নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারের তথ্য আর প্রকৃত বাস্তব কী একই কথা বলে? রাজ্য যখন ১০০দিনের কাজে দেশের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্সের দাবিদার, যখন সরকারের পক্ষ থেকে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে যাওয়ার স্রোত অব্যাহত। আর সেই ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে অব্যাহত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও। শনিবার সেই মৃত্যূ তালিকায় জুড়ে গেল আরও ৩শ্রমিকের নাম, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বাংলার আরও এক শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ে লোয়ার প্যারেল এলাকায়। জানা গেছে প্রবল বিপর্যস্ত ওই এলাকায় নির্মীয়মান বহুতলে কাজ করার ছিটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ৩ শ্রমিকের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আরও ৪ জন। তাঁরা সকলেই মুর্শিদাবাদের কান্দিতে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে মৃতের পরিবার গুলি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে টানা লকডাউনে মারাত্মক সঙ্কটের মুখে ওই পরিবারগুলি। প্রায় খাদের কিনারে অর্থনৈতিক অবস্থা। সংসারের কচিকাঁচা থেকে বৃদ্ধ বৃদ্ধার মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ছে। তাই লক ডাউন কিছুটা শিথিল হতেই পেটের টানে পরিবার ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের ৪ পরিযায়ী শ্রমিক। ঠিকাদারের কাছ থেকে বার্তা পেয়েই যোগ দিয়েছিলেন নির্মাণ শ্রমিকের কাজে। কাজ চলছিল মুম্বইয়ের লোয়ার প্যারেল এলাকার হনুমান গলিতে একটি বহুতল নির্মাণের। যেখানে ওই চারজন সহ কাজ করছিলেন ৯ শ্রমিক। প্রবল বৃষ্টিতে শনিবার হঠাৎই খুলে ছিটকে যায় বহুতলের একটি লিফট। উঁচু থেকে ছিটকে পড়েন ওই শ্রমিকরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচজনের। তাঁদের মধ্যে তিনজন এ রাজ্যের বাসিন্দা। বাকি দুজন কর্ণাটকের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাকি ৪ জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। জখম শ্রমিকদের মধ্যে এক জন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা।
মুম্বাই পুলিশের এন.এম জোশি মার্গ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ললিতাম্বিকা বিল্ডার্সের আওতাধীন একটি ২০তলা ভবনে কাজ চলার সময় বিকাল ৫.৪৫নাগাদ। ভবনটির ২টি টাওয়ারের সংযোগ স্থলে একটি লিফট ছিটকে পড়ে প্রবল বর্ষণে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত তিন শ্রমিকই মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানা এলাকার গড্ডা গ্রামের বাসিন্দা। গড্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভুলি বেগম জানিয়েছেন, “রাত ন’টা নাগাদ পুলিশ সূত্রে খবর আসে গড্ডা গ্রামের তারক মণ্ডল (৩৫), অভিনাথ দাস (৩২), চিন্ময় কোনাই (৩০) নামে তিন পরিযায়ী শ্রমিকে মৃত্যু হয়েছে। লক্ষণ মণ্ডল নামে অপর এক পরিযায়ী শ্রমিক গুরুতর আহত। সকলেই মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করতেন। ওখানেই দুর্ঘটনা ঘটে।” দুর্ঘটনার খবর আসার পর স্বাভাবিকভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে কান্দির গড্ডা গ্রামের অসহায় পরিবারগুলি।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন যোগাযোগ করেছে রাজ্য মারফৎ মুম্বাই পুলিশের সাথে। দেহগুলি কী ভাবে ফেরত আনা যায় সেই নিয়ে কথাবার্তা চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাস দিয়েছে সরকারের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে। উল্লেখ্য ঘটনাস্থলেই মৃত্যূ হয়েছে ৫জনের। ২জন কর্নটাকের হলেও রাত অবধি শনাক্ত করা যায়নি। বাংলার অপর শ্রমিক লক্ষণ মন্ডলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…