TRENDS

ডেবরায় খোলা মাঠেই কোয়ারেন্টাইনে করোনা আক্রান্ত! প্রশ্ন উঠছে গ্রামের সেফ হোম খুলবে কবে

Chandramani Saha

শশাঙ্ক প্রধান : প্রচন্ড গরমে মাঠের মধ্যেই চারফুট উঁচু তার্পোলিনের তলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে সঞ্জিত ভট্টাচার্যকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানার ডুঁয়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোলাই গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিতবাবুর করোনা ধরা পড়েছে দিন দশেক আগে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা পরামর্শ দিয়েছেন আলাদা ঘরে থাকতে কিন্তু ৮ সদস্যের পরিবারের ২ কামরার বাসিন্দা সঞ্জিতবাবুর বাড়িতে আলাদা থাকার মত ঘরই নেই তো হোম আইসোলেশনে থাকবেন কী করে? অগত্যা বাড়ি থেকে খানিকটা দুরে ফাঁকা মাঠ আর ঝোপঝাড়ের মধ্যে নিজেই একটা তার্পোলিন টাঙিয়ে রয়েছেন। এই প্রচন্ড গরমে চারফুট উচ্চতার ওই তার্পোলিনের তলায় সেদ্দ হওয়া ছাড়া আর বিকল্প কী?

সঞ্জিতবাবু জানিয়েছেন, করোনার ছোবল থেকে বৃদ্ধা মা আর দুই নাবালক সন্তান সহ পরিবারকে রক্ষা করার জন্যই আমাকে বাইরে থাকতে হচ্ছে। গরম তো আছেই তার সঙ্গে রয়েছে সাপখোপ পোকামাকড়ের ভয়ও কিন্তু কী করব? সঞ্জিতবাবুর স্ত্রী রুপালি জানিয়েছেন, ” আইআইটি খড়গপুরে বেসরকারি সংস্থার অধীনে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন তাঁর স্বামী। একদিন রাতে কর্তব্যরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়ায় ১মাসের জন্য সাসপেন্ড করে কোম্পানি কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানার পরই কোম্পানিকে জানিয়ে দেয় করোনা কালে কাউকে কাজ থেকে থেকে বসানো যাবেনা তাই ওকে ফের কাজে যোগ দিতে বলা হয়। তার আগে করোনা পরীক্ষা করার নিয়ম আছে। সেই পরীক্ষা করতে গিয়েই ধরা পড়ে করোনা। এরপর আইআইটি থেকেই ওষুধ দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।”

এদিকে দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে একমাত্র রোজগেরের সদস্যের এই অবস্থায় অথৈ জলে পড়েছে সংসার। নিজেদের দু’বেলা খাওয়ারের পাশাপাশি আক্রান্তের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য দরকার। রুপালি জানিয়েছেন, ১০দিন হল এই অবস্থাতেই রয়েছি। কোথাও কোনও সাহায্য নেই। স্থানীয় নেতাদের বলেছিলাম প্রাইমারি স্কুলটা খুলে দিতে। গতবারও করোনার সময় হামিরপুর প্রাথমিক স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হয়েছিল কিন্তু এবার সেটাও হয়নি। এই অবস্থায় কী করব আমরা?

সমস্যা অবশ্য শুধু ডেবরার নয়, সমস্যা সমস্ত গ্রাম এলাকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু হয়েছে গ্রাম। ডেবরাতো আছেই পাশাপাশি থানা এলাকাতেও ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে করোনার থাবা। যাঁদের বড় বাড়ি, সামর্থ্য রয়েছে তাঁরা না হয় আলাদা ঘরে থাকলেন কিন্তু যাঁদের আলাদা ব্যবস্থা নেই তাঁরা কোথায় থাকবেন?

সরকার বলেছে বটে স্কুলগুলো কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হবে কিন্তু এখনও সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ডুঁয়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উৎপল সুর বলেছেন, ” সরকারের কাছ থেকে স্কুলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার তেমন নির্দেশিকা আসেনি এখনও। আমরা বুধবারই (৮ দিন পরে)বিষয়টি জানতে পেরেই ত্রিপল, চাল ইত্যাদি পাঠিয়েছি।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join