অশ্লেষা চৌধুরী: বয়স মাত্র তিন বছর, আর ইতিমধ্যেই সে পাড়ি দিয়ে ফেলেছে ৩০০০ কিলোমিটার পথ। সে আর কেউ নয়, তার নাম টি১সি১; হ্যাঁ মহারাষ্ট্রের বনবিভাগের রেজিস্ট্রারে এই নামেই পরিচিত তিন বছর বয়সী এই বাঘটি। টিপেশ্বরের বাঘিনী টি-১-এর সন্তান সে, তাই তার এই নামকরণ। শুধুমাত্র মনের মতো সঙ্গিনী খুঁজে পেতেই তার এই ঘুরে বেরানো। এই কাজের জন্য সে অবশ্য আবার খুব পরিচিতিও লাভ করেছে বিশ্ব জুড়ে। দেশ-বিদেশের বন্যপ্রাণী গবেষকেরা তার নামকরণ করেছে ‘ওয়াকার’।
গত মার্চ মাসে বন বিভাগের আধিকারিক পারভিন কাসওয়ান সর্বপ্রথম ওয়াকারের কথা জানিয়েছিলেন। সেই সময়েই দুই হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পুরনো ডেরার কাছাকাছি ফিরে আসে সে। মহারাষ্ট্রের যভতমল এবং নান্দেড় জেলার পাইনগঙ্গা অভয়ারণ্যে অস্থায়ী বাসস্থান বানিয়েছিল বাঘটি। এরপর এপ্রিলে বাঘটিকে ধরে রেডিও কলার বদল করেন বন বিভাগের আধিকারিকেরা। এরপর অওরঙ্গাবাদ জেলার অজিণ্ঠা পাহাড়ের বনেও কিছুদিন কাটায় সে। প্রাচীন গুহাচিত্রের জন্য বিখ্যাত এই পর্যটনকেন্দ্রেও অবশ্য কেউ বাঘটির দেখা পাননি।
গলায় লাগানো রেডিও কলারের তথ্য জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের জুন মাসে যভতমল জেলার টিপেশ্বর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ওয়াকার (টি১সি১-কে ছোটবেলাতেই রেডিও কলার পরিয়েছিল বন বিভাগ)। কিন্তু মহারাষ্ট্রের সাত জেলা এবং পড়শি রাজ্য তেলেঙ্গানার জঙ্গলে ঘুরেও সঙ্গিনীর সন্ধান পায়নি বাঘটি। পরবর্তী নয় মাস সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে বেড়ায় সে। গলায় লাগানো রেডিও কলারের তথ্য আরও বলছে, তেলেঙ্গানার আদিলাবাদের জঙ্গলে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিল ওয়াকার। তারপর আবার পথচলা শুরু করে সে।
বন আধিকারিক পারভিন জানান, ‘ওয়াকার মূলত দিনের বেলায় বিশ্রাম নিয়ে রাতে জঙ্গল, নদী, রাস্তা পেরিয়ে হেঁটেছে। এই দীর্ঘ পথে বড় লোকালয় এড়িয়ে চলেছে সে। মাঝেমধ্যে গবাদি পশু মারলেও মানুষের ওপর কখনও হামলা করেনি ওয়াকার।’
বন বিভাগের আধিকারিকেরা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী কারও সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা বা খাদ্যের সংস্থানের জন্য নয়, একমাত্র মনের মতো সঙ্গিনীর খোঁজে সে এতদূর পাড়ি দিয়েছে সে। মহারাষ্ট্র বন বিভাগের আধিকারিক নিতিন কাকোডকর জানান, ‘গত তিন মাসে অনেক পথ হেঁটেছে বাঘটি। আপাতত সে টিপেশ্বর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার দূরে বুল্দনা জেলার দয়াগঙ্গা অভয়ারণ্যে রয়েছে। আমরা জিপিএস ট্র্যাকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি, এ পর্যন্ত সে প্রায় ৩,০২০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘দয়াগঙ্গা অভয়ারণ্যে চিতাবাঘ, ভালুক, হরিণ, নীলগাই থাকলেও অন্য কোন বাঘ নেই। রাজ্যের অন্য কোন জঙ্গল থেকে একটি বাঘিনীকে সেখানে আনা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা ভাবনা-চিন্তা করছি।’
তবে বর্তমানের এই যান্ত্রিক যুগে আমরা মানুষেরাই যখন নিজেদের ভালোবাসার মত অনুভূতি গুলো হারিয়ে ফেলতে বসেছি, সেখানে বাঘের এইভাবে সঙ্গিনীর খোঁজে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ হাঁটা আমদের সকলের জন্যই একটি উদাহরন বলা যেতেই পারে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…