TRENDS

শালবনী করোনা হাসপাতালে সাফাই কর্মীদের স্যালাইন, ক্যাথিড্রাল লাগানো হয়! আলোচনায় বসলেন মহকুমা শাসক

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবদাদদাতা: যে কাজের জন্য তারা নিযুক্ত সেই কাজ না করিয়ে তাদের দিয়ে রোগীদের পরিষেবার বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজ করানো হচ্ছে। এরকমই অভিযোগ তুলে রবিবার শালবনী করোনা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কিছু হাউস কিপিং স্টাফ। সোমবার তাঁদের নিয়ে আলোচনায় বসলেন মেদিনীপুর মহকুমা শাসক দীন নারায়ন ঘোষ। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনকে মহকুমাশাসক নিজের দপ্তরে ডেকে পাঠিয়েছিলেন আলোচনার জন্য।

বিক্ষোভ কারীদের বক্তব্য ছিল অনভিজ্ঞ হওয়া স্বত্ত্বেও তাঁদের এমন সব বিষয় করানো হচ্ছে যাতে রোগীর প্রানের ঝুঁকি থাকছে। সেইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাউস কিপিং দলের সদস্য মানস ঘোষ জানিয়েছিলেন তারা ৯৯ জন কর্মী আছেন। সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত তারা। কিন্তু তাদের দিয়ে রোগীর স্যালাইনের চ্যানেল করা ও বন্ধ করা, অক্সিজেন দেওয়া, ক্যাথিড্রাল পাল্টানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। যা একমাত্র ট্রেণ্ড নার্স নয়তো টেকনিসিয়ানরা করতে পারেন। যাদের যথাযথ প্রশিক্ষন আছে। এসব বিষয়ে সাফাইকর্মীদের কোনও প্রশিক্ষনই নেই। তা সত্বেয় তাদেরকে ওইসব কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

যদিও এই অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছে যাঁরা এখন হাউস কিপিং হিসাবে কাজ করছেন এঁরা ওয়ার্ড বয় হিসাবে পাঁচ-ছ বছর কাজ করে এসেছে। তখন এঁরা এসব কাজ করেছেন। সাধারন হাসপাতাল থেকে করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত হওয়ার সময় আলাদা করে ওয়ার্ড বয়ের সংস্থান ছিলনা বলেই ওঁদের হাউস কিপিং বা নিরাপত্তা বিভাগে যুক্ত করা হয়েছে। এখন কেউ কেউ দাবি করেছেন তাঁরা তাঁদের বিভাগের বাইরে কাজ করবেননা। বর্তমান যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতিতে এই দাবি সঙ্গত নয়।

হাউস কিপিং স্টাফদের আরও দাবি হাসপাতাল পরিস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র যেমন জেট ওয়াসার, ভ্যাকুমক্লিনার ইত্যাদি না থাকায় কাজের সমস্যা হচ্ছে। তাঁরা আরও দাবি করেছেন হাসপাতালের বেড বাড়লেও স্টাফ বাড়ানো হয়নি। বেতনক্রম বা বোনাস নিয়েও কথা বলেন তাঁরা। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, ‘ওনাদের দাবির অধিকাংশ এজেন্সি সম্পর্কিত অর্থাৎ যে এজেন্সি ওঁদের নিয়োগ করেছেন তাঁদের ব্যাপার। তবুও প্রশাসনের যেটুকু করার আমরা করব।”
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাই চন্দ্র মণ্ডল বলেছেন, হাউস কিপিংদের সাহায্যকারী ভূমিকা থাকে। সেই কাজই তাদের করানো হয়। ওদের বক্তব্য বিস্তারিত জানার পর তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join