TRENDS

আইআইটি খড়গপুরের ৬৬তম সমাবর্তনে ভার্চুয়াল মোদি! হাসপাতালের নাম বদলের প্রতিবাদে রাস্তায় ‘আমরা বামপন্থী’

Chandramani Saha
আইআইটি খড়গপুরের ৬৬তম সমাবর্তনে ভার্চুয়াল মোদি! হাসপাতালের নাম বদলের প্রতিবাদে রাস্তায় 'আমরা বামপন্থী'
ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধনে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি,২০০৭

নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি আইআইটি -খড়গপুর (IIT-Kharagpur) সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নাম বদলের পর তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধনের সময় এই তখনকার প্রস্তাবিত হাসপাতালের নাম ছিল ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের নামে যার নাম বদল করে করা হয়েছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স এন্ড রিসার্চ।

মঙ্গলবার আইআইটি খড়গপুরের (IIT-Khargpur) ৬৬তম সমাবর্তনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমের সমাবর্তন সম্ভাষণ রাখার পাশাপাশি নাম পরিবর্তিত হাসপাতালটিরও উদ্বোধন করতে চলেছেন মোদি। আর এরই প্রতিবাদে ওই দিন IIT Kharagpur প্রবেশ দ্বারের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নামতে চলেছেন বলে জানালেন খড়গপুর শহরের ‘আমরা বামপন্থী’র এক সংগঠক ।

ওই সংগঠক জানিয়েছেন, ‘ বিধানচন্দ্র রায়ের নাম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একটি ইতিহাস মুছে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সেই ইতিহাস হল বিধান চন্দ্র রায়ের মত একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাত ধরে বাংলায় দেশের প্রথম আইআইটির প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে যে ইতিহাস তৈরির চেষ্টা হচ্ছে তা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর মত মানুষ যিনি ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে কোনও ভূমিকা তো দুরের কথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন ছাত্রদের ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন তাঁকে মহান বলে দেখানো। এরই প্রতিবাদে রাস্তায় নামছি আমরা।”

উল্লেখ্য এবছরের গোড়াতেই বলরামপুরে অবস্থিত এই সুপার স্পেশালিটি ও বহুমুখী গবেষণার সুযোগ সমৃদ্ধ হাসপাতালের আউটডোর চালু হয়েছে। ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রথম বর্ষের পঠন-পাঠন ২০২১-২২থেকেই চালু হয়ে যাবে এমনই আশা করা হচ্ছে।
এবারের এই ৬৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন মাননীয় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক এবং মন্ত্রী সঞ্জয় ধোত্রে। নেতাজি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যেখানে মাত্র ৭৫ ছাত্র ছাত্রী যাঁদের মধ্যে ৯জন স্বর্ণপদক ও বাকিরা রৌপ্যপদক পাচ্ছেন তাঁরাই উপস্থিত থাকছেন। বাকি ২৮০০জন সফল পড়ুয়াদের অনলাইনে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য আইআইটি একটি বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। http://iitkgp.ac.in/convocation/

এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিদায়ী পড়ুয়ারা উপস্থিত থাকতে পারছেননা বলে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করে আইআইটি খড়গপুর অধিকর্তা অধ্যাপক বীরেন্দ্র কুমার তিওয়ারি জানিয়েছেন, ‘এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এই সমাবর্তনের আয়োজন করতে হয়েছে। আমি আমার এই প্রাক্তনী দের অতৃপ্তির কথা অনুধাবন করতে পারছি। কিন্তু পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু পড়ুয়াদের মঙ্গলের জন্যই এই সিদ্ধান্ত। পরে অতিমারি পরিস্থিতি পেরিয়ে গেলে আমরা একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করব যেখানে এঁদের সবার মিলিত হওয়ার এই গৌরবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাম্মানিক ডিগ্রি প্রদান, আইআইটি খড়্গপুরের আজীবন ফেলোশিপ সম্মানের পাশাপাশি ২৭জন প্রাক্তনীকে তাঁদের গবেষণা, সমাজে অবদান ইত্যাদির জন্য সম্মানিত প্রাক্তনী উপাধিতে ভূষিত করা হবে। এছাড়া বিশেষ ভাবে সম্বর্ধিত করা হবে মার্কিন প্রবাসী সম্মানীয় প্রাক্তনী বিনোদ গুপ্তা, রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ মহারাজ, দিল্লি এইমসের অধিকর্তা ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া এবং ডঃ এলাত্তুবালাপিল শ্রীধরনকে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশনের প্রাক্তন অধিকর্তা ও মেট্রোম্যান বলে পরিচিত। এছাড়াও থাকছে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মান প্রদর্শন যা দেওয়া হবে দেশে বিশিষ্ট অবদানের জন্য যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদেরকে।

এসবের মধ্যেই খড়গপুর শহরে আইআইটি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভেরও মুখোমুখি হতে হবে যা একটি বিরল ঘটনা। কৌশল গত কারনে কখন কিভাবে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে তা পরিষ্কার করে জানাতে চাননি ‘আমরা বামপন্থী’র সদস্যরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর সমাবর্তন ভাষণের সময়টিকেই তাঁরা বেছে নিতে পারেন এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ইতিমধ্যেই এই নাম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস ও বাম দলগুলি। তাঁরাও জানিয়ে দিয়েছেন এর প্রতিবাদে ভবিষ্যতে বড়সড় আন্দোলনে নামার।

 

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join