TRENDS

মায়ের সহযোগিতা নিয়ে বাবা কে খুন, পিংলায় গ্রেপ্তার মা ও ছেলে

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: মায়ের সহযোগিতা নিয়ে বাবাকে গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে ছেলে এই অভিযোগে ছেলে ও মাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পিংলা থানার অন্তর্গত জামনা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার সাঁতই গ্রামের। বুধবার রাতেই সাঁতই গ্রামের বাড়ি থেকে ৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহের গলায় কালশিটে দাগ রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম দেবেন বেংরা।

নিতান্তই হতদরিদ্র একটি পরিবার, দিনমজুরিই পরিবারের একমাত্র সম্বল। ঘটনার পেছনে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তিনজনের মধ্যে উত্তপ্ত বচসা ও গন্ডগোলের ঘটনা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  জানা গেছে দিন মজুর ওই পরিবারের ১০০দিনের মজুরি বাবদ কিছু টাকা ব্যাঙ্কে জমা হয়েছিল। দেবেন বুধবার দিনের বেলায় পিংলায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে এক হাজার টাকা তুলে নিয়ে বাড়ি যায়। রাতে সেই টাকার মধ্যে থেকে ছেলেকে ২০ টাকা আর স্ত্রীকে ৫০ টাকা দেয়। মাত্র এই টাকা হাতে পেয়ে দুজনেই ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।

তারা দেবেনের কাছ থেকে আরও টাকা দাবি করে। প্রথমে বচসা শুরু হয় পরে ধস্তাধস্তি। মা ও ছেলে মিলে দেবেনের কাছ থেকে ওই টাকা জোর করে কেড়ে নিতে চায়। দেবেনও টাকা না দিতে মরিয়া হয়ে পড়ে। ধস্তাধস্তির জেরে দেবেন ছিটকে পড়ে বাড়ীর দেওয়ালে। ধাক্কা লেগে মাথা ফাটে দেবেনের। কিন্তু তাতেও দেবেনকে কাবু করতে পারেনি মা ও ছেলে। এরপর গলায় গামছা দিয়ে টেনে ধরে তাকে কাবু করার চেষ্টা করে ছেলে শামু বেংরা। আর তাতেই মৃত্যু হয় দেবেনের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ঘটনার সময় তিন জনই নেশাগ্রস্ত ছিল বলে জানা গেছে। সম্ভবত নেশার টাকা নিয়েই এই গন্ডগোলের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং মা ছেলেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুজনেই ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পিংলা থানার পুলিশ। দুজনকেই বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join