গৌড়হাটির রূপকথা পার্থ দে
সেইমতো ডিসেম্বর মাসের এক সকালে বাইক আর ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পাঁশকুড়া থেকে মুম্বাই রোড ধরে পশ্চিমমুখো হয়ে রওনা। ডেবরা পেরিয়ে বুড়ামালা স্টপেজ। এবার হাইওয়েকে বাই বাই। এখান থেকে বামদিকে যাত্রা। গ্রাম সড়ক যোজনার পাকা রাস্তা। সোজা শ্যামচক রেলস্টেশনে গিয়েছে। ঐ রাস্তায় খানিক দূর এগিয়ে, এবার– বাঁয়ে মোড় ! দু’দিকে দিগন্ত-ছোঁয়া মাঠ। মোরাম ঢালা আঁকাবাঁকা রাঙামাটির পথ চলেছে গাঁয়ের খোঁজে। এই পথেই পড়বে গৌড়হাটি গ্রাম। আমার বাইক চলেছে রাঙা ধূলো উড়িয়ে।
কী শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগিনি, শিরীষ গাছের মাঝে পিসিদের মাটির বাড়ি। অ্যাজবেস্টসের ছাউনি দেওয়া। সরকারী অনুদানে তৈরী এই বাড়ি। পাশেই শৌচাগার। বাড়ির লাগোয়া ধান রাখার হামার-ঘর আর হাঁস-মুরগী রাখার ঘর। ঘরের চালে চালকুমড়ো ও পুঁই গাছ। কয়েকটা করে বেগুন, লঙ্কা আর গাঁদা ফুলের গাছ লাগানো পাশের জমিতে। সামনে বড়সড় একটা পুকুর। লক্ষ্য করলাম, পাড়ার প্রতিটি বাড়িতেই শৌচাগার ও বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। বাড়ির কাছেই একটি টিউবওয়েল বসেছে।
(বয়স ২২) পড়াশুনার পাট অনেকদিন আগেই চুকিয়ে দিয়ে, এখন সাইকেলে চড়ে গ্রামে গ্রামে মাছ বিক্রি করে। রাত তিনটে থেকে বেরতে হয় মাছের আড়তে যাওয়ার জন্য। এটা তার নিত্যদিনের রুটিন। ছোট মোহন
(বয়স ১৭) একাদশ শ্রেণীতে পড়ছে। অজয় বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মাছ বিক্রি সেরে বাড়ি এল। বিক্রিবাট্টার হিসাব শেষ করে, পিঁয়াজী দিয়ে পান্তাভাত খেতে বসল। খাঁচার আগল খুলে দিতে, অবাক ব্যাপার! টুনি নামের টিয়া পাখি গুটি গুটি পায়ে তার কাছে এসে হাজির। সেও পান্তা-পেঁয়াজির ভাগিদার। বিস্ময় কাটছে না আমার। ভালবাসা দিতে পারলে, বনের পাখিও বশ হয়। আমি অবাক চোখে তাকিয়েই থাকলাম।
খাওয়া শেষ হলে, অজয়কে নিয়ে বের হলাম গ্রাম পরিক্রমায়। পাড়ার মাটির রাস্তাটি ঢালাই হবে, তার প্রস্তুতি চলছে। আমাকে পাড়ার লোকেরা কোন সরকারী কর্মী বলে ভেবেছিল। হয়তো আমি রাস্তার কাজের তদারকি করতে এসেছি। পিসি পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের ভুল ভাঙে। তারপর গেলাম ঐ পাড়ার সেই বিখ্যাত “রায়বাড়ি” দেখতে। বহুকালের পুরানো বাড়ি। বর্তমানে মেরামতি ও রং করা হয়েছে। সামনে বিরাট বড় একটা ধান রাখার হামারঘর। পাশেই দূর্গামন্ডপ ও রাসমঞ্চ। প্রতিবছর এখানে দূর্গাপূজা, কালীপূজা ও রাসপূর্ণিমায় উৎসব হয়।
রায়বাড়ির এক প্রবীন সদস্য বেরিয়ে এলেন আমাদের দেখে। আমি অজয়ের মামাতো ভাই পরিচয় দিয়ে, ঐ বাড়ির প্রাচীন ইতিহাস জানতে চাইলাম। সঙ্গে ক্যামেরা ছিল আমার। তা দেখে উনি, একটু সন্দেহের চোখে তাকালেন। সাবধানী মানুষটি কুলুপ এঁটে দিলেন মুখে। শুধু বললেন, এটা একসময় জমিদারবাড়ি ছিল। এর বেশী কিছু বলতে চাইলেন না।
গ্রামের শিব মন্দিরটির পাশ দিয়েই রাস্তা। রেলস্টেশনের দিকে চললাম আমরা। রাস্তার দু’দিকে ইউক্যালিপটাসের সারি। বাতাসে মাথা দোলাতে দোলাতে যেন নবাগতকে অভিবাদন জানাচ্ছে তারা। পাশের মাঠে রজনীগন্ধার চাষ। কিছুক্ষন দাঁড়ালাম। একটা মিষ্টি সুবাস ভেসে আসছিল। ওখানে কিছু ছবি তুললাম।
খেতে খেতে পিসেমশায়ের সাথে অনেক গল্প হল। দারিদ্র সত্ত্বেও পিসিদের এই সহজ সরল গ্রাম্য জীবনচর্যায় আমি একেবারে মুগ্ধ। আজকের দিনটা জলছবির মত বহুকাল আঁকা হয়ে থাকবে আমার হৃদয়ে। মনে হল, পৃথিবীর সব সুখ এখানেই আছে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…