নরেশ জানা: খবরটা শুনেই চায়ের কেটলিটা হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল টমাসের। সাউথ ইনস্টিটিউটের সামনে ভারতীয় ক্রিকেটের অধিনায়ক ধোনির বদান্যতায় এই চায়ের দোকানটা সাজিয়ে দিয়েছে খড়গপুর রেল। না দিয়ে উপায় নেই, রেলের টিকিট চেকারের দায়িত্ব সামলে টমাসের দোকানেই পাউরুটি আর ঘুগনি সাঁটিয়ে পেছনের সেরসা স্টেডিয়ামে গিয়ে ছক্কা হাঁকাতেন ধোনি। আকাশ ছুঁয়েও ধোনি ভুলে যাননি টমাসকে। রেলকে বলেই করিয়ে দিয়েছিলেন এই স্পোর্টস লিজেন্ট দোস্তি ক্যান্টিন। সবে লকডাউনের ধকল কাটিয়ে খুলেছে ক্যান্টিন, রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ খবরটা এসে পৌছালো, আর তখুনি হাতটা কেঁপে গেল টমাসের। মাত্র কয়েকটা বছর আগে সুশান্ত সিংহ রাজপুত যে এই সেরসা স্টেডিয়ামেই শ্যুটিং করে গেল!
পাক্কা ২মাস আইআইটির গেস্ট হাউসে ছিলেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত। ধোনির প্রিয় বন্ধু দীপক সিং এর সত্যপ্রকাশদের। সাথে শ্যুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডা দিয়েছেন। দীপক সিং জানালেন, ” শ্যুটিংয়ের শেষে কোনও কোনও চলে যেতাম খড়গপুর সাউথ সাইডের একটা ফুচকা দোকানে। খুব ফুচকা খেতে ভাল বসতেন সুশান্ত।”
ধোনির বায়োপিক করার কথা মাথায় আসতেই পরিচালক নিরজ পান্ডে খড়গপুরের কথা ভেবেছিলেন আগে। সেই খড়গপুর যে খড়গপুরের মাটিতে ধোনিকে ধোনি করে গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তৎকালীন ডিআরএম অনিমেষ গাঙ্গুলি। নিরজ পান্ডে সেই খড়গপুরের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা যেখানে যেখানে ধোনি পা রেখেছিলেন সেখান দিয়ে হাঁটিয়েছেন সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে।
স্টেশন থেকে সেরসা স্টেডিয়াম যাওয়ার রাস্তায় ভিড় জমে গেছে। সেরসা স্টেডিয়ামের সামনে জনতার ভিড় টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন তখন ইটিভির সাংবাদিক শঙ্কর রাই আমরা যাকে বিল্লি বলে ডাকি, ওপাশে প্রতিদিন আর দ্য টেলিগ্রাফের চিত্র গ্রাহক সৈকত সাঁতরা, সুশান্তের একটা শট পাওয়ার অপেক্ষায়। সুশান্তের বাউন্সারদের সাথে তুমুল ধস্তাধস্তি। আমি আরও দুরে দাঁড়িয়ে মজা দেখছি। নিরজ নিজে এসে হাত জড়ো করে বললেন, আমি কথা দিচ্ছি, “ইন্টারভিউ করিয়ে দেব। পরে আসুন।” শর্ত ছিল একাই যেতে হবে। সেই মত রাতে আইআইটি গেষ্ট হাউসে গিয়ে ইন্টারভিউ নিতে গেলাম।
কী আশ্চর্য! সেটাও জুন মাস! আজ রবিবার, ১৪ই জুন ঠিক চার দিনের মাথায় ১৮ই জুন। আজ বৃষ্টি হচ্ছে খড়গপুরে। তুমুল বৃষ্টি ছুঁয়ে যাচ্ছে সেরসা স্টেডিয়াম, গোলখুলির দুর্গা মন্দির, যার পাশের কোয়ার্টারে ধোনি থাকতেন, ক্রিশ্চান কবরখানার পেছনের মাঠ আর বিএনআর গ্রাউন্ড যেখানে যেখানে ধোনি ক্রিকেট খেলে গেছিলেন সব, সব জায়গা ছুঁয়ে গেছিলেন সুশান্ত। খড়গপুর-ধোনি-সুশান্ত মিলে মিশে একাকার। খড়গপুর যেমন ধোনিকে দিয়েছে, ধোনিও খড়গপুরকে দিয়েছেন। আর এই খড়গপুর আর ধোনিকে দেশের আমজনতার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সুশান্ত। সেই সুশান্ত সিং রাজপুত নেই খবরটা পেয়ে শুধু টমাসের হাতের কেটলি নয়, গোটা খড়গপুরের হৃদয় কেঁপে গেছে। বৃষ্টি হচ্ছে খড়গপুরে, তুমুল বৃষ্টি, না হলে ঠিক বোঝা যেত খড়গপুর কাঁদছে। যে কান্না ধুয়ে দিয়ে যাচ্ছে, সেই বৃষ্টির জল। খড়গপুর চাইছে আবার খড়গপুরে আরও একটা বায়োপিক হোক যার চরিত্র হবেন সুশান্ত সিংহ রাজপুত।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…