নিজস্ব সংবাদদাতা: সাদা কাগজের ওপর লাল কালিতে হাতে লেখা ‘ 15 আগস্ট কালা দিবস পালন করুন’ নিচে লেখা C.P.I(মাওবাদী)। ঘটনাস্থল ঝাড়গ্রাম জেলার সেই বেলপাহাড়ী। আরও নিখুঁত ভাবে বলতে গেলে সেই বলতে হয় সেই ভুলাভেদা। বেলপাহাড়ী সদর থেকে ১০কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম কিংবা ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাঁকড়াঝোর থেকে ১৬কিলোমিটার পূর্বের ছোট্ট জনপদ ভুলাভেদা।
ভুলাভেদা প্রতীক্ষালয়, বাঁকশোলের ঢালাই রাস্তার প্রকল্পের সাইনবোর্ড,এক ব্যক্তির বাড়ির দরজা ও দেওয়াল জুড়ে একই ধরনের কাগজে, প্রায় একই হাতের লেখায় আলতা দিয়ে লেখা একটি আহবান ১৫ আগস্ট কালা দিবস পালন করুন। কখনও পনের সংখ্যাটি ইংরেজিতে আবার কখনও বাংলায় লেখা। দশক আগে এটাই ছিল ১৪ই আগস্ট রাতে অথবা ১৫ই আগস্ট ভোরের পরিচিত ছবি।
পুলিশ জানিয়েছে খতিয়ে দেখছে তারা। ইতিমধ্যেই নিজস্ব সূত্র মারফৎ খোঁজ খবর শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনা হল, মধ্যবর্তী আট বছরে মাওবাদীদের নাম করে বিচ্ছিন্ন কিছু পোস্টার পড়লেও গা করেনি পুলিশ। কারও ভয় দেখানোর চেষ্টা কিংবা অন্য কিছু বলে উড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু এবার পুলিশ খতিয়ে দেখছে! খতিয়ে দেখছে এই কারনে যে জায়গাটা বেলপাহাড়ী, জায়গাটা ভুলাভেদা আর দিনটা ১৫ই আগস্ট। খতিয়ে দেখছে কারও দুস্টুমি করে হেলাফেলায় লাগিয়ে দেওয়া এক আধটা পোস্টার নয়, পোস্টার পড়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি, মুড়ি মুড়কির মত। বিচ্ছিন্ন নয়, সংগঠিত কাজ।
পোস্টারের সাথে সাথে একটা কথাও ছড়িয়েছে যে এই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে পচাপানি গ্রামের তিন ভিন্ন ভিন্ন পেশার ব্যক্তির কাছে তোলা চেয়েছে মাওবাদীরা। রটেছে ২৯শে জুলাইয়ের মধ্যেই সেই তোলা দেওয়ার কথা ছিল। নচেৎ মেরে ফেলার হুমকি।
এটা সত্যি কিনা গুজব বোঝার উপায় নেই। পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ নেই। পুলিশ স্বীকারও করেনি এমন কিছু ঘটেছে বলে। যদিও এসব অভিযোগ কেউ করেও না। ২৯শে জুলাই পেরিয়ে গেছে। কেউ মারা যাননি! হতে পারে গুজব, হতে পারে তোলা পেয়ে গেছে মাওবাদীরা। কিন্তু সব কিছু মিলিয়ে ভুলাভেদাবাসী যেটা বুঝতে পারছেন কিছু একটা হচ্ছে যার মধ্যে পুরানো গন্ধ ভাসছে।
ভুলাভেদা! একসময় এই অঞ্চলের দাপুটে মাওবাদী সশস্ত্র স্কোয়াডের নেত্রী জাগরী বাস্কে সহ একাধিক মাওবাদী নেতা এখন সরকারের ঘরে হোমগার্ড বা সিভিক পুলিশ কিংবা অন্য চাকরি নিয়েছেন আত্মসমর্পনের পরে। মাওবাদীদের সামনের বাহিনী হিসাবে থাকা জনসাধারণের কমিটির বেশিরভাগ নেতা কর্মী এখন তৃনমূল হয়ে গেছে। যার হাল আমলের সংযোজন ছত্রধর মাহাত। কিন্তু যে দুজনের টিকি পুলিশ ছুঁতে পারেনি তাঁরা হল মদন মাহাত ও জবা মাহাত। শোনা ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে ঘাটশিলা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল তারা। তারাই কী সক্রিয় এবার?
যদি পোস্টার সত্যি সত্যি মাওবাদীরা দিয়ে থাকে তবে বুঝতে হবে সত্যি এলাকায় ঘুরছে ফিরছে তারা। ২০০৮ এ শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী মাওবাদী অধ্যায় চূড়ান্ত মাত্রা পেল ২০১০য়ে। যা ২০১১তে তথাকথিত পরিবর্তনের মুখ দেখিয়েছিল জঙ্গলমহলকে। ২০২১ য়ের আগে ২০২০ কী তেমনই কিছু করতে চাইছে? এক দশকের মাথায় ফের প্রশ্নটা মাথা চাড়া দিচ্ছে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…