TRENDS

সুবর্নরেখার কথা-১৬।। উপেন পাত্র

Chandramani Saha

জাহানপুর পীরথান                                                                                      উপেন পাাত্র                                  সুবর্ণরেখা নদীর তীরে জাহানপুর পীরথান ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলিয়াবেড়া ব্লকের ৫ নং অঞ্চলে পীর সৈয়দ কাশেমের দরগাটির অবস্থান,যেখানে হিন্দু ও মুশলিম উভয় ধর্ম সম্প্রদায়ের লোকেরা মানত করেন।পার্শ্ববর্তী মুশলিম গ্রাম জাহানপুর ও হিন্দু গ্রাম চাফলা থেকে দুরে নদীর তীরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দরগার অবস্থান।

অতীতে এই এলাকা উড়িষ্যার মধ্যে ছিল। ঐ সময় জঙ্গল মহলের অধিকার দ্বন্দ্বে উড়িষ্যার রাজা ও পাঠানদের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল।ওদিকে মোগলরা বিবদমান উভয় শক্তিকে ধ্বংস করে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিল।জনশক্তি অনুযায়ী পাঠান সেনাপতি আব্বাস পীর কাশেমকে মোগল চর সন্দেহে পীরকে বন্দী করে।বন্দী অবস্থায় এই স্থানে পীরের মৃত্যু হয়।পরে পাঠান সেনাপতি তার ভুল বুঝতে পারে এবং এই স্থানে পীরের দরগা নির্মাণ করে দেয়।

স্থানীয় লোকজন পীরকে খুব শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতো।কোন কার্যসিদ্ধির জন্য পীরের দরগায় মানত করতো।পার্শ্ববর্তী মহাপালে এক বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে ওঠায় পীরের থানে লোকজনের যাতায়াত বাড়ে সেকালে সুবর্ণরেখা নদী নাব্য ছিল।তাই নদীপথে বানিজ্য চলতো।একদা এক সওদাগর বানিজ্য যাত্রাকালে পীরের দরগায় মানত করে।বানিজ্যে আশাতীত লাভ হওয়ায় ঐ সওদাগর পীরের দরগার ওপর তিনটি গম্বুজ ও সামনে দু’টি মিনার নির্মান করে দেয়। ঐকালে সওদাগর পুত্রের মৃত্যু হওয়ায় তার কবরও এখানে দেওয়া হয়।দরগার প্রায় ৬০ মিটার সম্মুখে সওদাগর পুত্রের কবরটি আছে।

দরগার সামনে একটি বাঁধানো চত্বর আছে।ঐ স্থানে হিন্দুরা পোড়ামাটির হাতি ঘোড়া নিবেদন করে এবং মুশলিমরা চাদর চড়ায়।পরবর্তী কালে ঐস্থানে জালাল শাহ মস্তান নামে আরেক পীর আসেন।তিনি দরগার পিছনে একটি ইঁদারা এবং পাশে একটি পুকুর তৈরী করান, পুকুরের পাড়ে একটি অতিথিশালাও নির্মান করান।মস্তান পুকুর নামে মজে যাওয়া পুকুরটি পরে স্থানীয় পঞ্চায়েত দ্বারা সংস্কার করা হয়।অতিথিশালার স্থলে এখন শুধু একটি উঁচু টিলা দেখা যায়।
দরগা সন্নিহিত স্থানটির প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই মনোরম।দক্ষিণে সুবর্ণরেখা নদী,উত্তরে পড়ামহুলি মৌজা,পশ্চিমে নিত্যবহ কাঁথুয়া খাল ও পূর্বে বাস চলাচলের রাস্তা,এই হলো পীরথান এলাকার চতুঃসীমা।প্রায় ৩ বর্গ কিলো মিটার এলাকার স্থানটি চুনাপাথর মিশ্রিত এঁটেল মাটি দ্বারা গঠিত এবং প্রধানত বাবলা গাছে পরিপূর্ণ।স্থানটিতে শীতকালে দুর দুরান্ত থেকে লোকজন পিকনিক করতে আসে।
জাহানপুর পীরথান এলাকাকে একটি পর্যটন স্থলরূপে গড়ে তোলা যেতে পারে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join