TRENDS

করোনার কাছে হেরে গেলেন ভারতের প্রথম কোভিড কমাডেন্ট অনিল কোহলি, ৫২ বছরেই থেমে গেল যুদ্ধ, আক্রান্ত স্ত্রী ও চালক

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতে তিনিই প্রথম তৈরি করেছিলেন কমান্ডো বাহিনী। ২০ জন বাছাই করা পুলিশকর্মীকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই ‘কোভিড কম্যান্ডো’ বাহিনী। রাজ্যের নানা প্রান্তে ঘুরে সংক্রামিত রোগীদের খোঁজ করে র‍্যাপিড টেস্টের ব্যবস্থা করা ছিল এই টিমের কাজ। তা ছাড়া রাজ্যের নানা প্রান্তে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া আর তার পাশাপাশি লকডাউনের নিয়মরক্ষা, সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে টানা ১৫ দিনের লড়াই। কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা। শনিবার সেই করোনা কামড়েই মারা গেলেন হারালেন লুধিয়ানার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অনিল কোহলি। সম্ভবত তিনিই দেশের প্রথম আইপিএস আধিকারিক যাঁর কোভিড -১৯ য়ে মৃত্যু হল ।

পাঞ্জাব পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিন দশেক আগেই করোনার রিপোর্ট পজেটিভ হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপরেই চিকিৎসকেরা প্লাজমা থেরাপির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হল না। সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করেই কোহলি চলে গেলেন।  শনিবার লুধিয়ানার এস.পি.এস হাসপাতালে মৃত্যু হয় লুধিয়ানার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (এসিপি) অনিল কোহলি।দেশজুড়ে করোনা বিস্তার করার পর লুধিয়ানাকে ভাইরাস মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন এই পুলিশকর্তা। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সামনে থেকে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি। সংক্রামিত রোগীদের নিয়ে দিনরাত ছুটছিলেন। এর ফাঁকে নিজের শরীরের কখন যে করোনায় বাসা বাঁধে তা টের পাওয়া যায়নি ।  এরপরেই উপসর্গ দেখা দেয়। রিপোর্ট টেষ্ট করতেই ধরা পড়ে মরন ভাইরাসের। এরপরেই দিন দিন শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে শুরু করে। শনিবার বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৯০ সালে পঞ্জাব পুলিশে যোগ দেন অনিল কোহলি। বিভিন্ন সন্ত্রাস দমন অভিযানে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। করোনার সংক্রমণ দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরে, লুধিয়ানায় লকডাউন চালু করার কথা তিনিই প্রথম বলেন। নানা জায়গায় জমায়েত ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। লুধিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, এসিপিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন ডাক্তাররা। তাঁর শরীরে অন্য কোনও অসুখও ছিল না। তা সত্ত্বেও বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। শেষের ক’টা দিন শ্বাসের সমস্যা বাড়ায়, ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখতে হয়েছিল। তার মধ্যেই প্লাজমা থেরাপির জন্য মেডিক্যাল টিম তৈরি হয়েছিল। দাতাও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলনা।
আইপিএস অফিসার কোহলির স্ত্রীও একজন পুলিশ ইনসপেক্টর। পাঞ্জাব পুলিশের পরিভাষায় এস.এইচ.ও বা স্টেশন হাউস অফিসার। তিনিও করোনা পজিটিভ। তাঁদের গাড়ির চালক কনস্টেবলের শরীরেও কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। দু’জনকেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সম্ভবত কোহলির সংস্পর্শ থেকেই আক্রান্ত হয়েছেন এঁরা।

পাঞ্জাবের মূখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এক শোক প্রস্তাবে জানিয়েছেন, ” করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা এক সাহসী যোদ্ধাকে হারালাম। এ ক্ষতি অপূরণীয়। সরকার পরিবারের পাশে রয়েছে।” পাঞ্জাব পুলিশের মহা নির্দেশক দীপঙ্কর গুপ্তা জানিয়েছেন, ” আমার ভাই আমার সহযোদ্ধা অনিল গত ৩০বছর ধরে পাঞ্জাবের জনগনকে সেবা দিয়ে এসেছিল। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুন। আমরা তাঁর পরিবার, আত্মীয় ও যাঁরা তার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁদের সংগে রয়েছি।”

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join