকানার বিবাদ, মামলা-মোকদ্দমায় জেরবার হয়ে, দেবতার সেবাপূজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেবতার বিগ্রহগুলিও লোপাট হয়ে যায় মন্দির থেকে। পরিত্যক্ত মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথিক হয়ে উঠেছিল।
একটি প্ৰতিষ্ঠা-লিপি আছে মন্দিরে। তা থেকে জানা যায়, ১৭৪২ শকাব্দে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। অর্থাৎ ইং ১৮২০ সালে নির্মিত হয়েছিল এটি। সেই হিসাবে, ২০০ বছর আয়ু পূর্ণ করেছে মন্দির সৌধটি।
ল্যাটেরাইট বা ঝামা পাথরে তৈরি পূর্বমুখী এই মন্দির। নির্মিত হয়েছে চালা-শৈলীর আট-চালা হিসাবে। বেশ বড় মাপের বর্গাকার সৌধ।
মন্দিরের পাদপীঠ বেশ উঁচু, এবং নকশাকাটা। তার উপর একটি প্রদক্ষিণ পথ আছে মন্দিরকে বেষ্টন করে। মন্দির পূর্বমুখী, কিন্তু মন্দিরে উঠবার ৭ ধাপ সিঁড়িটি দক্ষিণে রচিত হয়েছে। অবশ্য, পূর্বদিকের মূল দ্বারপথটি ছাড়া, গর্ভগৃহে দক্ষিণেও একটি অতিরিক্ত দ্বার আছে, প্রধানত পুরুত ঠাকুরের জন্য। দুটি দ্বারপথই খিলান-রীতির।
অলিন্দ এবং গর্ভগৃহ– দুটি অংশ মন্দিরের। অলিন্দের সামনে খিলান-রীতির তিনটি দ্বার। পিছনের দ্বারটি গর্ভগৃহের সাথে যুক্ত। অলিন্দের স্তম্ভগুলি ইমারতি রীতির।
আট-চালা মন্দির। কিন্তু দ্বিতলে কোনও কক্ষ বা দেওয়াল নাই। প্রথম তলের চারটি চালের মাথায়, উপরের চালগুলি চেপে বসানো। অনুমান করা যায় কি যায় না– এমন সংস্থান।
মন্দিরের সামান্য দক্ষিণে, রাজবাড়ীর মূল ফটক। তার মাথায় দো-চালা রীতির বড় মাপের একটি নহবতখানা। ফটকের দু’পাশে হাতিশাল, ঘোড়াশাল। সামনে একটি বড় মাপের রাসমঞ্চ স্থাপিত। রাজবাড়ী, কাছারিঘর কিছুই টিকে নেই আজ আর। কেবল জীর্ণ দেবালয় দুটিই যা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি এখনও।
সাক্ষাৎকার : সর্বশ্রী নিমাই চন্দ্র নাদ, কৌশিক নাদ, সুরজিৎ লাহা, প্রণবানন্দ চক্রবর্তী– শিলদা।
পথ-নির্দেশ : মেদিনীপুর-খড়গপুর থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে, বাঁকুড়া থেকে রায়পুর হয়ে, পুরুলিয়া থেকে ঝিলিমিলি-বেলপাহাড়ি হয়ে শিলদা পৌঁছানো যাবে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…