নিজস্ব সংবাদদাতা: হলদিয়া: ২০২১য়ের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃনমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব স্বয়ং মমতা ব্যানার্জী থেকে শুরু করে ছোট বড় নেতা যখন বিজেপির ভিন রাজ্য থেকে আসা নেতাদের ‘বহিরাগত’ কিংবা বিজেপির অবাঙালি সমর্থকদের ‘অহিন্দিভাষী’, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ ইত্যাদি বলে বাঙালিয়ানা ক্যাশ করতে চাইছেন তখন সেই প্রক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করলেন সদ্য মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করা তৃনমূলের বিদ্রোহী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয় পশ্চিমবাংলায় যে গনতন্ত্র আদতে তৃনমূলের পার্টি তন্ত্রে পরিনত হয়েছে তাও উল্লেখ করতে ছাড়েননি এদিন। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া হ্যালিপ্যাড ময়দানের অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান তাই আদতে রাজনীতির চেয়ে বড় কিছু হয়ে রইল।
এদিন স্বাধীনতা পূর্বকালের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের সর্বাধিনায়ক তমলুকের প্রথম সাংসদ সতীশ চন্দ্র সামন্তের ১২১ তম জন্মদিনে প্রধান অতিথি হিসাবে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অধিকারী বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তী কালে সাংসদ সতীশ সামন্তকে অত্যন্ত সম্মান করতেন প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু। সাংসদ সামনে এলে তিনি উঠে দাঁড়াতেন। এই সাংসদ যিনি আমাদের হলদিয়া বন্দর উপহার দিয়েছেন ওড়িশার সঙ্গে লড়াই করে। সেই নেহেরুকে সতীশ সামন্ত কখনই বহিরাগত বা অহিন্দিভাষি বলে মনে করেননি।এটাই হল ভারতবর্ষ।”
বলাবাহুল্য শুভেন্দু অধিকারী কার্যত নাম না করেই খোঁটা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী এবং তাঁর পথের পথিকদের কারন মমতা ব্যানার্জী সহ তৃনমূলের ছোট বড় নেতারা ভিন রাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতৃত্বকে বহিরাগত বলে থাকেন পাশাপাশি তৃনমূলের মধ্যে এখন বাঙালি ও বাংলার বিরুদ্ধে প্রায়শই ‘অহিন্দিভাষি’, ‘হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ’ কথাগুলি খুবই শোনা যাচ্ছে। রাজনীতিকদের মতে এই শব্দ ব্যবহার করে তৃনমূল বাঙালি জাতি স্বত্ত্বায় চাগাড় দিতে চাইছে যাতে এটা অনুভূত হয় যে, বিজেপি আদতে একটি বহিরাগত আবাঙালিদের দল।
মাত্র মিনিট কয়েকের বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘ আমরা যেমন বাঙালি তেমনি ভারতীয়। আমরা সবাইকে নিয়ে, সমস্ত দেশপ্রেমিক মিলিয়েই চলি। এটাই বাংলার ঐতিহ্য ছিল। এটাই গণতান্ত্রিক।’ এরপরই শুভেন্দু আরও খোঁটা দিয়ে বলেছেন, ‘গণতন্ত্র মানে জনগনের জন্য, জনগনের দ্বারা, জনগনের শাসন তাহলে কেন বাংলা দলের জন্য, দলের দ্বারা, দলের শাসন হয়ে থাকবে?’ এরপরই তিনি বলেন, এই দলতন্ত্র থেকে বের করে আনতে হবে বাংলাকে। বাংলায় যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে হবে, তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এরপরই তাঁর খোঁটা, ‘শুধু ভাষন দিলেই হবেনা, রেশনও দিতে হবে। আমাদের দেশের বহু মানুষ আজও একবেলা পেট ভরে খেতে পায়না তাঁদের খেতে দিতে হবে।’
তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে দাবি করে প্রাক্তন মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আমাকে এখানে আসার পথে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই চক্রান্তকারীদের বলছি, আপনারা কিছু করতে পারবেননা আমার। এর আগে ১১বার আমাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।’ শুভেন্দু বলেন, ‘যাঁরা অনেক উঁচু পদে থেকে আমাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, আমি পদে আছি তাই আমার সভায় এত মানুষ আসেন। তাঁদের মনে করিয়ে দেই যে, ২৬শে নভেম্বর পদ ছাড়ার পরও আমার সভায় লোক হচ্ছে কারন মানুষের সঙ্গে আমার আত্মিক যোগাযোগ। কোনও তৃনমূল, বিজেপি, সিপিএম আমার সভার লোক আনেনা।”
এরপরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “যাঁরা বড়বড় কথা বলছেন তাঁদের বলে রাখি জনগন যখন ওই চটঘেরা (ভোট দানকেন্দ্র) জায়গায় গিয়ে নিজের আঙুল ছোঁয়াবে তখন আপনাদের অবস্থাও অনিল বসু,বিনয় কোনার, লক্ষণ শেঠদের মতই হবে।” সব মিলিয়ে এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২১য়ের লড়াই তিনি তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োজিত করছেন তৃনমূল বিরোধী লড়াইতেই। বলা বাহুল্য এই লড়াইয়ে শত্রুর শত্রু হিসাবে তাঁর মিত্র বিজেপিই।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…