Categories: রবিয়াণী

দুটি অনুগল্প

✍️কলমে: বিতস্তা ঘোষাল

টান–১

সারারাত সারাদিন ধরে মানুষগুলো হেঁটে চলেছে।মাথায়,পিঠে বোঝা।কারোর কোলে বাচ্চা, কারোর পেটে। কদিনের মধ্যেই সেই বাচ্চা পৃথিবীর আলো দেখবে।
সবাই হেঁটে চলেছে একভাবে।রাস্তার ধার ধরে।চারদিক সুনসান। শুধু মাঝে মাঝে ট্রাকগুলো হর্ন বাজিয়ে রাতের নীরবতা ভেঙে ছুটে যাচ্ছে । তখনি একমাত্র বাচ্চাগুলো শক্ত করে বাবা মায়ের হাত ধরে নিচ্ছে।যেন একমাত্র তখনি তাদের ভয় করছে।
প্রত্যেকের পা ক্ষত বিক্ষত।এর আগে তাদের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য হাঁটার দরকার হয়নি।এখন হচ্ছে।
নিজের ভিটেতে ফেরার টান বড় টান।তাই তারা যাবতীয় কষ্ট স্বীকার করে নিয়েই হেঁটে চলেছে। প্রত্যেকের মনে মধ্যে বেজে চলেছে ফাইট কোনী ফাইটের মতো কিছু শব্দ।
হাঁটতে হাঁটতে তারা ক্রমশ পৌঁছে গেল তারাদের দেশে।নিজের মাটির ঘর,দালান,তুলসী মঞ্চ সব সেখান থেকে এতটুকু দেখাচ্ছে। ভাতের বদলে এখন তারা জ্যোৎস্না মুড়িতে মেখে খাচ্ছে।

টান–২

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন মুখার্জি মাসিমা আর তার ছেলে ও বৌমা।মুখার্জি দা বছর খানেক আগে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন।তিনি ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন।ছেলে একটা কর্পোরেট হাউসে কাজ করেন।
কদিন ধরেই মাসিমার জ্বর।ছেলে আনলক পর্বে স্ত্রীকে রাখতে গিয়ে ফেরেনি।
ফ্ল্যাটের কেয়্যারটেকার মাসিমার দুধ দিতে এসে কলিং বেল বাজিয়ে না পেয়ে সেক্রেটারি ও প্রেসিডেন্টকে ফোন করে।ছেলেকেও জানায় ফোনে।খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশের ওসি আসে,দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখা যায় মাসিমা বেহুঁশ। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
রটে গেল মাসিমার পজেটিভ।যদিও স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডাক্তার কেউ এমন কথা বলেনি।
মাসিমার ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছিল।সেরেও গেল ওষুধে।হাসপাতাল থেকে রিপোর্টেও নেগেটিভই এলো।
তবু ছেলে, বৌমা কেউ এল না দেখা করতে। তারা জানিয়ে দিয়েছে করোনা রোগীর সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়,প্রশাসন যেন মায়ের দায়ভার গ্রহন করে।তবে তারা এখানে ফিরবে।
মাসিমা ফ্ল্যাটে ফিরে এসেছেন।আমরা পালা করে তার দেখাশোনা করি।
আর কেয়্যারটেকার রাতে তার কাছে থাকেন।
সম্প্রতি মাসিমা তার ফ্ল্যাটের উইল তৈরি করেছেন আমাদের সাক্ষী রেখে। তাতে তিনি তার যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ও ফ্ল্যাটটিও তার অবর্তমানে কেয়্যারটেকার সুজয়ের নামে লিখে দিয়েছেন, যদিও সুজয় তা জানে না।
সে অবশ্য নিরলস ভাবে মাসিমার সেবা করে যাচ্ছে।কারন তার মা যখন মারা গেছিল সে তখন ছোট ছিল,মায়ের সেবা করতে পারেনি।এখন সেই শখ প্রাণপণে সেবা করে মিটিয়ে নিচ্ছে।
মাসিমা ইদানিং তাকেই নিজের ছেলে বলে পরিচয় দেয়।

Abhirup Maity

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভিরূপ মাইতি একজন প্রতিশ্রুতিবান সংবাদকর্মী। খবরের অন্তরালে থাকা সত্য অনুসন্ধান এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করাই তার লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

Share
Published by
Abhirup Maity

Recent Posts

Extra Marital Affair: পরকীয়ার ‘ভিডিও’ই কাল! দুই বউ থাকা সত্ত্বেও গোপন সম্পর্ক, পিংলায় গ্রেফতার!

অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…

৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার জাল নোট-‌সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র! চাঞ্চল্য মালদহে

লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-‌সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…

রাশিয়ায় স্পেশ‍্যাল অলিম্পিকসে ভারতের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হলেন অভিনেতা সোনু সুদ!

বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…

Gangrape & Murder: বিয়ের নয় পড়াশুনা করতে চেয়েছিল কিশোরী! বদলা নিতে ধর্ষণ করে কীটনাশক খাইয়ে খুন

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…

Boy save Train: সাত বছরের খুদে বাঁচিয়ে দিল দ ক্যানিং লোকাল!

বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…

Job: ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট! গোল্ড মেডেল শিকয়ে তুলে ডোম পদেই চাকরি চান স্বর্ণালী

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…